কঁচা নদীতে সেতু: পিরোজপুরবাসীর স্বপ্নপূরণের পথে

হাসান বাদল : কঁচা নদীতে ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণকে ঘিরে পূরণ হতে যাচ্ছে পিরোজপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। জেলা শহরের পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে কঁচা নদীর ভাটিতে কুমিড়মারা-বেকুটিয়া ফেরিঘাটের কাছে এ সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজ চলছে।

স্বপ্নের বেকুটিয়া সেতু নির্মাণে বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের অপরদিকে দেশের একমাত্র গভীর সমুদ্র বন্দর পায়রা এবং সমুদ্র সৈকত সাগরকন্যা কুয়াকাটার সাথে সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল এবং সমুদ্রবন্দর মোংলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে কঁচা নদীর এই সেতুটি।

৯৯৮ মিটার দৈঘ্যের সেতুটি নির্মাণে প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা চীন সরকার দেবে। বাকি অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মেশিন ও মালবাহী যানবাহনের আনাগোনায় কর্মমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এখানে। সেতু নির্মাণকে ঘিরে কর্মব্যস্ত সময় পার করছে শ্রমিকেরা। চলছে ফিল্ড নির্মাণের কাজ। এখানে কাজ করছে চীনা প্রকৌশলী এবং বাঙালিরা।

কুমিড়মারা প্রান্তে বালি ভরাট দিয়ে সেখানে শেট নির্মাণের জন্য দম ফেলার সময় মিলছে না প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের। সেতুটির নির্মাণসামগ্রী রাখা ও শ্রমিকদের থাকার জন্য এই ফিল্ড তৈলি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

চীনা অনুদান সহায়তায় বাস্তবায়িতব্য বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের বেকুটিয়া কঁচা নদীর ওপর ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের জমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, স্থাপনা অপসারণের প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। চীন সরকারের অনুদানে এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নির্মিত হচ্ছে শুনে বরিশাল এবং খুলনা বিভাগের কোটি মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে এক অন্যরকম উৎসাহ-উদ্দীপনা। স্বপ্নের সেতু পদ্মার সাথে প্রায় একই সময় শেষ হবে বেকুটিয়া সেতুর নির্মাণকাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *