বাসক পাতায় ভাগ্য বদল

বৈচিত্র ডেস্ক :  বাসক পাতার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে কম-বেশি সবাইর জানাশোনা আছে। সর্দি-কাশি সারাতে এর রস বেশ কাজ দেয়। আর গ্রামাঞ্চলে এটি ব্যবহার করা হয় ক্ষেতের বেড়া হিসেবে। এর বিকট দুর্গন্ধের কারণে গবাদিপশু মুখ দেয় না। এ বাসক পাতা এখন সাতক্ষীরার গ্রামাঞ্চলে চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে। ওষুধ কোম্পানির কাছে এ পাতা বিক্রি করে ভাগ্য বদল করেছেন অনেকে।

জানা গেছে, বাসক পাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে কাশির সিরাপ। এ পাতার নির্যাস, রস বা সিরাপ সর্দি, কাশি এবং শ্বাসনালির প্রদাহ নিরাময়ে বেশ উপকারী। আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় বাসক পাতার ব্যবহার রয়েছে।

সাতক্ষীরা অঞ্চলে বাসক উদ্ভিদ জন্মায় প্রচুর পরিমাণে। এ উদ্ভিদের পাতা ছিঁড়লে গাছ মরে না। আবারও নতুন পাতা গজায়। সারা বছর চলে নতুন পাতা গজানো। ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে দিলে হয়ে ওঠে নতুন গাছ। আর্দ্র ও সমতলভূমিতে এ উদ্ভিদ জন্মায়। বিকট গন্ধের কারণে এতে ছত্রাক জন্মায় না। এমনকি পোকামাকড়ও ধরে না। এ পাতা দিয়ে ফল মুড়ে রাখলে তা ভালো থাকে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের কাঁচাপাকা রাস্তার ছয় কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ বাসক উদ্ভিদ। প্রতি বছর একশ’ টন সবুজ পাতা সংগ্রহ হচ্ছে এসব গাছ থেকে। বছরে এ থেকে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২৬ টন শুকনো পাতা।

দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে বাসক উদ্ভিদের চাষ শুরু হয়েছে। ফিংড়ি গ্রামের হাফিজুর রহমান জানান, বাসক পাতাকে আগে মনে করতাম আবর্জনা। এখন তা সংগ্রহ করে বিক্রি করছি। এতে লাভ হচ্ছে বেশ। একই গ্রামের আমিরুন বেগম জানান, তিনি কাঁচা পাতা ৫ টাকা কেজি দরে কিনে শুকিয়ে বিক্রি করছেন ৩৫ টাকা কেজি দরে।

বাসক পাতা সংগ্রহকারী দলের নেতা বিউটি বেগম বলেন, আমরা কাঁচা পাতা রস করে খাই। আগে এর কোনো অর্থনৈতিক গুরুত্ব দিতাম না। এখন সংগ্রহ করে বিক্রি করছি।

তিনি বলেন, বাড়ির বেড়ায় বাসক গাছ জন্মে। গাছ বাড়েও বেশ। এখন তা তুলে এনে শুকিয়ে বিক্রি করছি। এতে আমরা লাভবান হচ্ছি। বাসক লাগাতে পৃথক জমির দরকার নেই।

ফিংড়ি গ্রামের সাবিনা খাতুন, বীনা দাস, জোহরা খাতুন, অর্পণা দাস, রোহেলা খাতুন, আনোয়ারা বেগম, রেবেকা সুলতানা, নাসিমা খাতুন, নাজমা বেগম, হাফিজুল ইমলাম, আমিনা খাতুন বাসক পাতা সংগ্রহ করে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা মো. শামীম আলম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প ব্লুু গোল্ডের আওতায় ২৮৫ নারী ফিংড়ি ইউনিয়নে বাসক পাতা সংগ্রহ করছেন। তাদের সংগৃহীত পাতা কিনে নিচ্ছে কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি। তিনি বলেন, বাসক পাতা যেমন আনতে পারে অর্থনৈতিক বিপ্লব, তেমনি বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ পাতা দেশের ওষুধ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *