শাহীন রেজার দু‘টি শোকের কবিতা

মার্বেলকাব্য

অসতর্ক কোচড় থেকে হারিয়ে গেলো মার্বেলটি; সবচেয়ে দামী মার্বেল
আমি তাঁকে খু্ঁজলাম ক্রমাগত ঘাসের সমুদ্রে, মেঘনায় ফুটে থাকা অযুত ঊর্মিমালায় এবং আকাশচাদরে শরীর এলানো শতকোটি নক্ষত্রপুঞ্জে

না মার্বেল নেই; অপসৃত দিনের ভারে ম্রিয়মান রাত্রিটাও
এক অন্ধকার থেকে আমাদের যাত্রা আরেক অন্ধকারে

মার্বেলের জন্য জমা হাহাকারে সামিল সমস্ত ধূসরেরা
এবং সকল মানুষ আর পবিত্র আত্মাগুলো

তাঁর অনন্তগমনে সমগ্র বাংলাদেশ যেন শোকের কারবালা;  অশ্রু আর শোনীতে স্তব্ধ চরাচর হায় মানব হায় সিংহ মানব মাতমে শোকাকুল
পুষ্পমালতী; নদী বৃক্ষ চাঁদ

মার্বেল অভাবে স্তব্ধ আজ সব বেলাভূমি, সকল শষ্যখামার

জুড়ে বিরানের ইংগীত

আর সকল হৃদয়ে শোকের তানপুরা অফুরান

আমার মার্বেল সে আমার গর্বের ধন
আমি তাঁকে ফিরে পেতে চাই আমার আত্মায়
সকল প্রার্থণায় আর সকল বিশ্বাসে লালন করতে চাই
একান্ত একাগ্রতায়

আমার মার্বেল ফিরে আসবে একদিন
পল্টনের বিশাল মাঠে কিংবা রেসকোর্সে
তার বিশাল দেহ কেঁপে উঠবে দখিনা বাতাসে
সেইসাথে প্রিয় বাংলাদেশ

ফিরে আসবেই আমার মার্বেল
বক্ষজুড়ে যে আজন্মের ক্ষত তার বুকে লাগবেই মমতাপ্রলেপ

ফিরে আসো আমার মার্বেল….ফিরে আসো
ফিরে আসো আমার শক্তি সাহস….ফিরে আসো

পুনশ্চ: হিরক খচিত মার্বেল এ জাতির গর্বের ধন
সে না কোনো দলের না কোনো গোষ্ঠির একা।
১০.০৮.২০১৮

বৃক্ষসংক্রান্ত
বৃক্ষ দাঁড়িয়ে থাকে ; বৃক্ষ দাঁড়ায়
পাহাড়-দেয়াল ঘেঁষে যেন অর্ফিয়াস
মোহনবাঁশীতে তার রুদ্র জাগে, জাগে দুর্জয়

বৃক্ষের ছায়াবুকে দুপুর ঘুমায়
ঘুঘুর ক্লান্ত ডাকে অচেতন প্রজাপতি-বীণ

বৃক্ষ নদীকে ডাকে; নদীও বৃক্ষকে
মিলনের কথা রটে তারায় তারায়

বৃক্ষ হারিয়ে গেলে স্মৃতি থাকে তার
ডালেডালে স্বপ্নবাকল আর অদেখার
নীলচিঠি শ্রাবণের খামে

বৃক্ষ কালের শিখা
জ্বলে শুধু জ্বলে
তাহার প্রস্হানে জল নয়ন-নিখিলে

বৃক্ষ দিয়েছে ডুব
ইলিশের জলাশয় নয় কিছু দীর্ঘ এমন
বৃক্ষের রঙগুলো এঁকে চলে ছায়াবৃক্ষ আরো।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *