শিক্ষাপদ্ধতি সংস্কার অপরিহার্য

শাওয়াল খান : শিক্ষা একটা প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতাই এর মান বাড়ানোর উত্তম পদক্ষেপ। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমিক পর্যায়ের মূল গলদটা শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যেই স্পষ্ট। পরীক্ষা কখনও শিক্ষার মান বাড়ায় না। পরীক্ষা একটা মূল্যায়ন পদ্ধতি মাত্র। অথচ আমরা শিক্ষা অর্জনের মূল বিষয়কে পাশ কাটিয়ে শিক্ষার উপসর্গ পরীক্ষা নিয়ে বেশি ব্যতিব্যস্ত হচ্ছি

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় একটা বিপজ্জনক ছায়া ঘোরাঘুরি করছে। এ অপছায়া বা বিপজ্জনক ছায়া যখন যেখানে গিয়ে ভর করে, সেখানেই শিক্ষার আলো অন্ধকারে পর্যবসিত হয়। এক কথায় আমাদের জাতীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ এ বিপজ্জনক ছায়া নিয়ে খেলা করছে। এ খেলায় যারা হেরে যাচ্ছে তাদের স্বপ্ন ভাঙছে, ভবিষ্যৎ এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। আর যারা জিতে যাচ্ছে, তারা দেশের কী উপকারে আসবে তা বলা মুশকিল।

তীক্ষè মেধাবীদের কথা আলাদা। তারা যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের মেধার স্ফুরণ ঘটাতে পারঙ্গম। মধ্যম মানের মেধাবী বা সাধারণ শিক্ষার্থীরা খেটেখুটে পড়েও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না অপছায়ার অভিঘাতে। তাদের স্বপ্ন ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে মাঝপথে। অর্থের জোরে নিয়ে নিচ্ছে অন্য একটা শ্রেণি। শিক্ষাব্যবস্থাকে ঘিরে আবর্তিত যাবতীয় নিয়মকানুনকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে প্রয়োজনে তারা সনদপত্র কিনছে, প্রশ্নপত্র কিনছে অথবা নিদেনপক্ষে ব্যয়বহুল কোচিং গাইডকে প্রতিষ্ঠিত করছে। কোচিং এবং গাইডের দাপটকে ক্রমে দৃশ্যমান করছে, সামনে আনছে, সেইসঙ্গে এসব ব্যবসার বিস্তার ঘটাচ্ছে। তাই বলছি, এ পথে অগ্রসর হয়ে লিকলিক করে ওপরে উঠে তারা দেশের কী উপকারে আসবে এখনই বলা মুশকিল। কারণ তারা জানে অর্থের দাপট বিদ্যার জোরকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলে। এখন প্রশ্ন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বঞ্চনার শেষ কোথায়?

বিগত কয়েক বছর ধরে এইচএসসি, এসএসসি, জেএসসি, পিইসি এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, লাখ লাখ টাকায় প্রশ্নপত্র বেচাকেনা নিয়ে দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে সচিত্র খবর প্রকাশিত হতে দেখা গেলেও সেসব পরীক্ষা বাতিলও হয়নি এবং সেইসব পরীক্ষার ফল নিয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো উচ্চবাচ্যও করেনি। বরং ছোটদের বড় বড় আয়োজনের পরীক্ষার প্রহরকে উৎসবমুখর পরিবেশ বলে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে।

এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিম্নমুখী ফল হওয়ায় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, যথাযথ মান বজায় রেখে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করায় এবার পাসের হার কিছুটা কম হয়েছে। গেল বছর এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরও শিক্ষামন্ত্রী এমন কথাই বলেছিলেন। প্রতি পাঁচজনে একজন অকৃতকার্য হওয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, নতুন পদ্ধতিতে সঠিকভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করায় ফলে কিছুটা প্রভাব পড়েছে (‘পাসের হার কমায় বিস্মিত নন শিক্ষামন্ত্রী’, প্রথম আলো অনলাইন, ৪ মে ২০১৭)। অর্থাৎ শিক্ষামন্ত্রীর স্বীকারোক্তিই বলছে, আগে পরীক্ষার উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

শিক্ষার্থীদের জীবনের গতিপথ নির্ধারণী পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে কেন এ বৈষম্য এবং দ্বৈতনীতি? শিক্ষাক্ষেত্রে এ বৈষম্য এবং দ্বৈতনীতির কী প্রভাব পড়ছে কর্তৃপক্ষ তা একবারও ভেবে দেখেছে? প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার এ পর্যায় থেকে যারা ঝরে পড়ছে, তাদের গন্তব্য কোথায়? তাদের ভবিষ্যৎ কী? পরিবারে বা পারিবারিক অর্থনীতিতে এর কী প্রভাব পড়ছে? অথবা সামগ্রিক বিবেচনায় সমাজে এবং পরিবেশে এর কী প্রভাব পড়ছে?

শিক্ষার মান হঠাৎ করে বাড়ানো সম্ভব নয়। শিক্ষা এমন একটি বহুমাত্রিক বিষয়, যার সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পাঠ্যক্রম-পাঠ্যবই, সামাজিক প্রেক্ষিত, পরিবেশ-প্রতিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো, সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষার ব্যবস্থাপনা সরাসরি সম্পৃক্ত। এর কোনো একটিতে দুর্বলতা বা ত্রুটি থাকলে শিক্ষার মান বজায় রাখা দুরূহ হয়ে পড়ে। নোটবই, গাইডবই বন্ধ, মুখস্থ বিদ্যা পরিহার এবং অধীত বিষয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে সৃজনশীল ও এমসিকিউ প্রশ্ন চালু করা হয়েছিল। পদ্ধতি হিসেবে এ দুটি ভালো। কিন্তু প্রায়োগিক ক্ষেত্রে সৃজনশীল ও এমসিকিউ পদ্ধতি চালুর পূর্বশর্তগুলো পূরণ হয়েছে কি না, সেটা আমলে নেওয়া হয়নি। যেখানে শিক্ষকরাই সৃজনশীল প্রশ্ন বোঝেন না, সেখানে তারা শিক্ষার্থীদের কীভাবে বোঝাবেন?

শিক্ষা একটা প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতাই এর মান বাড়ানোর উত্তম পদক্ষেপ। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমিক পর্যায়ের মূল গলদটা শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যেই স্পষ্ট। পরীক্ষা কখনও শিক্ষার মান বাড়ায় না। পরীক্ষা একটা মূল্যায়ন পদ্ধতি মাত্র। অথচ আমরা শিক্ষা অর্জনের মূল বিষয়কে পাশ কাটিয়ে শিক্ষার উপসর্গ পরীক্ষা নিয়ে বেশি ব্যতিব্যস্ত হচ্ছি। পরীক্ষার সঙ্গে শিক্ষার সম্পর্ক মূল্যায়ন পর্যন্ত। শিক্ষার মান উন্নয়নের সঙ্গে পাঠ্যবই, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ-অভিজ্ঞতা-উপস্থাপন শৈলী- এসব সরাসরি সম্পৃক্ত, পরীক্ষা নয়।

২০০৯ সালে ঘটা করে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে যুগোপযোগী একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়, যা শিক্ষানীতি ২০১০ নামে অভিহিত। কিন্তু সেই নীতি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও শিক্ষানীতিবহির্ভূত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নামক অতিকায় এক পরীক্ষা শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বলা হয়, শিশুদের পরীক্ষাভীতি দূরীকরণের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ। আসলে কি তাই? শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের অভিমত কিন্তু ভিন্ন। এ পরীক্ষা শিশুদের আনন্দের শৈশব খর্ব করছে। শিক্ষামন্ত্রী অবশ্য শিশু বয়সে শিশুদের সনদপত্র গছিয়ে দেওয়ায় গর্ব করছেন। শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে শুধু মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক নয়, প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষার মান নিয়েও ভাবতে হবে।

দুই বছর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও করণীয় নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা হয়, বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। অনেক শিক্ষাবিদ পাঠ্যবই সহজতর, প্রশ্নব্যাংক তৈরি, মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ, নোটবই, গাইডবই ও কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীলতা বন্ধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। কেউ কেউ এমসিকিউ ও সৃজনশীল প্রশ্নের যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই আলোকে কাজ তেমন একটা হয়নি।

এখন এমসিকিউ কমিয়ে সৃজনশীল প্রশ্ন বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। কোন প্রশ্ন কত ভাগ থাকবে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্ধারিত পাঠ্যবইটি যাদের উদ্দেশে লেখা হয়েছে তাদের বোঝার উপযোগী কি না। সেইসঙ্গে শ্রেণিকক্ষে অধীত বিষয় উপস্থাপনের উপযুক্ত শিক্ষক আছে কি না। এ ক্ষেত্রে দুর্বলতা থাকলে কোনো পদ্ধতিই সুফল বয়ে আনবে না। শিক্ষানীতি-২০১০ বাহ্যিকভাবে কিছু পরিবর্তন আনলেও সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় তেমন পরিবর্তন আনতে পারেনি, শুরুতে শিক্ষানীতি হাতে পেয়ে আমরা যা ভেবেছিলাম তা সাধিত হয়নি।

শিক্ষানীতিতে নেই এমন পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি ছাড়া তেমন কোনো সংস্কারই হয়নি। আসলে শিক্ষাকে যুগোপযোগী এবং মানসম্মত করতে হলে শুধু শিক্ষানীতি নয়, শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্তদের শিক্ষাপ্রীতিও দরকার। বাংলাদেশে শিক্ষা এখন বড় মাপের ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার। আর সবার জন্য শিক্ষার মধুর সম্ভাষণ শিক্ষার টিকিটাও স্পর্শ করতে পারছে না। কারণ একটাই- দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনা। বিনামূল্যের প্রাথমিক শিক্ষার পেছনেও ব্যয় করতে হয় বড় অঙ্কের অর্থ। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার নামে সরকারি-বেসরকারি প্রায় প্রতিটি স্কুলে চলে অর্থের বিনিময়ে বিশেষ কোচিং। আবার সপ্তায় সপ্তায় মডেল টেস্ট। এসব দৃশ্যমান অনিয়ম খতিয়ে দেখার কেউ নেই। স্কুলে স্কুলে গড়ে ওঠা বিশেষ কোচিং ব্যবস্থা ছাড়াও দণ্ডায়মান আছে আরও বড় বড় কোচিং সেন্টার। সেসবের পোস্টারে-ব্যানারে ঢাকা শহর ছেয়ে গেছে। সেসব কোচিং সেন্টারগুলোও পরীক্ষার্থীতে ঠাসা।

বর্ষীয়ান সমাজচিন্তক বদরউদ্দীন উমরের মতে, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা দুর্নীতির কারাগারে, এছাড়াও বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে এখন প্রাইভেট কোচিং ব্যবস্থার রাজত্ব কায়েম হয়েছে। কয়েক বছর আগে তিনি শিক্ষকদের দিকে আঙুল তুলে বলেন, ঢাকার উচ্চমানের অধিকাংশ স্কুলেই এখন শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত ও ঠিকমতো পাঠদান করেন না। ইংরেজি ও বাংলা উভয় মাধ্যমের স্কুলগুলোতে পরীক্ষা নিকটবর্তী হলে স্কুলে পাঠদান আরও ভালোভাবে করার পরিবর্তে শিক্ষকরা এর উল্টোটিই করে থাকেন। তারা ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের ভালোমতো পাঠদান না করে তাদের এমন অবস্থা করেন যাতে স্কুলের বাইরে নিজস্ব উদ্যোগে ও ব্যবস্থায় তাদের পড়াশোনার চেষ্টা করতে হয়।

এ পরিস্থিতি উপরোক্ত স্কুলশিক্ষকরা ইচ্ছাকৃতভাবেই তৈরি করে থাকেন। কারণ তারা স্কুলে নিজেদের ছাত্রছাত্রীদের ঠিকমতো শিক্ষা না দিয়ে তাদের যে বিপদের মধ্যে ফেলেন, সে বিপদ থেকে তাদের উদ্ধারের জন্যই তারা নিজেরা খুলে থাকেন কোচিং সেন্টার। এ কোচিং সেন্টারগুলোতে খুব উচ্চহারে ফি দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পাঠগ্রহণ করতে হয়। অনেকে কোনো স্কুলের শিক্ষক না হলেও এধরনের কোচিং সেন্টার খুলে বসে আছেন। কারণ স্কুলে শিক্ষার বেহাল অবস্থার কারণে এভাবে বাইরে শিক্ষালাভের একটা শর্ত ও পরিস্থিতি এমনিতেই তৈরি হয়েছে। এর ফলে শুধু যে ছাত্রছাত্রীদের এক একটি বিষয়ে কোচিংয়ের জন্য হাজার হাজার টাকা দিতে হচ্ছে তাই নয়, এক কোচিং সেন্টার থেকে অন্য কোচিং সেন্টারে শুধু ছাত্রছাত্রীরাই নয়, তাদের অভিভাবকদেরও দৌড়াদৌড়ি করতে করতে তাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হচ্ছে। এদিক দিয়ে দেখলে অসুবিধা হবে না, শিক্ষা এখন যে শুধু বাণিজ্যের ব্যাপারে পরিণত হয়েছে তা-ই নয়, ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য এ ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্যাতন ও যন্ত্রণার এক কারাগার। এ কারাগারে তারা সবাই বন্দি। কিন্তু তাদের এ বন্দিদশা দূর হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই বর্তমান শাসক শ্রেণির সামনে নেই। এ শাসন ব্যবস্থা চূর্ণ হওয়াই এ কারাগার চূর্ণ হওয়ার অবিকল শর্ত (১৩/১/১১ আমার দেশ)।

শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞানের বিস্তার ঘটানো; কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে একেবারেই পরীক্ষাকেন্দ্রিক ও সার্টিফিকেটনির্ভর। ফলে প্রচলিত ব্যবস্থায় স্কুলগুলো পরীক্ষা আর জিপিএ-৫ এবং সোনালি জিপিএ-৫ এর পেছনে দৌড়ানোর জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যতিব্যস্ত করে। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিয়ত টেনশনে ভুগতে থাকেন।

কারণ উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা চাকরি যে কোনো পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে তাদের মূল্যায়ন ওই জিপিএ-৫ দিয়েই করে। কতটুকু বিদ্যা অর্জন করল সেটা যাচাই আরও পরের বিচার্য বিষয়। এ জিপিএ-৫ এর যাতনায় অভিভাবকরাও শিশু শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও বিনোদন সবকিছু ভুলে গিয়ে, এমনকি শিক্ষাকে বলি দিয়ে ওই এক বিপজ্জনক অভিলাষকে তাড়া করছে। অনতিবিলম্বে আমাদের এ অভিলাষ পরিহার করতে হবে। অন্যথায় আমাদের বিদ্যার প্রসার ঘটবে না, শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন না এবং জাতি বিভ্রান্ত হবে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে শিক্ষাপদ্ধতি সংস্কার অপরিহার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *