দায় নিতে হবে অনেককেই

এ কে এম শাহনাওয়াজ : দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনা এতটাই নৈমিত্তিক হয়ে গেছে যে, রেডিওতে এখন একটি নির্ধারিত আইটেম হিসেবে প্রতিদিন দুর্ঘটনার খবর শোনানো হয়। প্রতিদিন কান পেতে শুধু শুনতে হবে, গত দিনের তুলনায় আজ দুর্ঘটনার সংখ্যা কতটা বেশি বা সৌভাগ্যক্রমে একটু কমেছে।

একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশে এবং যে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে বলে প্রতিদিন আমরা জানতে পারি- শুনতে পাই সে দেশে লাগামহীনভাবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। কোনো কোনো দুর্ঘটনা পড়ছে খুনের সংজ্ঞায়। এ অরাজকতা থামানোর যেন কেউ নেই। ফলে পাশাপাশি চলা ‘উন্নয়ন’ এবং ‘অরাজকতা’ দুটো একসঙ্গে মেনে নেয়া মানুষের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে।

বছরজুড়েই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত নিহতের সংখ্যা কেবল বেড়েই চলেছে। এসব ঘটনার ফলাফল মর্মান্তিক। প্রতিটি ঘটনার পরপরই মনে হয়েছে, এবার বুঝি সংশ্লিষ্টদের টনক নড়বে। কিন্তু ফিটনেসবিহীন গাড়ি দাপটের সঙ্গেই রাজপথে চলছে।

নাবালক ছেলেরা ড্রাইভারের আসনে বসে গাড়ি চালাচ্ছে। সঠিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই সিংহভাগ ড্রাইভার রাজপথে গাড়ি চালাতে পারছে। কোনো নিয়ন্ত্রক বা অভিভাবক নেই। এরই ধারাবাহিকতায় বহুল আলোচিত দুই লক্কড় ঝক্কড় বাসের স্টিয়ারিংয়ে বসেছিলেন যে চালক তার পকেটে নাকি ছিল মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স।

ফলে বাসটির ব্রেক, একসেলেটর আর স্টিয়ারিং কথা শুনবে কেন? একদল ছাত্রছাত্রীর ওপর আছড়ে পড়ল বাসটি। এর ক’দিন আগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করল একটি বাসের ড্রাইভার-হেল্পার। তবুও এদের কিছু বলা যাবে না। বললে সড়ক অচল করে দেবে। মন্ত্রী কাম শ্রমিক নেতা ওদের মাথায় প্রশ্রয়ের ছাতা মেলে ধরবেন।

বিমানবন্দর সড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর রাজধানীর বিভিন্ন অংশের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছে। পুলিশি ব্যবস্থাপনায় নিরাশ হয়ে কিশোর-কিশোরীরা রাস্তায় নেমে ট্রাফিক শৃঙ্খলা আনায় ভূমিকা রাখছে। তারা গাড়ির শৃঙ্খলা তৈরি করে দেখিয়েছে ইচ্ছা আর সততা থাকলে অনেক কিছুকেই সম্ভব করা যায়। লাইসেন্স আর কাগজপত্র পরীক্ষা করে ওরা দেখিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্ববান নাগরিকরা অবলীলায় অন্যায় করে যাচ্ছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় নির্দয়-অতিকথক দায়িত্ববানরা সুর কিছুটা নরম করেছেন। দুঃখ প্রকাশ করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। ঠাণ্ডা মাথায় তিনি প্রতিবাদে থাকা শিক্ষার্থীদের নানাভাবে বুঝিয়েছেন। ওদের সেন্টিমেন্টকে সমর্থনও করেছেন। আবার হালকা হুমকিও দিয়েছেন। এরপর কোনো বিপত্তি ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো দায় নেবে না তাও জানিয়েছেন। শুনে দুর্বোধ্য মনে হল। বুঝতে পারলাম না জনগণের টাকায় প্রতিপালিত পুলিশ জনগণকে রক্ষার দায় নেবে না এ তো অদ্ভুত কথা!

অবশ্য কোটা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাচ্চাদের প্রতিবাদ আন্দোলনে সরকার যখন মনে করে বেকায়দায় পড়েছে তখন বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র থিউরি প্রচার করে। এটি তো স্বাভাবিক-ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন। দমন নীতিতে থামাতে গেলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সেখানে ঢুকে সুবিধা নিতে চাইবেই। তাই বলে আন্দোলনটিকে কলঙ্কিত করা বুদ্ধিদীপ্ত কাজ হতে পারে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দিয়ে পিটিয়ে কোটা আন্দোলন থামিয়ে দিয়েছে বলে যদি কেউ সুখের ঢেঁকুর তোলে তবে একে দিবাস্বপ্নই বলব। প্রসঙ্গটি এলো এ জন্য যে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় একই সরকারি সুরে জানালেন প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ছাত্রদল-শিবির ঢুকে গেছে। তাই কোমলমতি শিশুকিশোররা নিরাপদ নয়। কথাটি ফলেও গেল।

টিভিতে দেখলাম মিরপুরে ওভারব্রিজের ওপর লাঠি হাতে এসব সন্ত্রাসী (অনেকের দাবি ছবি দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে এরা নাকি ছাত্রলীগ) বাচ্চাদের পেটাচ্ছে। ৩ আগস্টের একটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় একটি ঝকঝকে ছবি ছাপা হয়েছে। আগে পেছনে পুলিশ মাঝখানে লাঠি হাতে এসব কথিত ‘ছাত্রদল-শিবির’ সন্ত্রাসী! পুলিশ প্রহরায় বাচ্চাদের পেটাতে যাচ্ছে। এরাই কি সরকারি ভাষ্যে ‘তৃতীয় পক্ষ’? এর কী ব্যাখ্যা দেবেন মাননীয় মন্ত্রী?

ছবিতে কিন্তু সবার মুখই চেনা যাচ্ছে। নাকি চেনা সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করা বা আটক করার দায় নিতেও অনিচ্ছুক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী? বরঞ্চ এরপর থেকেই প্রতিদিন পুলিশের সহায়ক শক্তি হিসেবে ছাত্রলীগের কর্মীরা ছোট ভাইবোনদের ওপর হামলা করছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক গুরুদের আজ্ঞাই পালন করছে। গত ৫ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে আলোচনা প্রসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মায়ের মতো করে বুঝিয়েছেন শিক্ষার্থীদের। বলেছেন তৃতীয় শক্তি ঢুকে পড়েছে। ওদের ক্ষতি করতে পারে। এসব শক্তি ছদ্মবেশী।

হয়তো কষ্ট করে শনাক্ত করতে হবে। কিন্তু যারা প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই ছাত্রলীগের ব্যাপারে শাসক দলের উচ্চপর্যায় থেকে একটি শব্দও উচ্চারিত না হওয়ায় সরকারের প্রতি যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে শিশুমনে তা কি আরও বড় হয়ে উঠছে না?

একটি বিষয় লক্ষণীয়- ছাত্রছাত্রীদের অবরোধে প্রায় স্থবির রাজপথে যাত্রীদের বিড়ম্বনা হলেও কাউকে তেমনভাবে আন্দোলনকারী ছেলেমেয়েদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। বরং কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ মৌনভাবে তা সমর্থন করেছেন। তখন অনেকে বলেছেন, আমাদের সাময়িক কষ্ট হোক- তবু যদি সরকারের টনক নড়ে। কোনো কোনো মা-বাবা এসে প্রতিবাদকারী ছেলেমেয়েদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

আসলে সবাই মর্মাহত এবং সড়ক পথের অব্যবস্থাপনায় সবাই ক্ষুব্ধ। আমাদের দেশে যেহেতু কোনো প্রতিবাদ চরম রূপ না নেয়া পর্যন্ত দায়িত্ববানরা কোনো ফয়সালা করেন না, তাই বিক্ষুব্ধ মানুষ সংঘাতের পথে যায়। আইন নিজ হাতে তুলে নেয়ার মতো ঘটনা ঘটায়। মানুষ অভিজ্ঞতা দিয়ে দেখেছে এ চরম অবস্থায় না যাওয়া পর্যন্ত কারও ঘুম ভাঙে না।

হাইকোর্ট গাড়িগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা করার জন্য সরকারকে কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ড্রাইভার আর লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার থেকেও নির্দেশ এলো।

সুতরাং বলা যায় আহত, ক্ষতিগ্রস্ত আর বিক্ষুব্ধ পক্ষ বাস্তবতা থেকে যেহেতু জানে তথাকথিত অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা কোনো পদক্ষেপ নেবে না, তাই তাদের শেষ অস্ত্রটিই প্রয়োগ করতে হয়।

সড়ক দুর্ঘটনার পর প্রত্যক্ষ দায় অবশ্যই ড্রাইভারের ওপর বর্তায়। সঙ্গত কারণেই ড্রাইভারের শাস্তিও দাবি করা হয়। এ দেশের বাস্তবতায় হাজার অন্যায় করলেও ড্রাইভারদের শাস্তি দেয়া কঠিন। কারণ মালিক সমিতি, চালক সমিতি একাট্টা হয়ে সড়কপথে যে অরাজকতা শুরু করে তার কাছে সরকার পক্ষকে আÍসমর্পণ করতে হয়।

আমরা মনে করি সড়ক অব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনার জন্য অনেকেই দায়ী। শুধু ড্রাইভার একা শাস্তি পেতে পারে না। এই যে, জাবালে নূর ধরনের গাড়িগুলো প্রকাশ্যে রাজপথে চলছে, এগুলোর অবয়ব দেখলেই বোঝা যায়, এসবের উল্লেখযোগ্যসংখ্যকের ফিটনেস থাকার কোনো কারণ নেই। যদি না থাকে তাহলে এসব শহরজুড়ে চলছে কেমন করে?

এসব দেখভাল করার দায়িত্ব যাদের তারা কেন তা দেখছেন না? আর যদি কোনো ড্রাইভার অমন লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ির জন্য পাওয়া ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখাতে পারেন তাহলে যারা অমন সাটিফিকেট দেন তারা কেন শাস্তির বাইরে থাকবেন?

আইনে না থাকলেও কীভাবে গোঁফ না গজানো কিশোর বাস, মিনিবাস, লেগুনা চালাতে পারছে? মিরপুর এলাকার এক মোটর মেকানিক জানালেন এই রুটের বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের ড্রাইভারদের সিংহভাগেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।

যাদের আছে এর বেশিরভাগ দুই নম্বর লাইসেন্স। অর্থাৎ টাকার বিনিময়ে লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয়েছে। তাহলে রাজপথে যাদের লাইসেন্স পরীক্ষা করার কথা তাদের চোখের ওপর দিয়ে দিনের পর দিন কেমন করে লাইসেন্সবিহীন বা ভুয়া লাইসেন্স পকেটে নিয়ে চালকরা গাড়ি চালাতে পারছেন? শাস্তির বাইরে এই পরিদর্শকরাই বা থাকেন কেমন করে?

টিভি চ্যানেলে দেখলাম এক বাস ড্রাইভার সাংবাদিককে জানালেন এসব রুটের ড্রাইভারদের নব্বই ভাগই নেশাসক্ত। এই যে মাদকের বিরুদ্ধে এত অভিযান চলছে সেখানে কীভাবে রাজধানীতে নেশাগ্রস্ত ড্রাইভার গাড়ি চালিয়ে মানুষের জীবনকে প্রতিদিন হুমকির মধ্যে ফেলে দিতে পারছেন? যাদের এসব তদারকি করার কথা তারা কেন দায়িত্ব অবহেলার কারণে জবাবদিহিতার আওতায় আসবেন না?

ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামিয়ে গাড়ির মালিকরাইবা কেন শাস্তির আওতার বাইরে থাকবেন? মালিকদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে। দূরপাল্লার গাড়িতে ‘ড্রাইভার খরচ’ বাঁচাতে একজন ড্রাইভারকে দিয়ে ওভার ডিউটি করানো হয়। ফলে অনেক সময় শ্রান্ত ড্রাইভাররা গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হয়ে দুর্ঘটনা ঘটান। রাজধানীর ভেতর চালকরা মালিকের চাকরি করেন না। মাসকাবারি বেতন নেই তাদের। চুক্তি ভিত্তিতে গাড়ি চালান। ফলে মালিকের চাহিদা পূরণ, শ্রমিক সংগঠন ও পুলিশের চাঁদা ইত্যাদির পর নিজেদের আয় বাড়ানোর জন্য যাত্রী তোলার ব্যাপারে বাসগুলোর মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা থাকে। এভাবেই ঘটে রেষারেষির ঘটনা। অনেক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সূত্রপাত এখানেই।

আশুলিয়ার বিলের ওপর রাস্তায় বা বেড়িবাঁধের রাস্তায় দীর্ঘ যানজট নিত্যকার ঘটনা। এর প্রধান কারণ ড্রাইভারদের ট্রাফিক শৃঙ্খলা না মানা। একটু জ্যাম পড়লেই উল্টোপথে আসার লেন দিয়ে ঢুকে যাচ্ছে গাড়ি। মুখ বন্ধ করে দিচ্ছে উল্টো দিক থেকে আসা গাড়িগুলোর। ট্রাফিক প্রশাসনকে এ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে আমরা দেখি না।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছোট ছোট শিক্ষার্থীর আন্দোলন কেন দেশব্যাপী ছাড়িয়ে পড়ছে সরকারপক্ষ সে সত্য উদ্ঘাটনে যে বিশেষ মনোযোগী তা বোঝা যাচ্ছে না। না হলে এখনও ক্ষুব্ধ-আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজপথে এসে কোনো মন্ত্রী-নেতার কথা বলার সাহস বা ইচ্ছা হল না কেন! এর বদলে নিরাপদে বসে বসে রাজনৈতিক কৌশলী বক্তব্য দেয়া হচ্ছেই বা কেন! সরকারপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সব দাবি মানা হয়েছে।

তারপরও শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছাড়ছে না কেন? ওরা স্পষ্টই বলেছে- সরকারের ওপর তাদের আস্থার জায়গাটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। এ জায়গাটি যখন মেরামত করা দরকার সেখানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। লাঠিয়াল হিসেবে নামানো হয়েছে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের। সরকারের ভেতরের এতটা হতাশা আমাদের মধ্যে নানা আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। সারা দেশের শিশুকিশোররা বুঝে হোক না বুঝে হোক একটি ক্ষোভ থেকে রাজপথে নেমেছে।

বিরোধী দল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপর প্রয়োগ করা দমন নীতি এ ক্ষেত্রে বুমেরাং হবে। এতে শিশুকিশোরদের পাশে ওদের অভিভাবকদের সমাবেশ আরও বড় হবে। সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের সহানুভূতি ওদের পাশে চলে আসবে। মানতে হবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারায় এবং চারপাশের দুর্নীতির বাড়বাড়ন্ত মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। আমরা আশা করব এসব বিবেচনায় রেখে সরকারপক্ষকে নীতিনির্ধারণ করতে হবে।

আর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বলব, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তোমাদের প্রতিবাদ সফল হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি এ দেশের ইতিহাসে তোমাদের এই অধ্যায়টি উজ্জ্বল কালিতে লেখা থাকবে। তোমরা যে নাড়া দিতে পেরেছ তা অনেকটা অন্ধকার তাড়াতে পেরেছে। সরকারের ওপর শেষ পর্যন্ত ভরসা রাখতেই হয়। তোমাদের এখন স্কুলে ফিরে যাওয়াই ঠিক হবে। তোমাদের যৌক্তিক ও নিষ্পাপ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কারও কূটরাজনীতি সফল হবে, আমাদের তা মনে হয় না। যে কোনো সময়ের জন্য রাজপথ তো খোলাই রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *