বাজেট পাসের আগেই বেড়েছে চালের দাম

বৈচিত্র রিপোর্ট  :  আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে চাল আমদানির ওপর ২৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম দিন থেকে এ প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার কথা। যদিও জাতীয় সংসদে এ প্রস্তাব অনুমোদিত হতে হবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার আগেই খুচরা বাজারে সবধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ টাকা। পাইকারি ও মিলপর্যায়ে দাম বৃদ্ধির পরিমাণ যথাক্রমে তিন ও দুই টাকা। অসাধু ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বাজেট প্রস্তাবের সাথে সাথেই দাম বাড়িয়ে দেয়ার এমন অনৈতিকতার বিরুদ্ধে সরকারের কোনো ভূমিকা না দেখে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, চাল আমদানির ওপর বরাবরই ২৮ শতাংশ শুল্ক ছিল। গত বছর আগাম বন্যায় সিলেটের হওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানির ঘটনায় বাজারে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাময়িকভাবে চালের আমদানি শুল্ক কমিয়ে প্রথমে ১০ শতাংশ এবং একপর্যায়ে পুরোপুরি শুল্কমুক্ত করা হয়। তাতেও চালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে না কমলেও কিছুটা সহনীয় হয়ে আসে। ৫৫ টাকা থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে ৭২ টাকায় উঠে যাওয়া সরু চালের দাম শেষ পর্যন্ত ৬৮ থেকে ৬০ টাকায় দাঁড়ায়। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে প্রত্যাহার করা আমদানি শুল্ক পুনর্বহালের প্রস্তাব করার চালের দাম আবার বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। যদিও প্রস্তাবিত বাজেট কার্যকর হতে আরো অনেক সময় এবং প্রক্রিয়া বাকি।

রাজধানীর ঢাকার কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি চালের দাম চার থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। পাকারি বাজারে দাম বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা দাম বাড়িয়েছেন মিল মালিকেরা। এর অর্থ দাঁড়ায় মিল মালিকেরা দাম যা বাড়িয়েছেন পাইকারি আড়তদাররা বাড়িয়েছেন তার চেয়ে বেশি। খুচরা বিক্রেতারা বাড়িয়েছেন পাইকারদের চেয়েও বেশি। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো, শুল্কমুক্ত উপায়ে আমদানি করে মজুদ রাখা লাখ লাখ টন চালের দাম আমদানিকারকেরা কোনো কারণ ছাড়াই বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সুযোগে মিল মালিকেরাও দেশী চালের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ যে কৃষকের স্বার্থের কথা ভেবে চাল আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে তাদের ঘরে কোনো ধান নেই। ধান চলে গেছে মধ্যস্বত্বভোগী এবং মিল মালিকদের নিয়ন্ত্রণে।

খুচরা বাজারে গতকাল প্রতি কেজি সরু চাল বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৬৪ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এ মানের চালের দাম ছিল ৫৬ থেকে ৬০ টাকা। ৪০ টাকার মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায়। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, কয়েক দিনের মধ্যে চালের দাম আরো বাড়বে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত শুল্কহার যদি জাতীয় সংসদ অনুমোদন করে তবে চালের দাম আরো আস্বাভাবিক হয়ে উঠবে। কারণ হিসেবে তাদের যুক্তি, দেশে যে পরিমাণ চাল মজুদ আছে তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। তা ছাড়া চালের চাহিদা ও জোগানসংক্রান্ত সরকারি পরিসংখ্যানও সঠিক নয় বলে সংশ্লিষ্টদের অনুমান।
চাল আমদানির ওপর বরাবরই ২৮ শতাংশ শুল্ক ছিল মন্তব্য করে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, গত বছর হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যার কারণে আমাদের ফসলহানি হয়েছিল। তখন আমাদের বাইরে থেকে চাল আমদানির প্রয়োজন ছিল। তখন শুল্ক উঠিয়ে দেয়ায় বাইরের থেকে চাল এসে বাজার স্থিতিশীল হয়। তার দাবি, এ বছর দেশে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই আর চাল আমদানির প্রয়োজন নেই। তা ছাড়া এখনো তো বাজেট কার্যকর হয়নি। এখনই চালের দাম বাড়ার কী কারণ থাকতে পারে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *