কিংবদন্তি নেতার জন্মদিনে শুভেচ্ছা

আবুল খায়ের : ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের মহানায়ক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট সংক্ষেপে বিএলএফ তথা মুজিব বাহিনীর অন্যতম অধিনায়ক, স্বৈরশাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অকুতোভয় সংগঠক, সর্বোপরি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের

স্নেহধন্য কিংবদন্তি রাজনীতিক সংগ্রামী জননেতা তোফায়েল আহমেদের আজ ৭৬তম জন্মদিন। পিতা আজহার আলী ও মাতা ফাতেমা খানমের কোল আলো করে ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর দ্বীপ জেলা ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

১৯৪৩ অব্দটি বাংলার ইতিহাসে ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ (১৩৫০ বঙ্গাব্দ) হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। বছরটি ছিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের মহাধ্বংসযজ্ঞের কাল। এ কালপর্বে বাংলায় ভয়াবহ খাদ্য সংকট, দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দেয়।

এতে প্রায় ৪০ লাখ মানবসন্তান অনাহারে মৃত্যুবরণ করে। সেদিন ছিল দেশব্যাপী মহাবিপর্যয়ের ঘোর ঘনঘটা। তখন কে জানত যে, বাংলার প্রত্যন্ত জনপদ ভোলার একটি গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এ শিশুটি একদিন বড় হয়ে বাংলার মানুষের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে নিজ জীবনকে নিবেদন করে উজ্জ্বল সূর্যের আলোকচ্ছটায় অমানিশার অন্ধকার বিদূরিত করে কেবল লোকহিতের জন্য তেজের দ্বারা তম নিরসিত করে বাঙালির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ইতিহাসের মহত্তম অধ্যায় সৃষ্টিতে অবদান রাখবেন!

ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শক্তি কর্তৃক দখলিত ভারতবর্ষ ’৪৭-এ বিভক্ত হলে পূর্ববাংলা পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়। শুরু হয় নবপর্যায়ের ঔপনিবেশিক শাসন। পাকিস্তান শাসনামলের দ্বিতীয় বছর তথা ’৪৯-এ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা হয়। একই বছর তোফায়েল আহমেদের বিদ্যালয় জীবনের সূচনা।

নিজ বাড়ির কাছে গ্রামের একটি স্কুল কোড়ালিয়া ফ্রি প্রাইমারি স্কুলে তার লেখাপড়ায় হাতেখড়ি। এরপর খায়েরহাট জুনিয়র হাইস্কুল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে বোরহানউদ্দীন হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হন। প্রাইমারি এবং জুনিয়র স্কুলের পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে ভালো নম্বর পেয়ে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করে মেধার সাক্ষর রাখেন।

বোরহানউদ্দিন হাইস্কুলে যখন ভর্তি হন তখন তাকে কষ্ট করে লেখাপড়া করতে হয়েছে। বাড়ি থেকে সাত মাইল দূরে অবস্থিত স্কুলে হেঁটে যাতায়াত করতে হতো।

স্কুলে তখন কোনো হোস্টেল ছিল না। এ সময় বিভিন্ন আত্মীয়স্বজন এবং শুভানুধ্যায়ীর বাড়িতে থেকে তিনি পড়ালেখা করেন। আজ থেকে প্রায় ৬৮ বছর আগে তখনকার ভোলায় বিদ্যুৎ ছিল না, বৈদ্যুতিক বাতি, ফ্যান এসব কিছুই ছিল না। কেরোসিনের কুপি বা হারিকেনের স্বল্প আলোই ছিল একমাত্র ভরসা।

সপ্তম শ্রেণীর পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করার পর যখন অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তির প্রস্তুতি চলছে সেসময় আকস্মিকভাবেই জানতে পারেন, ভোলা সরকারি হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে চারটি আসন খালি আছে। মাত্র চারটি শূন্য আসনের বিপরীতে শ’খানেক ছাত্র ভর্তি প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয় এবং তীব্র ভর্তি প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন।

’৫৭-এর জানুয়ারি মাসে ভোলা সরকারি স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হোস্টেলে সিট না পাওয়ায় ঠাঁই নিতে হয় এক শুভানুধ্যায়ীর বাসায়। অল্প কিছুদিন পর স্কুল হোস্টেলে সিট পান। শুরু হয় হোস্টেলে থেকে লেখাপড়ার পালা। এ সময় হোস্টেল জীবনের অবাধ স্বাধীনতায় ভেসে না গিয়ে অধ্যয়নেই মনোনিবেশ করেন। তাতে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জিত হয়। বার্ষিক পরীক্ষায় হয় প্রথম, নয় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।

পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় তার অপার আগ্রহ। প্রতি বছর স্কুল স্পোর্টসে অ্যাথলেটিক্সের প্রতিটি ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হন। প্রথমে স্কুল চ্যাম্পিয়ন, পরে মহকুমা চ্যাম্পিয়ন এবং জেলায় গিয়ে রানারআপ হন। ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল এবং সাঁতার প্রিয় খেলা। হোস্টেলের সামনেই বিশাল পুকুর।

১০০ মিটার স্প্রিন্ট, ২০০ মিটার স্প্রিন্ট, ৪০০ মিটার স্প্রিন্ট এবং হপ স্টেপ অ্যান্ড জাম্প এ চারটি ইভেন্টে তিনি ছিলেন স্কুলের গর্ব। স্কুলে পড়াকালে শেক্সপিয়রের বিখ্যাত নাটক ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’-এ শাইলকের ভূমিকায় অভিনয়ের কথা তার এখনও মনে আছে।

শাইলকের কিছু সংলাপের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘শাইলক, ইউ আর পুসিং ইউর ইল উইল এগেইনস্ট অ্যান্টনিউ টু ফার।’ স্কুল এবং আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তার নিয়মিত অংশগ্রহণ ছিল। নিজের বৈশিষ্ট্যের কথা প্রসঙ্গে বলেন, ‘বুকের কাছে সযত্নে রাখা বইগুলো নিয়ে রাস্তা দিয়ে যখন হাঁটতাম, তখন একা একা আপন মনে বক্তৃতা করতাম। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তৃতা শুনে আমি নিজেও বক্তৃতা দেয়ার চেষ্টা করতাম।’ দেশবাসী জানেন পরবর্তী সময়ে তিনি অনলবর্ষী বক্তায় পরিণত হয়েছেন।

রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে বিদ্যালয় জীবনের একটি ঘটনার স্মৃতি তর্পণ করে বলেন, ‘অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে আমার জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা আছে। ১৯৫৭ সালে ভোলায় উপনির্বাচন হয়। যে উপনির্বাচনে মতিউর রহমান শাহ বিজয়ী হন।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার সঙ্গে এসেছেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সবার প্রিয় নেতা ‘মুজিব ভাই’। নেতারা এসেছিলেন সি-প্লেনে। ইলিশা নদীতে সেই প্লেন অবতরণ করে। আমাদের স্কুল মাঠে বিশাল জনসভা। লক্ষাধিক লোক সমবেত হয়েছিল জনসভায়। সোহরাওয়ার্দী সাহেবের বক্তৃতার আগে বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা করেন। সে কী সুন্দর বক্তৃতা! তিনি যখন বক্তৃতা শুরু করেন, পুরো জনসভায় পিনপতন নিস্তব্ধতা।

মনে আছে নির্নিমেষ দৃষ্টিতে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শুনেছি। বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যদি কখনও রাজনীতি করি তাহলে এ নেতার রাজনীতিই করব। কারণ রাজনীতি করব এটা তো চিন্তার মধ্যেও ছিল না। রাজনীতির এ চিন্তা সেদিন থেকেই মাথায় প্রবিষ্ট হয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর ইকবাল হলের (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ক্রীড়া সম্পাদক, পরে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন, তারপর হলের নির্বাচিত সহ-সভাপতি, সোশ্যাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের ভিপি, ডাকসু’র ভিপি, ’৬৯-এর গণআন্দোলনে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র এবং ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন এবং ’৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

’৬৭ থেকে ’৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি থাকাকালে চারটি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে বঙ্গবন্ধু মুজিব প্রদত্ত ৬ দফা (দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ) হুবহু ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন।

উল্লেখ্য, ’৬৬-এর ৮ মে থেকে ’৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৩৩ মাস কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’র সব রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তিদানে তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ সারা বাংলায় তৃণমূল পর্যন্ত তুমুল গণআন্দোলন গড়ে তোলেন এবং ’৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু মুজিবসহ সব রাজবন্দিকে মুক্তিদানে স্বৈরশাসককে বাধ্য করেন। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ১০ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে মুক্তমানব শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

আর ’৬৯-এর ২৫ মার্চের মধ্যে তথাকথিত প্রবল পরাক্রমশালী লৌহমানব স্বৈরশাসক আইয়ুব খানকে পদত্যাগে বাধ্য করে গৌরবের যে ইতিহাস সৃষ্টি করেন তা ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের ড্রেস রিহার্সেল। ’৬৯-এর গণআন্দোলনে অর্জিত হয় বাংলার মানুষের রাজনৈতিক অধিকার তথা ভোটাধিকার। এরপর ’৭০-এর ৭ জুন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ’৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ভোলা-দৌলতখান-তজুমুদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে বঙ্গবন্ধু তাকে ২৬ বছর বয়সে মনোনয়ন দেন।

মহান জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক স্বৈরশাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগঠিত করে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন এবং সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠায় বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী তোফায়েল আহমেদের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।

যে কারণে তিনি এরশাদ আমলে চারবার এবং ’৯৫-৯৬-এ ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’-এর অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যে আন্দোলন হয় তাতে খালেদা জিয়ার আমলে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। এছাড়াও ২০০২-এ খালেদা-নিজামী জোট সরকারের শাসনামলে তাকে কারাবন্দি করা হয়।

রাজনৈতিক জীবনে সর্বমোট সাতবার তিনি কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। কিন্তু কোনো স্বৈরশাসক তাকে কারাগারে আটকে রাখতে পারেনি।

মহান মুক্তিযুদ্ধের রাষ্ট্রীয় আদর্শ- গণতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বাস্তবায়নে নিবেদিতপ্রাণ নেতার মূলমন্ত্র ‘অসত্যের কাছে কভু নত নহে শির, ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ লড়ে যায় বীর।’ রাজনৈতিক জীবনে ব্যাপক সংগ্রাম ও বিস্তর বন্ধুর পথ তাকে অতিক্রম করতে হয়েছে।

সংগ্রামী জীবনে সততা, মেধা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও বাগ্মীতার ফলে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে জনকল্যাণমূলক রাজনীতির অভীষ্ট লক্ষ্যে তিনি এগিয়ে চলেছেন। ’৭৫-এর পর রাজনীতির ক্ষেত্রে দল ও মতাদর্শ পরিবর্তনের হিড়িক পড়ে যায়। রাজনীতিকরা স্বৈরশাসকের বেচাকেনার সামগ্রীতে পরিণত হয়। প্রলোভন ও হুমকির মুখে বহু আদর্শবাদী আদর্শচ্যুত হলেও তিনি ছিলেন নির্ভীক, ব্যতিক্রম এবং অনন্য। মাথা নত করেননি।

এমনকি ১/১১-এর পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে স্ত্রী-কন্যাসহ মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছেন।

কিন্তু কোনো ধরনের প্রলোভন বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করেননি। বরং জেল-জুলুম-হুলিয়া তার রাজনৈতিক জীবনের প্রধান অলঙ্কার তথা ভূষণ হয়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনার একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে শুধু দেশের মানুষের কাছে নয়, সমগ্র বিশ্বেই বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারক হিসেবে তিনি পরিচিত। জনসাধারণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যদের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ও সংসদীয় গণতন্ত্র অগ্রসর করার ক্ষেত্রে তার প্রশংসনীয় ভূমিকা রয়েছে।

জনসাধারণের দাবি আদায়ে তার শক্তিমান কণ্ঠস্বর রাজপথে ও সংসদে আজীবন সোচ্চার! প্রায় ৬০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে একই আদর্শ ও দলে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে ‘রাজনৈতিক ইন্টিগ্রিটি’ বজায় রাখার মহত্তর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

২০০১-এর ১ অক্টোবরের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে তার অনুকূলে প্রাপ্ত নির্বাচনী রায় ছিনিয়ে নেয়া হয়। এ নির্বাচনের পর দেশব্যাপী খালেদা-নিজামীর সরকার সংখ্যালঘু জনসাধারণসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর প্রচণ্ড অত্যাচার-নির্যাতন করে। বিশেষ করে ভোলায় এ নির্যাতনের মাত্রা ছিল ভয়াবহ! এর বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হন এবং চারদলীয় জোট ও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’বিরোধী আন্দোলনে গুরুদায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮-এর ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোলা-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং জাতীয় সংসদের শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাধীন বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করার মহতী স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম সারথি সংগ্রামী গণনায়ক তোফায়েল আহমেদের শুভ জন্মদিনে তার দীর্ঘজীবন কামনা করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে নিবেদিত পঙ্ক্তিমালা-

হে নূতন

দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ

তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন

সূর্যের মতন।

রিক্ততার বক্ষ ভেদী আপনারে করো উন্মোচন।

ব্যক্ত হোক জীবনের জয়,

ব্যক্ত হোক তোমা মাঝে অসীমের চিরবিস্ময়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *