বিএনপি নেতা মনিরুল হকের জামিন না মঞ্জুর

বৈচিত্র ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা ৬ ও ১০ আসন থেকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর জামিন ও পুলিশের দাখিল করা রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একইসঙ্গে আদালত একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য পুলিশের দাখিল করা আবেদন মঞ্জুর করেছেন। বুধবার দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৯নং আমলী আদালতের বিচারক কাজী আরাফাত উদ্দিন এ আদেশ দেন।

জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় পুলিশের দায়ের করা সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলায় মনিরুল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য গত ৪ নভেম্বর কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করে পুলিশ। এছাড়া একই থানায় গত ২১ অক্টোবর বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়ের করা অপর একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য গত ৬ নভেম্বর আদালতে আবেদন করে পুলিশ। পরদিন ৭ নভেম্বর এ মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ একই আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে। এ মামলায় মনিরুল হক চৌধুরীর জামিন চেয়ে তার পক্ষের আইনজীবী আদালতে আবেদন দাখিল করেন। আদালত তার উপস্থিতিতে জামিন আবেদন এবং পুলিশের দাখিলকৃত গ্রেপ্তার দেখানো ও পুলিশ রিমান্ড আবেদনের শুনানির তারিখ বুধবার ধার্য করেন এবং তার উপস্থিতিতে শুনানি হয়।

মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. কাজী নাজমুস সা’দাত জানান, আদালত একটি মামলায় আমাদের দাখিলকৃত তার জামিনের আবেদন ও পুলিশের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন এবং অপর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য পুলিশের আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন।

তিনি বলেন, এসব মামলার এজাহারে মনিরুল হক চৌধুরীর নাম নেই। তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ (সদর) ও কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই) আসন থেকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং উভয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে তার পক্ষে গত মঙ্গলবার দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতকে অবহিত করা হয়েছে। সহসাই উচ্চ আদালতে আমরা তার জামিন চাইব।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জেলার চৌদ্দগ্রামে দুর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমা হামলায় বাসের ৮ যাত্রী নিহতের মামলায় মনিরুল হক চৌধুরী অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। গত ২৪ অক্টোবর জেলা জজ আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করেন। এ মামলায় গত ৪ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে তার জামিন আদেশ হলেও উল্লেখিত দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে তিনি জেলহাজতে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *