ঘুমধুমে পাঁচ ঝর্না

বৈচিত্র ডেস্ক :  ভ্রমণ পিপাসুদের চোখ জুড়ানো ছোট-বড় পাঁচটি প্রকৃতিক ঝরনার সন্ধান মিলেছে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে। চারপাশে পাহাড় মাঝখানে ঝিরিপথ বেয়ে গেলেই এসব ঝরনার সন্ধান পাওয়া যায়। পাহাড়ঘেরা ঝরনারাজিতে মন ছুঁয়ে যায় হিমশীতলতায়। বাংলাদেশের পর্যটনে এটি একটি নতুন দিগন্তও বলা চলে। কয়েক মাস ধরে স্থানীয়রা দল বেঁধে ঝরণার আনন্দ উপভোগ করছেন বলে জানা যায়। সঙ্গে পর্যটকরাও যোগ দিচ্ছেন দলে দলে। সেই ঝরনার সুন্দর দৃশ্য না দেখলে বোঝা যাবে না প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি এত মনোমুগ্ধকর। সরকারি ছুটির দিন ছাড়াও শত শত পর্যটকের আগমন ঘটে এসব ঝরনায়। যা চোখে পড়ার মতো। সরেজমিনে দেখা মেলে অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর বরইতলী ঝরনাগুলোর।

পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বরইতলী গ্রামের ৫-৬ কিলোমিটার ভেতরে পাঁচটি প্রাকৃতিক ঝরনার সন্ধান পাওয়া যায়। এমন ঝরনা বা জলপ্রপাত কার না ভালো লাগে। এমনি একটি পর্যটন স্পটের নজর এড়িয়ে যেতে পারে না সরকার। বিনোদন ও পর্যটন খাতে নতুন মাত্রাও যোগ হতে পারে এটি। তবে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে।

কীভাবে যাবেন: কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা স্টেশন থেকে পূর্বদিকে মরিচ্যা-পাতাবাড়ি হয়ে বরইতলী আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে সিএনজি/টমটম (ব্যাটারিচালিত গাড়ি) বরইতলী নামক স্থানে নামবেন। বাইক, নোয়া ও মাঝারি বাস নিয়েও যাওয়া যাবে। স্টেশনের দক্ষিণ দিকের রাস্তায় হাঁটা শুরু করবেন। ১০ মিনিট হাঁটার পর একটা ব্রিজ পার হয়ে তার পূর্বদিকের বৌদ্ধমন্দির, ভাবনাকেন্দ্র বিহার। অবশ্যই বিহার পর্যন্ত সিএনজি ও বাইক নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এরপর বিহারের পাশ দিয়ে লেবু বাগানের দিকে হাঁটা শুরু করবেন। এরপর দেখতে পাবেন ঝিরিপথ। ঝিরিপথ বেয়ে সাবধানতায় হাঁটা শুরু করবেন। ২ থেকে ৩ ঘণ্টা হাঁটার (ঝিরিপথের পানির ওপর নির্ভর) পর দুটি পৃথক স্থানে ও তিনটি একই স্থানে ঝরনা দেখবেন। একটি ঝরনা থেকে অপরটির দূরত্ব প্রায় ২০ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত। বড় ঝরসা আছে তিনটি। এই বড় ঝরনার একেকটির দূরুত্ব ২০ থেকে ৩০ মিনিট। তিনটি বড় ঝরনার আশপাশে আরো দুটি ছোট ঝরনা রয়েছে। আহা, কী চমৎকার দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। সৃষ্টিকর্তার অপরূপ সৃষ্টি।

কি নিয়ে যাবেন: সঙ্গে একজন ট্যুর গাইড হিসেবে স্থানীয়কে (চাকমা) নিয়ে গেলে ভালো হয়। বরইতলী এলাকায় পর্যটকদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য অনেক চাকমা ছেলে অবস্থান করেন। তবে সকালে রওনা দিতে হবে। মানে ভাবনা কেন্দ্র থেকে সকাল ৯টা বা ১০টার দিকে হাঁটা শুরু করলে ভালো। এ সময় রওনা দিলে ভালোমতো সবগুলো ঝরনা উপভোগ করে বিকেলের মধ্যে ফিরে আসা যাবে। প্রয়োজনীয় ও চাহিদামতো খাবার, পানি, লাঠি, ছুরি, কাপড় ও জুতা ইত্যাদি নিলে ভালো। কারণ ওখানে দোকান নেই। সন্ধ্যার আগেই ওখান থেকে ফিরতে হবে।

সতর্কতা: বর্ষাকালেই ঝরনা প্রাণ ফিরে পায়। তাই বর্ষাকালেই ঝরনা দর্শন ভালো দিক; তবে পাহাড়ধসের সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। ভারি বর্ষণ হলে ঝিরিপথের পানির স্রোত বেশি থাকে। এতে করে যাওয়াটা অসম্ভব ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।

বরইতলীর স্থানীয় বাসিন্দা অনিল চাকমা বলেন, স্থানীয়দের কাছে ঝিরিপথ বেয়ে এসব ঝরনার পরিচয় এক যুগের বেশি সময় ধরে। তবে পর্যটক ও ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে তা পরিচয় ঘটছে কয়েক মাস ধরে। গত তিন মাসে প্রতিদিন পর্যটকের উপস্থিতি মিলছে এসব ঝরনায়। আস্তে আস্তে সবার কাছে এসব ঝরনার পরিচয় ঘটছে। কিন্তু ঝরনাগুলোর কোনো নাম নেই। প্রতিটি ঝরনার একটি একটি করে নাম হতে পারে। এতে বিশ্বের কাছে ও পুরো বাংলাদেশের কাছে নতুন করে পর্যটন স্পটের নতুন একটি মাত্রা যোগ হতে পারে। এটি এখনো সরকারের নজরে নেই।

সোমবার ভ্রমণে যাওয়া কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা আরফাতুল মজিদ বলেন, কয়েক বন্ধুর ফেসবুকে ঝরনার ছবি দেখে আগ্রহী হয়ে দেখতে এসেছি। এমন সুন্দর ঝরনা ও ঝিরিপথের যাত্রা বাংলাদেশের কোথাও আছে বলে মনে হয় না। কক্সবাজারের এত কাছে এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য রয়েছে বিশ্বাস হচ্ছে না। সরকার উদ্যোগ নিলে এটি পরিপূর্ণ পর্যটন স্পট হতে পারে।

ঝরনায় দেখা হওয়া কক্সবাজারের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, হেঁটেই ঝরনায় যাওয়ার আনন্দটা বেশি। কখনো ঝিরিপথ কখনো পাহাড় আবার কখনো কলা, পেঁপে ও লেবুবাগান এসব। প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ ফুট উচুঁতে ঝরনা। ঝরনার পানিতে গোসল ও সাঁতার। তবে এসব ঝরনার উৎপত্তিস্থল কারো জানা নেই।

তারা বলেন, বরইতলী সড়কে বিজিবির চেকপোস্ট রয়েছে। ঝরনায় যাওয়ার সময় বিজিবি সদস্যরা বাধা দেয়। তারা বলেন, ওখানে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। দুর্গম এলাকা। চারপাশে পাহাড় আর ঝিরিপথ। কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে জানা সম্ভব নয়। মোবাইলের নের্টওয়াক নেই। কোনোভাবে বিজিবি সদস্যদের অনুরোধ করে যাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে সরকারের নজর ও আন্তরিকতা থাকলে পর্যটকরা অবাধে ভ্রমণ করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *