শাড়িতে নারীর উৎসব

বৈচিত্র রিপোর্ট : ধর্মীয় কিংবা জাতীয় যে কোনো উৎসবে বাঙালি নারীর সঙ্গে শাড়িও যেন সেজে ওঠে। উৎসবকে কেন্দ্র করে ডিজাইনারদের নকশা করা বাহারি রঙের শাড়ি যখন নারীদের শরীরকে ফুটিয়ে তোলে তখনই সম্ভবত শাড়ির সার্থকতা সৃষ্টি হয়। আর এ জন্যই বলা হয় শাড়ি এবং বাঙালি নারী একই সুতোয় গাঁথা। আর এ কারণেই ঈদকে সামনে রেখে কুমিল্লার বিপণিবিতানের শাড়ি দোকানগুলো সেজে উঠেছে বৈচিত্র্যময় শাড়ির সম্ভার নিয়ে। শাড়ি কিনতে শুক্রবার নগরীর অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় করেছিলেন তরুণী-গৃহিণী মিলিয়ে সব বয়সী নারীরা।

কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ে অবস্থিত সাত্তার খান কমপ্লেক্সের প্রথম ফ্লোরে পরব অভিজাত বস্ত্র বিতান থেকে ১৬শ’ টাকা দিয়ে নিজের জন্য একটি হাফ সিল্কের শাড়ি কিনেছেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা নওরিন হক। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, বিয়ে হোক কিংবা অফিস পার্টি বা ঈদ যে কোনো আয়োজনে শাড়ি ছাড়া চলেই না। অন্য কোনো পোশাকে এতটা মানিয়ে নিতে পারি না, যতটা সহজে মানিয়ে নিতে পারি শাড়িতে। এদিকে সামনে ঈদ তাই নিজের শাশুড়ি এবং মায়ের জন্য দুটি জামদানি শাড়ি কিনেছেন তিনি। রং ও ডিজাইনগুলোর সঙ্গে দামের দারুণ সমন্বয় হয়েছে বলে তৃপ্তির হাসি দেখা গেল সদ্য বিবাহিত ওই ব্যাংক কর্মকর্তা নওরিন হকের ঠোঁটে।

মনোহরপুরের প্রাইডের শাড়ির দোকানে গিয়ে দেখা যায় প্রচণ্ড ভিড়। মধ্যবিত্ত সংসারের নারীদের আনাগোনা লক্ষ করা গেল। প্রিন্টের শাড়ির চাহিদা বেশি থাকার কারণ দাম সাধ্যের মধ্যে। ফিক্সড দাম ৫শ’ থেকে ১৫শ’ টাকার শাড়ি বেশ বাহারি ডিজাইন এবং রুচিসম্মত বলে ক্রেতাদের ভিড় বেশি।

সাধ্যের মধ্যে বলে দুটি প্রাইডের শাড়ি কিনেছেন লাকি রহমান। একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক। স্বামীও শিক্ষকতা করেন। দু’জনে মিলে নিজেদের মা-শাশুড়ির জন্য দুটি প্রাইডের শাড়ি কিনেছেন ১ হাজার টাকা দিয়ে। আবদুর রহমান ও লাকি রহমান দম্পতি জানান, সীমিত আয়ের সংসারে সাধ্যের মধ্যে যে দু’জন মুরব্বির জন্য দুটি শাড়ি কাপড় কিনতে পেরেছি খুব ভালো লাগছে। তারা আরো জানান, এ বয়সের নারীদের জন্য শাড়ির বিকল্প আর অন্য পোশাক হতে পারে না।

তবে তরুণী-চাকরিজীবী কিংবা সদ্য বিবাহিতদের কাছে প্রিন্টের সঙ্গে জামদানি, টাঙ্গাইল, সিল্ক, হাফ সিল্ক, সুতি এবং তাঁতের শাড়ির চাহিদাই বেশি বলে জানালেন নগরীর রেসকোর্সের ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজার পল্লীমা শাড়ি দোকানের স্বত্বাধিকারী রেজাউল ইসলাম খান। তিনি জানান, এ বছর গৎবাঁধা কোনো ব্র্যান্ডের শাড়ির প্রতি নারীদের ঝোঁক নেই। মূলত অনুষ্ঠান উপযোগী এবং আরামদায়ক শাড়িই খুঁজেন সব বয়সী নারীরা।

এদিকে বাজারে দেশি না ভারতীয় শাড়ির আধিক্য বেশি এমন বিষয়ে অন্তত নগরীর অভিজাত বিপণিবিতানের ১০ জন শাড়ি বিক্রেতা জানালেন- দেশীয় প্রিন্টের শাড়ির সঙ্গে টাঙ্গাইলের জামদানি, রাজশাহীর সিল্ক ও হাফসিল্কের কদর অনেক বেশি। বলা যায় বিদেশি শাড়ির তুলনায় দেশীয় শাড়ির আবেদন সবচেয়ে বেশি।

অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর দেশীয় শাড়ির জনপ্রিয়তা বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে পরব অভিজাত বস্ত্র বিতানের স্বত্বাধিকারী বাহারুল হক জানান, অনলাইন নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে শাড়ি বিকিকিনি করলেও মূলত রং-ডিজাইন এবং গুণগত মানে আমাদের দোকানের শাড়িগুলোর মতো হয় না। অনলাইনে শাড়ি কিনে অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে ক্রেতারা এখন ক্যাটালগে দেখে নিজেরা হাতে পরখ করে জেনেশুনে দর কষাকষির মাধ্যমে শাড়ি কিনছেন। আর এ জন্যই এ বছর শাড়ির চাহিদা একটু বেশি।

বেচাকেনা কেমন হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে নগরীর ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজার দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম ভূঁইয়া জানান, আগামীকাল রোববার (আজ) বেতন বোনাস হবে হয়তো। তারপর থেকে আশা করছি পুরোদমে বেচাকেনা বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *