ব্ল্যাক বেঙ্গলের জীবনরহস্য উন্মোচন

বৈচিত্র ডেস্ক : পাট, মহিষ ও ইলিশের পর এবার ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের (ছাগল) জীবনরহস্য বা জিন নকশা (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করেছেন বাংলাদেশের একদল বিজ্ঞানী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএএম ইয়াহিয়া খন্দকারের নেতৃত্বে গবেষক দল ছাগলের জীবনরহস্য উন্মোচন করেন। গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন- পোল্ট্রিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা, পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঞা, বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল জলিল, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গৌতম কুমার দেব, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. পণির চৌধুরী ও নূরে হাছনি দিশা।

প্রধান গবেষক ড. ইয়াহিয়া খন্দকার বলেন, ছাগলের জীবনরহস্য উন্মোচনের ফলে এখন এর খাদ্যাভাস, শারীরিক গঠন, চামড়া ও প্রজননসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গবেষণার দ্বার উম্মোচিত হল। ভবিষ্যতে কেউ গবেষণা করতে চাইলে এই জিনোম সিকোয়েন্সিং অনেক কাজে লাগবে।

গবেষক ড. মো. বজলুর রহমান বলেন, এর মাধ্যমে ছাগলের ওজন বৃদ্ধি, দুধ ও বাচ্চা উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ এবং মাংসের গঠন সংক্রান্ত জিন আবিষ্কার করা সহজ হবে। সহজেই ছাগলের মোট জিনের সংখ্যা, গঠন ও কার্যাবলী নিরূপণ করা যাবে।

ছাগলের জিনোমে গবেষকরা প্রায় ২ দশমিক ৯ গিগা বেজ নিউক্লিওটাইড পেয়েছেন। এর মাইটোকন্ড্রিয়াল জিনোম সাইজ ১৬ হাজার ৬৪০টি নিউক্লিউটাইড। এতে ৩৭টি জিন রয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ সিকোয়েন্স এনালাইসিস করে ২৬ লাখ পাঁচ হাজার ৩০০টি সিঙ্গেল নিউক্লিউটাইড পলিমরফিজম (এসএনপি) পাওয়া গেছে। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জিনোমের জিনের সংখ্যা ও গঠন জানার কাজ অব্যাহত রয়েছে। জিনোম হল কোনো প্রজাতি বা জীবের মোট নিউক্লিওটাইডের সমষ্টি। জানা গেছে, বাংলাদেশে মোট ছাগলের ৯০ ভাগই ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *