কেঁচো সার উৎপাদনে ভাগ্য বদল

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের সাবেক মেম্বার আবুল হাশেম নিজেই কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদন করেন। তা নিজেদের চাষাবাদে ব্যবহার করেন। আবার প্রতি মাসে অন্তত ২৫ হাজার টাকার সার বিক্রি করেন। বছরে আয় হয় অন্তত দুই লাখ টাকা। এখন পুরোদস্তর স্বাবলম্বী আবুল হোসেন (৬৫)। কেঁচো সার উৎপাদন শুরুর পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাদের।

সংসারের হাল তো ধরেছেনই, বিদায় জানিয়েছেন অভাব-অনটনের দিনগুলোকেও। আবুল হাশেমের জীবনে এই অভাবনীয় সাফল্য এনেছে কেঁচো।

গতকাল বৃহস্পতিবার তার বাড়ি উপজেলার টাঙ্গাব ইউনিয়নের ইউনিয়নের টাঙ্গাব গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে কম্পোস্ট সার তৈরি করছেন। তার পাশে একচালা ঘরে সিমেন্টের তৈরি ২০০টি চারি।

আবুল হাশেম বলেন, চারির মাধ্যমে তিনি দেড় বছর ধরে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। গোবর, চা পাতা, কচুরিপানা লতা-পাতা ও ডিমের খোসা, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও কলাগাছ টুকরা টুকরা করে কেটে মেশানো হয়। বিশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে দিয়ে কেঁচো সার তৈরি করেন। সেগুলো চারিতে ভাগ করে রাখা হয়। প্রতিটিতে ছেড়ে দেওয়া হয় অন্তত এক হাজার কেঁচো। চটের বস্তা দিয়ে চারি ঢেকে রাখা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কেঁচো সার উৎপাদন হতে দুই মাস সময় লাগে।

প্রতি মাসে গড়ে তিনি ৪০ থেকে ৪২ মণ কেঁচো সার উৎপাদন করতে পারেন। ১৪-১৫ টাকা কেজি দরে এ সার বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে মাসে অন্তত ১৫ হাজার টাকা লাভ থাকে। পাশাপাশি চারিতে কেঁচোর বংশবিস্তার ঘটে। প্রতিটি কেঁচো এক টাকা দরে বিক্রি করেও বাড়তি আয় হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, এই সার ব্যবহার করে তিনি তার মেহগণি গাছের বাগান ও ১ একর ১৪ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করছেন। প্রথমে ২০টি মাটির চারি দিয়ে কেঁচো সার তৈরি শুরু করেন। বর্তমানে কেঁচো সারের খামারে দুই শতাধিক চারি আছে। আগে অনেক কষ্ট করে সংসার চলত। এই কেঁচো সার উৎপাদনই তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।

উপকারিতা: কেঁচো সার ব্যবহার করলে চাষের খরচ কম হয়। উৎপাদিত ফসলের বর্ণ, স্বাদ, গন্ধ হয় আকর্ষণীয়। ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

উৎপাদন ও ফসলের গুণাগুণ বৃদ্ধি পায়। তুলনামূলকভাবে উৎকৃষ্ট ও বড় আকারের ফল বা সবজি পাওয়া যায়। মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়, ফলে কেঁচো সার ব্যবহারে সেচের পানি কম লাগে। ক্ষারীয় লবণাক্ত মাটিতেও চাষাবাদ সম্ভব। রোগ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব কম হয়। জমিতে আগাছার ঝামেলা কম হয়। ফসলের বীজের অংকুরোদগম ক্ষমতা বাড়ে। অধিক কুশি, অধিক ছড়া ও দানা গঠন হয়। মাটির বুনট উন্নত হয়। রাসায়নিক সারের চাইতে খরচ অনেক কম হয়। পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকে।

গফরগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল এ প্রসঙ্গে বলেন, কেঁচো প্রতি তিন মাসে একবার বংশবৃদ্ধি করে। একেকবার প্রতিটি কেঁচো ১০০ থেকে ১৫০টি কেঁচো জন্ম দেয়। প্রতিটি বাচ্চা কেঁচোর বাজারমূল্য ৭৫। আবুল হোসেনকে দেখে এখন উপজেলার অকেকেই কেঁচো চাষ করছেন। স্বাবলম্বী হওয়ার লড়াইয়ে সাফল্য পেয়েছেন তারাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *