উন্নয়নে যুবসমাজই প্রধান চালিকাশক্তি

মুহম্মদ র ই শামীম : টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের নতুন চ্যালেঞ্জ এখন আমাদের সামনে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সফলভাবে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) পূরণে সক্ষম হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গণ্য হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হল, এমডিজির চেয়ে এসডিজি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাংলাদেশের জন্য এসডিজি বাস্তবায়নে অনেক সম্ভাবনা ও সুযোগও রয়েছে।

কারণ আমাদের রয়েছে মূল্যবান মানবসম্পদ। মানবসম্পদ যে কোনো দেশেরই শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আর মানবসম্পদের মধ্যে সবচেয়ে কর্মঠ, সৃজনশীল, সক্রিয় ও মূল্যবান অংশ হল যুবসম্পদ। বাংলাদেশ এখন মানবসম্পদের শ্রেষ্ঠ এই অংশের সোনালি সময় পার করছে। কারণ আমাদের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৩২ ভাগই এখন যুব, যারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের প্রধান পুঁজি হিসেবে গণ্য হতে পারে। এটা এখন আমাদের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিডিডেন্ড’। আমাদের সামনে এখন এসডিজি বাস্তবায়নে এই যুবসম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর সুবর্ণ সুযোগ দেখা দিয়েছে।

সারা বিশ্বেই উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নে যুবরাই প্রধান ও মূল্যবান অংশীজন হিসেবে আজ স্বীকৃত। শুধু টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়ন নয়, যে কোনো উন্নয়ন ও কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জাতিসংঘসহ প্রতিটি উন্নত রাষ্ট্র, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, নীতিনির্ধারক ও সমাজবিজ্ঞানীদের কাছে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র তথা নতুন পৃথিবীর বিনির্মাণে যুবদের সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হিসেবে এখন বিবেচনায় নেয়া হয়। তাই এসডিজির লক্ষ্য পূরণে যুবসমাজই হল আমাদের প্রাণশক্তি।

এসডিজির ১৬৯টি টার্গেটের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সঙ্গে যুবদের গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে যুবরাই অন্যতম অংশীজন; যেমন- দারিদ্র্য বিমোচন, জেন্ডার সমতা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি, মানসম্মত শিক্ষা এবং জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ। তাই ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নে যুবসমাজের অংশীজন হিসেবে ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুবসমাজই প্রধান চালিকাশক্তি, তারাই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ভূমিকা রাখে।

আশার কথা, এমডিজির সফলতার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তবায়নে সঠিক পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে। ইতিমধ্যেই সরকারের ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এসডিজির লক্ষ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সব মন্ত্রণালয়কে অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিত আকারে লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের জন্য কর্মকৌশল নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়ন করছে। তবে এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এমডিজির চেয়ে এক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ প্রয়োজন হবে কয়েকগুণ, যা আমাদের মতো দেশের একার পক্ষে জোগান দেয়া সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রায় ৫ কোটি যুবক-যুবতীকে কাজে লাগিয়ে এসডিজির লক্ষ্য পূরণ করতে যুব উন্নয়ন খাতে প্রচুর বিনিয়োগ প্রয়োজন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা আমাদের যুবসম্পদকে যথাযথ কাজে লাগানোর অমিত সম্ভাবনা ও সুযোগ এনে দিয়েছে। ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’কে হিউম্যান ক্যাপিটাল হিসেবে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপরই নির্ভর করছে সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *