ফের তাইজুলের ৫ উইকেট, ফলোঅনে জিম্বাবুয়ে!

ক্রীড়া ডেস্ক :  সিলেট টেস্টে দুই ইনিংসে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসেও তার স্পিন বিষে নীল জিম্বাবুয়ে। মায়াবী স্পিনারের বিছানো জালে একে ধরা পড়লেন সফরকারীদের ৫ ব্যাটসম্যান। এতে ফলোঅনে পড়ার শংকা নিয়ে দিন শেষ করতে হলো তাদের।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৯ উইকেটে ৩০৪ রান করেছে জিম্বাবুয়ে। ফলোঅন এড়াতে এখনও রোডেশিয়ানদের দরকার ১৮ রান। কাইল জার্ভিস ৯ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন।টেন্ডাই চাতারাকে নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবেন তিনি।

তবে এখানেও কোনো কিন্তু থেকে যাচ্ছে!কারণ,বাংলাদেশ ব্যাটিং ইনিংসে বোলিং করার সময় ডান পায়ের পেশিতে টান পান চাতারা। চোটটা এতটা ভয়াবহ ছিল যে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। ফলে বুধবার এ পেসার ব্যাট করতে নামতে পারবেন কি না-শংকা রয়েছে।যদি না পারেন,তাহলে এখনই ফলোঅনে পড়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। বাকিটা শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পালা।

আগের দিনের ১ উইকেটে ২৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিন খেলতে নামে জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান চারি ১০ এবং নাইটওয়াচম্যান ডোনাল্ড তিরিপানো শূন্য রান নিয়ে খেলা শুরু করেন। রান তোলাই ছিল তাদের লক্ষ্য।

অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে দ্রুত গুঁড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে ফিল্ডিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরু থেকে চেষ্টা করেন বোলাররা। তবে সাফল্য আসছিল না। অবশেষে তাদের প্রচেষ্টা আলোর মুখ দেখে। তাইজুলের স্পিনে ঘায়েল হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিরিপানো।

নাইটওয়াচম্যান দ্রুত ফিরলেও থেকে যান ব্রায়ান চারি। শুরুটা ধীরস্থির করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে হাত খোলেন তিনি। এক পর্যায়ে রীতিমতো বাংলাদেশ বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান। ছোটান স্ট্রোকের ফুলঝুরি। ফিফটি (৫৩) তুলে চোখ রাঙাতে থাকেন। দারুণ এক ডেলিভেরিতে তার চোখ রাঙানি থামান মিরাজ। মুমিনুল হকের তালুবন্দি করে জিম্বাবুয়ে ওপেনারকে ফেরান এ অফস্পিনার।

অবশ্য মিরাজের আবেদনে প্রথমে সাড়া দেননি আম্পায়ার। পরে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তাতে তার আবেদন পজিটিভ প্রমাণিত হলে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বাধ্য হন আম্পায়ার। এতে পথ হারায় জিম্বাবুয়ে।

পরে ক্রিজে আসেন ইনফর্ম শন উইলিয়ামস। তবে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি তিনি। তাকে সেট হতে দেননি তাইজুল। দুর্দান্ত স্পিনে ফর্মের তুঙ্গে থাকা ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে ফেরান তিনি। খানিক বাদেই এ স্পিনারের শিকার হয়ে ফেরেন সিকান্দার রাজা। তিনিও সাজঘরের পথ ধরেন সোজা বোল্ড হয়ে। ফলে কোণঠাসা হয়ে পড়ে জিম্বাবুইয়ানরা।

এরপর পিটার মুরকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ব্রেন্ডন টেইলর। তাকে যোগ্য সহযোদ্ধার সমর্থন দেন নতুন ব্যাটসম্যানও। ফলে গতি পায় জিম্বাবুয়ে ইনিংস। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান তারা। পরের গল্পটা শুধুই টেইলর-মুরের। দুজনে ছোটান রানের ফোয়ারা। কি স্পিন, কি পেস-কোনো কিছু দিয়েই থামানো যাচ্ছিল না তাদের। ব্যর্থ হন স্ট্রাইক বোলাররা। অবশেষে মুরকে থামান পার্টটাইমার আরিফুল হক। মিডিয়াম পেসে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করে মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানকে ফেরান তিনি।

ফেরার আগে ১১৪ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ৮৩ রান করেন মুর। দুর্দান্ত খেলতে থাকা ব্রেন্ডন টেইলরের সঙ্গে গড়েন মহামূল্যবান ১৩৯ রানের জুটি। বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের হয়ে ষষ্ঠ উইকেটে এটি রেকর্ড রানের পার্টনারশিপ।

দিনের প্রথমার্ধে তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণি ফাঁদে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে আসেন আর যান জিম্বাবুয়ে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা। তবে থেকে যান ব্রেন্ডন টেইলর। বুক চিতিয়ে লড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত তুলে নেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি। ১৮৭ বলে ৮ চারে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন ডানহাতি ব্যাটার।

তিন অংক ছুঁয়ে পথের কাঁটা হয়ে ছিলেন টেইলর। অবশ্য এরপর বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি তিনি। দুর্দান্ত এক ডেলিভেরিতে বোকা বানিয়ে তাইজুলের ক্যাচ বানিয়ে তাকে (১১০) ফেরান মিরাজ। অল্প ব্যবধানে ব্রেন্ডন মাভুতাকে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন এ অফস্পিনার।এর মধ্যে রেজিস চাকাভাকে পঞ্চম শিকার বানিয়ে জিম্বাবুয়েকে ফলোঅনের শংকায় ফেলেন তাইজুল।এ নিয়ে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়লেন তিনি। সিলেট টেস্টে দুই ইনিংসে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন এ বাঁহাতি স্পিনার। প্রথম ইনিংসে ৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নেন তিনি। এ কীর্তি আছে এনামুল হক জুনিয়র ও সাকিব আল হাসানের। এদিন তাইজুলকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন মিরাজ। তার শিকার ৩ উইকেট।

এর আগে দ্বিতীয় দিন শেষ বিকালে বাংলাদেশের দেয়া ৫২২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় সফরকারীরা। দলীয় ২০ রানে তাইজুলের বলে মেহেদী হাসান মিরাজকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।

প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড ডাবল সেঞ্চুরি (২১৯), মুমিনুল হকের সেঞ্চুরি (১৬১) এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ফিফটিতে (৬৮) রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। ৭ উইকেটে ৫২২ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন স্বাগতিক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জিম্বাবুয়ের হয়ে ৫ উইকেট নেন কাইল জার্ভিস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *