নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই গণমাধ্যমকর্মী অধ্যাদেশ

বৈচিত্র ডেস্ক : তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দশম জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষ হলেও সমস্যা নেই। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই গণমাধ্যমকর্মী (চাকরি শর্তাবলী) আইন-২০১৮ অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো কাজ করছে।

গণমাধ্যমকর্মী আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ায় মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে আয়োজিত আনন্দ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালালের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব শাবান মাহমুদের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম ও তথ্য সচিব আবদুল মালেক।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, ডিইউজের সভাপতি আবু জাফর সূর্য, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব আবদুল মজিদ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা রিয়াজ হায়দার ও হাসান ফেরদৌস, ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

তথ্যমন্ত্রী ইনু আরও বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষ হলেও কয়েকদিনের মধ্যে গণমাধ্যমকর্মী (চাকরি শর্তাবলী) আইন-২০১৮ অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে। সম্প্রচার আইনও একইভাবে অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে। এ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দফতর কাজ করছে। সংবিধানে গণমাধ্যমকে দেয়া স্বাধীনতার আলোকে আইন দুটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়।

সম্প্রচার আইনের অধীনে সম্প্রচার কমিশন গঠিত হবে; যা সব গণমাধ্যমকে দেখভাল করবে। এ আইন গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতেও এ ধরনের আইন রয়েছে।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, বর্তমান সরকার মিডিয়াবান্ধব সরকার। গণমাধ্যমকর্মী আইন না থাকায় এতদিন সাংবাদিকরা সুযোগ-সুবিধাসহ নানা অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মী আইন এবং সম্প্রচার আইন কার্যকর হলে সাংবাদিকরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অধিকার ফিরে পাবেন। নবম ওয়েজ বোর্ড নিয়ে আশঙ্কার কোনো কারণ নেই।

এতে ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সবাই অন্তর্ভুক্ত হবেন। গণমাধ্যমকর্মীদের অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে এবং দুর্নীতির বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে হবে।

তথ্য সচিব আবদুল মালেক বলেন, গণমাধ্যমকর্মী আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল। সাংবাদিকরা শ্রম আইনের অধীন থাকবেন এটা মানতে পারেনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই তার নির্দেশে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে। শিগগিরই এটি অধ্যাদেশ আকারে হলেও কার্যকর করা হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের আবারও বঙ্গবন্ধুর কাছে ফিরে যেতে হচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের সম্মান দিয়ে গণমাধ্যমকর্মী বানিয়েছিলেন। রাজাকাররা ক্ষমতায় এসে আমাদের শ্রমিক বানিয়ে দিয়েছিল। এখন বঙ্গবন্ধুকন্যা আবার আমাদের গণমাধ্যমকর্মী বানিয়ে সম্মান ফিরিয়ে দিলেন।

আবু জাফর সূর্য বলেন, ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সাংবাদিকদের শ্রমিক বানিয়েছিল। বর্তমান সরকার আমাদের সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছে। এ জন্য সরকারকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *