তিন দিনে ২০ হাজার মামলা

বৈচিত্র ডেস্ক : শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে টানা নয় দিন রাজধানীতে যানবাহন চলাচলে অচলাবস্থার পর গতকাল পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তবে রাজধানী থেকে উধাও হয়ে গেছে গণপরিবহনের অনেক গাড়ি। ফিটনেসবিহীন বাসগুলো রাস্তায় নামান হয়নি। লক্কড়ঝক্কড় গাড়িগুলো পাঠানো হয়েছে গ্যারেজে। রঙ লাগিয়ে সেগুলোকে সাজানো হচ্ছে নতুন সাজে। ফলে গণপরিবহন সঙ্কটে নগরবাসীর ভোগান্তির অবসান হয়নি। শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী হত্যায় বন্ধ হয়ে যাওয়া জাবালে নূর পরিবহন নাম পরিবর্তন করে আবারো রাস্তায় নামার তোরজোড় চলছে। আল-মক্কা নাম ধারণ করে ওই গাড়িগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে রাস্তায় নামানোর জন্য। এ দিকে মহানগর পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গত তিন দিনে ২০ হাজারের ওপরে মামলা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে এক কোটি টাকার ওপরে। গতকাল মঙ্গলবার মামলা হয়েছে ৩ হাজার ৯০৯টি।

গতকাল রাজধানীতে ছাত্র আন্দোলন বা বিক্ষোভ না থাকলেও গণপরিবহন ছিল হাতেগোনা। গত রোববার থেকে শুরু হয়েছে ট্রাফিক সপ্তাহ-২০১৮। পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা বলেছেন, ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হওয়ায় অনেক যানবাহন এখন রাস্তায় নামছে না। ওইসব গাড়ির ফিটনেস নেই। ফিটনেসবিহীন গাড়ি পেলেই ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিচ্ছে।
ট্রাফিক সপ্তাহ শুরুর আগেই অবশ্য অনেক লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি গ্যারেজে ঢুকানো হয়। বিশেষ করে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরই অনেক লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি উধাও হয়ে যায় রাস্তা থেকে। পরে গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত অঘোষিত ধর্মঘটেও রাস্তাঘাট একেবারেই গণপরিবহন শূন্য ছিল। এখন গণপরিবহন চলাচল শুরু করলেও ট্রাফিক সপ্তাহের কারণে মামলা-জরিমানার ভয়ে অনেকেই গাড়ি বন্ধ রাখে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একেবারেই রঙচটা, ভাঙাচোরা গাড়িগুলো নেয়া হয়েছে মেরামতের জন্য। রাজধানীর আশপাশের শতাধিক গ্যারেজে এখন মেরামত চলছে ওই গাড়িগুলো। লাগানো হচ্ছে রঙের আস্তর। যাত্রাবাড়ী এলাকায় কয়েকটি গ্যারেজে কথা বলে জানা যায়, গ্যারেজ মিস্ত্রিরা এখন খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তারা দিনরাত কাজ করছেন পুরনো গাড়িগুলো চেহারা বদলানোর জন্য ইতোমধ্যে অনেক গাড়ি নতুন রঙ লাগিয়ে রাস্তায় নামানো হয়েছে। গাড়িগুলোর ভেতরের অবস্থা নাজুক থাকলেও বাইরে থেকে দেখে মনে হয় চকচকা। গতকাল এমন বেশকিছু গাড়ি রাস্তায় চলতে দেখা গেছে।

এ দিকে যে জাবালে নূর পরিবহনের জন্য এত ঘটনা, ছাত্র বিক্ষোভ, সেই জাবালে নূর পরিবহন নতুন নামে এখন রাস্তায় নামার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই পরিবহনের প্রায় ৩০০ গাড়ি রয়েছে। যে গাড়িগুলোর অধিকাংশই লক্কড়ঝক্কড়। দুই ছাত্র হত্যার পর এই পরিবহনের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিল করা হয়। গ্রেফতার করা হয় পরিবহনের এক পরিচালককে। গাড়িগুলো মিরপুরের বিভিন্ন অলিগলিতে রাখা হয়। ছাত্র আন্দোলন যখন তুঙ্গে, ঠিক ওই মুহূর্তেই জাবালে নূর পরিবহনের বাসগুলো রঙ লাগিয়ে চেহারা বদলানোর কাজে ব্যস্ত মিস্ত্রিরা। রাতারাতি ওই পরিবহনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে আল-মক্কা পরিবহন। সবগুলো গাড়িতে নতুন করে রঙ লাগানো হচ্ছে; আর জাবালে নূর নাম মুছে লেখা হচ্ছে আল-মক্কা পরিবহন।
পুলিশ জানিয়েছে, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চলছে। মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের ডিসি মাসুদুর রহমান বলেছেন, তিন দিনে প্রায় ২০ হাজার মামলা হয়েছে। জরিমানা হয়েছে এক কোটি টাকার ওপরে। তিনি বলেন, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তবে একাধিক সূত্র বলেছে, পুলিশের টার্গেট হয়ে দাঁড়িয়েছে মোটরসাইকেল। যেসব মামলা হচ্ছে তার তিনভাগের দুই ভাগই হচ্ছে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে। তা ছাড়া মামলায় পড়া বাস-মিনিবাসসহ গণপরিবহন এবং মালবাহী গাড়ির সংখ্যা কম। বেশির ভাগই ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ি।
মহানগর পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে ট্রাফিক সপ্তাহের তৃতীয় দিনে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ৩৯০৯টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। আটক করা হয়েছে ৭৪টি মোটরসাইকেল। এর মধ্যে উল্টোপথে গাড়ি চালানোর কারণে ৩৮৬টি, হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করার দায়ে ৪৭টি, হুটার ও বিকন লাইট ব্যবহার করার জন্য ৮টি মাইক্রোবাসে কালো গ্যাস ব্যবহার করার জন্য ২৫টি ও বিভিন্ন ধরনের স্টিকার ব্যবহার করার জন্য দুই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

এ ছাড়াও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় ১০৭৮টি, ফিটনেস না থাকার কারণে ২১২টি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে ২০৩৪টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করায় ৩৮ ভিডিও এবং ৫টি সরাসরি মামলা দেয়া হয়েছে।সূত্র : নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *