মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ফিজিওথেরাপি

ড. এন ইয়াছিন অালী : আজ ৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। প্রতি বছরের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো  বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য  ‘মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ফিজিওথেরাপি’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডাব্লিউএইচওর তথ্য মতে, বিশ্বে প্রায় ৫৬ কোটি মানুষ মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত। এর মধ্যে ৩০ কোটি মানুষ বিষণ্ণতায় এবং ২৬ কোটি মানুষ উদ্বেগে ভোগে। এর এক তৃতীয়াংশ মানুষ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বসবাস করে। ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন ফর ফিজিক্যাল থেরাপির (ডব্লিউসিপিটি) মতে, ফিজিওথেরাপি শুধু শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসার ক্ষেত্রে নয়, মানসিক অসুস্থতার  চিকিৎসার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক নির্দেশিত কিছু থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ বিশেষ করে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  এ ছাড়া যখন একজন ব্যক্তি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভোগে, তখন মানসিক চাপ বা উদ্বেগ বেড়ে যায়। যেমন, একজন ব্যক্তি হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলো এবং তার শরীরের একপাশ প্যারালাইসিসে পরিণত হলো, তখন রোগীটির শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিক অসুস্থতাও দেখা দেয়। কারণ, যে কি না দুদিন আগেও সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করছিল সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তার আক্রান্ত হাত-পায়ে কোনো শক্তি পাচ্ছে না। সে কি আবার আগের মতো সুস্থ হতে পারবে? এই ধরনের নানা মানসিক উদ্বেগে ভুগে। তেমনিভাবে কিছু রোগী রয়েছে যারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যথা বেদনায় ভুগে থাকে, তখন তারাও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, বিষণ্ণতায় ভুগে। এসব ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে রোগী যখন ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবে সুস্থতা লাভ করে, তখন তার ভিতর আসা ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা দূর হয়। তাই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে কাজ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *