ক্লান্তি আর প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলাই তাদের লক্ষ্য

বৈচিত্র ডেস্ক : ওদের কেউ ডাক্তার, কেউ শিক্ষার্থী কেউবা চাকরিজীবী। সঙ্গে স্কুটার, কাঁধে ব্যাগ-ল্যাপটপ। এসব উপকরণ নিয়েই যাত্রা। কখনও রোদ কখনও বৃষ্টি আবার কখনও প্রতিকূলতার সম্মুখীন। কিন্তু শত বাধা পেরিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অবিরাম ছুটে চলা তাদের। সড়ক বা নৌ পথের ঝুঁকি মোকাবেলা করে ছুটে চলে তাদের বাহন স্কুটার।

এ গল্প ডা. সাকিয়া হক, ডা. মানসী সাহা তুলি , মুন্তাহা রহমান অর্থি ও নুসরাত জাহান রিজভির । যারা ভ্রমণকন্যা নামে পরিচিত।

ট্রাভেলেটস অফ বাংলাদেশ-ভ্রমণকন্যা সংগঠনের ব্যাপারে স্কুটার নিয়ে ছুটে চলেন দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। জানান দেন নারীর স্বাধীন স্বত্ত্বার অস্তিত্ব। ‘কর্ণফুলী প্রেজেন্টস নারী চোখে বাংলাদেশ’ শিরোনামে ভ্রমণকন্যারা ছুটে চলেন দেশের বিভিন্ন জেলায়। শহর ও মফস্বলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার কৌশল, নারীর ক্ষমতায়ন, বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যা-সমাধান, খাদ্য ও পুষ্টি এবং সুরক্ষার কৌশল শেখান তারা।

এছাড়াও দেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং পর্যটন স্পট নিয়েও মাল্টিমিডিয়া প্রদর্শনের মাধ্যমে আলোচনা করা হয়।

ভ্রমণের মাধ্যমে নারীদের সচেতন ও ভ্রমণজগতে নারীদের সুস্থ পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ইতিমধ্যে দেশের প্রত্যন্ত ৩৩টি জেলা অতিক্রম করার পরেও তাদের এ যাত্রা অব্যহত রয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে দেশের ৬৪ জেলা অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়ে ছুটে চলছে তাদের স্কুটি। ‘ট্রভেলেটস অফ বাংলাদেশ ভ্রমণকন্যা’ তথ্য ও পরিকল্পনা সম্পাদক টুম্পা প্রামানিক জানান, ভ্রমণ করতে গিয়ে আমাদের নানা রকমের প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হয়েছে, কখনও বৃষ্টি কখনও ঝড়ের মধ্যে পড়তে হয়েছে। তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে যখন দেখি স্কুলের মেয়েরা খুব আগ্রহ নিয়ে আমাদের গ্রহণ করছে তখন সব বাধা ও ক্লান্তি ভুলে যাই।

নিজেদের অর্থায়নে ঘুরে বেড়ান ভ্রমণকন্যারা। দেশের সব জেলা প্রশাসক এবং সংবাদকর্মীরা তাদের সহযোগিতা করে থাকেন। এছাড়াও ভলেনটিয়ারগণ সহযোগিতা করেন বলেও জানান টুম্পা।

অংশগ্রহণকারী স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানান, আগে আমরা নিজের সুরক্ষা বা আত্মরক্ষার কৌশল সম্পর্কে জানতাম না, ভ্রমণকন্যারা আমাদের এ বিষয়ে সচেতন করে তুলেছে, যা ভবিষ্যতে আমাদের কাজে লাগবে।

ভ্রমণকন্যাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ভ্রমণে নারীদের সুস্থ পরিবেশ তৈরি এবং নারী শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে সে লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ভবিষ্যতে আরও ভালো কোন পদক্ষেপ নিয়ে এটি চলবে। ভ্রমণকন্যাদের সঙ্গে আরও রয়েছেন, সিলভি রহমান, কাজী শান্তা, নাজমুন নাহার, রোমানা রশিদ, মেহজাবিন ফেরদৌস, সুখী সুলতানা, নিঝুম রিপা, সাদিয়াতুল মুনতাহা, সাহিদা ইরিন জামান, সামসুন নাহার সোমা, জান্নাতুল ফেরদৌস শোভা, আসমা আক্তার ও নওশিন আক্তার।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ এপ্রিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে তাদের যাত্রা শুরু হয়। গত এক বছরে দেশের বেশিরভাগ জেলা পাড়ি দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *