ইসরাইলি বর্বরতা যুদ্ধাপরাধ

বৈচিত্র ডেস্ক :  গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে ইসরাইলি হত্যাকাণ্ড মানবাধিকারের সর্বোচ্চ লঙ্ঘন। সেখানে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের যে ঘটনা ঘটছে, তা যুদ্ধাপরাধ বলে জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস উদ্বোধনের সময়ে গাজায় বিক্ষোভে ইসরাইলে সেনাদের গুলিতে ৫৫ জন নিরপরাধ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে দুই হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি আহত হন।

২০১৪ সালে গাজা যুদ্ধের পর এটিকে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইসরাইলি স্নাইপাররা আটটি শিশুকেও নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে। যাদের বয়স ১৬ বছরের নিচে।

শুক্রবার ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে হাজার হাজার লোক অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন ইসরাইলি সীমান্ত বেড়া অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিলেন।

অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক গবেষণা এবং অ্যাডভোকেসিপ্রধান ফিলিপ লুথার বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এই রক্তক্ষয়ী হামলা মানবাধিকারের ঘৃণ্য লঙ্ঘন। অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে ইসরাইলি বাহিনীর তাজা গুলির ব্যবহার ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের আরেকটি ভয়াবহ ঘটনার উদহারণ এটি।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচও এই হত্যাকাণ্ডকে ‘রক্তগোছল’ আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মঘারিনি সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসরাইলের গুলিতে শিশুসহ কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হন আরও শত শত। আমরা প্রত্যাশা করছি, জীবনের ক্ষয় এড়াতে সর্বোচ্চ সংযমের সঙ্গে সবাই কাজ করবেন।

নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সশস্ত্র বাহিনীর সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহর সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এ নিন্দা জানান।

জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরেরও সমালোচনা করেন তিনি।

শান্তি চেষ্টা সফল করতে বিপর্যয়কর কার্যক্রম এড়িয়ে যেতে সবাইকে ধৈর্য ও সংযম অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের বিরুদ্ধে রাশিয়া প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়েছে।

হতাহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক, গণমাধ্যম ও শিশুও আছে, যা অমার্জনীয় বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড।

কুয়েত জাতিসংঘের জরুরি বৈঠকের ডাক দিলেও ভেটো ক্ষমতার অধিকারী যুক্তরাষ্ট্র তা আটকে দিয়েছে। জাতিসংঘে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত মানসুর আল ওতাবি বলেন, যা ঘটেছে, আমরা তার নিন্দা জানাচ্ছি।

নিহতদের শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করে এই বর্বরতার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মিসরের আল আজহারের গ্রান্ড ইমাম আহমেদ আল তাইয়েব নিরাপত্তাহীন ফিলিস্তিনিদের পাশে আরব, মুসলিম ও পৃথিবীর যুক্তিসম্পন্ন মানুষকে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর নির্বিচার গুলির নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব।

ইরান এটিকে লজ্জার দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। টুইটারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত কারাগার গাজায় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করছে ইসরাইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *