খালেদা জিয়ার মামলার পেপারবুকে অনেক তথ্যই নেই : আইনজীবী

বৈচিত্র ডেস্ক : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পেপারবুকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি ও কাগজ সরবরাহ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ মামলায় নিম্নআদালতের দেয়া সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে।

বেলা ১১টায় শুনানি শুরুর আগে এক আবেদনে পেপারবুকের বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী।

এ আবেদনের বিষয়ে আদালত জানান, আগামী ১৫ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন বিষয়টি আসবে। পরে আপিলের শুনানি শুরু হয়।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট আবদুর রেজ্জাক খান, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।

দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী আদালতকে বলেন, পেপারবুকে অনেক তথ্যই নেই। গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি ও কাগজ পেপারবুকে সরবরাহ করা হয়নি বলে আমরা মনে করছি। তাই ওইসব নথি ও কাগজ যুক্ত করে একটি সম্পূরক পেপারবুক সরবরাহের আবেদন করছি। আগে এ আবেদনের নিষ্পত্তি করুন।’ এর পর আদালত বলেন, আবেদনটি পরবর্তী কার্যদিবসে (১৫ জুলাই) আসবে। আজ শুনানি শুরু করুন। তখন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানও আজই শুনানি শুরুর আবেদন জানান।

এর পর খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান পেপারবুক থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার এফআইআর ও চার্জশিট অংশ পড়া শুরু করেন।

পরে এ মামলায় খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে করা আপিলের শুনানি ১৫ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত মুলতবি করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জানিয়েছেন, গত ২৫ মে তাদেরকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার প্রায় ১২ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক সরবরাহ করা হয়েছে। তবে এ পেপারবুকে মামলার দরকারি কিছু নথি সরবরাহ করা হয়নি।

তাদের ধারণা, হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে অথবা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে নথিগুলো পেপারবুকে সংযুক্ত করা হয়নি।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিন আবেদনের পর খালেদা জিয়াকে ১২ মার্চ চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পর গত ১৬ মে তা বহাল রেখে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চতর আদালত।

পরে খালেদা জিয়া ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল মামলার নিষ্পত্তিতে আপিল বিভাগের আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করেন। এ আবেদনের পর গত ৫ জুলাই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ৯ জুলাই শুনানির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন। সে অনুসারে সোমবার এ আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

এ মামলায় ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ তিনজন কারাবন্দি। বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি দুজন হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।

পলাতক তিনজন হলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান মামলাটিতে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে রায়ের সার্টিফায়েড কপি বা অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি তারা এ আবেদন করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ এবং অর্থদণ্ড স্থগিত করে নথি তলব করেন।

এর পর ৭ মার্চ অপর আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। ১০ মে আরেক আসামি শরফুদ্দিনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *