পথ পেল কোম্পানিভিত্তিক বাস প্রকল্প

বৈচিত্র ডেস্ক : রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থা বদলে দিতে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক কোম্পানিভিত্তিক চার হাজার বাস নামানোর প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকনকে আহ্বায়ক করে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার তত্ত্বাবধানে কর্মপরিকল্পনা নির্মাণে ১০ সদস্যের কমিটির সিদ্ধান্তে তৈরি হয়েছে সাব-কমিটি।

‘বাস রুট রেশনালাইজেশন ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নেন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। প্রকল্প অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে বিদ্যমান বাস কোম্পানিগুলোকে একীভূত করে সমন্বিত কোম্পানির মাধ্যমে যানজট নিরসন করার কথা ছিল। এতে প্রতিটি বাস অপর বাসের সঙ্গে যাত্রী নিয়ে কাড়াকাড়ি না করে একটি অপরটির পেছনে চলার কথা। একই সঙ্গে বাসগুলো যেখানে-সেখানে যাত্রী না উঠিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো ও টিকিটের বিনিময়ে যাত্রী পরিবহন করার কথা। কিন্তু মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর প্রায় ১০ মাস স্থগিত থাকে এই প্রকল্প। গেল ১০ সেপ্টেম্বর কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা পদ্ধতি প্রবর্তন-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকনকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করে সরকার। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মো. জামাল মোস্তফাকে যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালককে কমিটির সদস্যসচিব করা হয়। এ ছাড়া বিআরটিএ, বিআরটিসি ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, ডিএমপি কমিশনার, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতিকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ে গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন বলেন, ২৩ অক্টোবর কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবার সিদ্ধান্তে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। প্রকল্পে ঢাকার ভিতর চলমান সিটি বাসগুলোর রুটকে নির্দিষ্ট রুটে বিন্যাস করে ঢেলে সাজানো এবং এসব রুটে বিদ্যমান ৩০০টির বেশি বাস কোম্পানিকে মাত্র ছয়টি কোম্পানিতে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোম্পানিগুলোর নাম দেওয়া হবে— পিংক সার্ভিস, ব্লু সার্ভিস, পেস্ট সার্ভিস, অরেঞ্জ সার্ভিস, ইয়েলো সার্ভিস ও গ্রিন সার্ভিস। একটি রুটে এক কোম্পানির বাস চলবে। এতে করে যাত্রী তোলার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তা বন্ধ হবে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ১৬টি শর্ত রয়েছে। যেমন নতুন বাস কেনার জন্য ৪-৫ শতাংশ সুদে কোম্পানিগুলোকে ঋণ প্রদান। এ ছাড়া শুধু বাস নামালে হবে না, পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ এবং ওয়ার্কশপের ব্যবস্থা করতে হবে। এই প্রকল্পের আওতায় বেতনভিত্তিক চালক নিয়োগ দেবে কোম্পানিগুলো। কমিটির আরেক সদস্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ঢাকা শহরে রাস্তার পরিমাণ ৯ শতাংশ। এর মধ্যে বাস চলাচলের জায়গা ৪ শতাংশের কিছু বেশি। অথচ রাজধানী শহরে ২৪ শতাংশ রাস্তার প্রয়োজন। তাই শুধু বাস নামালে হবে না, রাস্তার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ছয়টি কোম্পানির আওতায় চার হাজার নতুন বাস নামানো একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতে এক থেকে দেড় বছর সময় লেগে যাবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘স্বল্প সুদে ব্যাংক কোম্পানিগুলোকে ঋণ প্রদান করবে। এরপর বাস কেনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পুরনো বাসগুলো সরকারের কেনার বিষয়ে আমাদের যে শর্ত আছে তা নিয়ে সিদ্ধান্তের প্রয়োজন আছে। তবে কাজ শুরু হয়েছে, কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ হচ্ছে, এটাই ইতিবাচক দিক।’ কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মো. জামাল মোস্তফা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে একসঙ্গে বসে প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রুট, ফ্রাঞ্চাইজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মূল্যায়ন চলছে। আশা করি আমরা রাজধানীবাসীকে সুশৃঙ্খল একটা গণপরিবহন ব্যবস্থা উপহার দিতে পারব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *