‘নারীকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে’

বৈচিত্র ডেস্ক : আমি একজন যোদ্ধা। আমি নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। তবে ক্ষমতা অর্জন করতে গেলে নারীকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। লক্ষ্য স্থির রেখে কাজ করতে হবে। তাহলে সফলতা আসবেই।
কথাগুলো বলছিলেন বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। অনিন্দ্যসুন্দর মুখখানিতে ফুটে উঠেছে জীবন যুদ্ধের ছাপ! মারণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ে বিজয়ীর বেশে ফিরে এসেছেন জীবনের আনন্দযজ্ঞে। তাই মুখের বলি রেখাগুলোর চাইতে শান্ত নির্মল চাহনির মাঝে এক যোদ্ধার মুখ যেন বেশি করে উঁকি দিচ্ছিল। বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে এসেছিলেন বলিউডের এই নায়িকা। আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে অংশ নিয়েছিলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ শীর্ষক আলোচনায়। সে আলোচনায় উঠে আসে তার আত্মজীবনীমূলক ‘দ্য হিলড’ বইটির কথাও। সেশনের পরেও সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে অংশ নেন তিনি।

 

নেপালের নাগরিক আর বলিউডে এক সময়ে সাড়া জাগানো নায়িকা মনীষা বলেন, আমি নারীদের নিজের ওপরে বিশ্বাস রাখতে বলবো। প্রতিষ্ঠিত হতে হলে নারীকে আশেপাশের সমাজের সঙ্গে লড়াই না করলেও চলবে। তাকে নিজের লক্ষ্যের দিকে একমুখী একাগ্রতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিন ঢাকায় আসেন মনীষা। এই তারকা তার ক্যান্সারের অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘হিলড’ নামে একটি বই লিখছেন। বইটি জানুয়ারিতে প্রকাশ হতে পারে। এই বইতে কি থাকছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে মূলত আমি কিভাবে এই মারণব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করেছি সেটা উঠে এসেছে। কিভাবে এই পুরো সময়টা কেটেছে সেটা তুলে ধরতে চেয়েছি। জীবনটাকে নানাভাবে নতুন করে বুঝে নিতে চেয়েছি।

 

ভারতজুড়ে তোলপাড় চলছে ‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ আন্দোলন নিয়ে। বলিউডের নায়িকা আর তার কাছে ‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ নিয়ে প্রশ্ন আসবে না তা কি হয়! এক দর্শক জানতে চাইলেন, নানা পাটেকারের যৌন হয়রানি নিয়ে মিটু আন্দোলন নিয়ে মনীষা কৈরালার ভাবনার কথা। মনীষা বলেন, হ্যাশট্যাগ মিটু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া যে ট্রায়াল করছে আমার তার প্রতি সমর্থন নেই। যারা দোষী তাদের বিচার করতে হবে। আমি সেটার পক্ষে। কিন্তু এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো প্রমাণ ছাড়া সবাইকে অভিযুক্ত করার পক্ষে আমি নেই। দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসায় বিশ্বাসী। অবিচার আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য। সেটা যেখানেই হোক। কোনো সম্মানিত ব্যক্তি বিনা কারণে যেন প্রমাণ ছাড়া সামাজিক হেয় না হয়, সেটির দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

 

চলচ্চিত্রে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মনীষা বলেন, ৯০-এর দশকে দেখতাম একই ধরনের ছবি নির্মাণের প্রবণতা বেশি। আমি এর বাইরে কিছু করতে চাইতাম। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম হচ্ছে তুমি যতক্ষণ তাদের ছাঁচে নিজেকে না ফেলবে ততক্ষণ সবাই তোমার দিকে আঙুল তুলবে। ফলে পথে, ট্রেনে সবাই বলবে এ কে? কোথা থেকে এসেছে। আমি এই প্রথাগত ফর্মুলার বাইরে যেতে চেয়েছি। শিল্পীকেও এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমাকেও মানুষের কাছ থেকে একটা সময় বিরূপ মন্তব্য শুনতে হতো। কে এই মেয়ে, কোত্থেকে আসছে এরকম। আমাকে সব সময় বলা হতো আমি কোনদিন স্টার হতে পারবো না। কিন্তু আমি জীবনে বেশকিছু ভালো বন্ধু পেয়েছি। যারা আমাকে আমার মতো কাজ করতে উত্সাহিত করেছে।

 

দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে মনীষা  ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বাক্যটি উচ্চারণ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করে। এত বছর পরও তারা আমাকে নিয়ে যে আবেগ দেখিয়েছে তা যে কাউকে আবেগপ্রবণ করে তুলবে। আমাকেও তুলেছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *