যৌনসন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে প্রতীকী অবস্থান

বৈচিত্র রিপোর্ট :  বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষ্যে ‘নিরাপদে থাকুক সকল মা, বোন ও জীবনসঙ্গিনী’ স্লোগান নিয়ে যৌন-সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কর্মসূচিটি যৌথভাবে পালন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন এলআরবি ফাউন্ডেশন, অরুনোদয়ের তরুণ দল এবং স্বচ্ছ ফাউন্ডেশন। সোমবার বেলা ১১ টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

এ সময় সংগঠনত্রয়ের সদস্যগণ ভয়ংকর মুখোশ ও বিকট আলখেল্লা পরিধান করে, মেয়ে চুল দিয়ে মুখ ঢেকে রুপকধর্মী অবস্থান নিয়ে যৌন হয়রানি, নিপীড়ন ও ধর্ষণের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করে।

এলআরবি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা রাজিয়া শিলা বলেন, যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা বর্তমানে বেড়েই চলেছে। গণধর্ষণ, ধর্ষণ, নারীকে উত্ত্যক্ত করা, যৌন হয়রানি, নির্যাতন, হত্যা ও সালিসের মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ভয়াবহ ভাবে বেড়ে চলেছে । যার ফলে নারী ও শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে যে শুভ পরিবর্তন ঘটেছে, তার সিংহভাগ কৃতিত্ব নারীর। বাণিজ্যিক ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীর স্ব স্ব ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন। এমন মুহূর্তে যৌন হয়রানি, নিপীড়ন, ধর্ষণ প্রভৃতি নারীকে পিছিয়ে ফেলার মাধ্যমে উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। আমাদের সামাজিক অবক্ষয় এর জন্য দায়ী। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে আগের মামলাগুলোর কোনো সুরাহা না হওয়া, আইন শৃংখলা বাহিনীর গাফিলতিতেও ধর্ষণের পরিমাণ বাড়ছে।

অরুনোদয়ের তরুণ দলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবু বলেন, অপসংস্কৃতি, সামাজিক অবক্ষয়, পারস্পরিক সম্মানবোধের অভাব, পর্ণোগ্রাফির সহজলভ্যতার কারণে, পূর্বে দায়ের হওয়া যৌন হয়রানি-ধর্ষণ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়াসহ নানা কারনে বিকৃত মস্তিস্কের গুটি কয়েকজন পুরুষরুপী পশুর যৌন লালসার শিকার হয়ে নিগৃহীত, অপমানিত ও হত্যার শিকার হচ্ছে কারও মা, বোন অথবা জীবনসঙ্গিনী । কখনও কখনও সুষ্ঠ বিচার না পাওয়ায়, পরবর্তীতে সামাজিক মর্যাদা প্রাপ্তির অভাবে আত্মহত্যাকে বেঁচে নিচ্ছে তারা।

স্বচ্ছ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুমন শেখ উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে ৭২৪ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন। এর মধ্যে ধর্ষণের পর ৩৭ জনকে হত্যা করা হয় এবং ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেন ৮ জন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে যৌন নির্যাতন ও বখাটের উত্ত্যক্তের শিকার হন ২৪৪ জন। এর মধ্যে ৬ জন নারী আত্মহত্যা করেন। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় খুন হন ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ। বখাটেদের প্রতিবাদ করায় লাঞ্ছিত হয়েছেন ১৩৮ জন। স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে পাঁচ ছাত্রীর। শিশুর প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, উত্ত্যক্তকরণসহ ১ হাজার ৩৪ টি ঘটনা ঘটে এবং মামলা হয় ২৬০টি। আমরা প্রতিনিয়ত যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, ইভটিজিং প্রভৃতির হার বৃদ্ধি দেখতে চাই না। যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, ইভটিজিং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বাইরে নয়। যারা এসকল নিকৃষ্ট কাজে নিয়োজিত তারা যৌনসন্ত্রাসী।

যৌনসন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সংগঠনসমুহ ৬ দফা দাবি তুলে ধরে:
১. ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড এবং যৌন নিপীড়কের কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘যৌনসন্ত্রাস নির্মূল আইন’ প্রনয়ন করতে হবে।
২. মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় অথবা কোন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যৌনসন্ত্রাস বিরোধী কমিটি গঠন করে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে ৩. ভুক্তভোগী নয়, অভিযুক্তকে নির্দোষ প্রমানের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি এবং অভিযুক্তকে জনসম্মুখে প্রকাশের নীতি করতে হবে

৪. ধর্ষণ-যৌন হয়রানি সংক্রান্ত সকল প্রকার অভিযোগ ও মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে ৫. পর্ণোগ্রাফি ও যৌন উত্তেজক সামগ্রীর সহজলভ্যতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ৬. ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত মিথ্যা অভিযোগকারীকেও শাস্তি প্রদান করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *