ব্যবসা বিক্রির খবরে জিএসকের শেয়ারের দামে উল্লম্ফন

বৈচিত্র ডেস্ক : ইউনিলিভারের কাছে ব্যবসা বিক্রির খবরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গ্লাক্সো স্মিথ ক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশের শেয়ারের দামে উল্লম্ফন ঘটেছে।

মঙ্গলবার দিন শেষে ডিএইতে জিএসকে’র শেয়ারের দাম আগের দিনের চেয়ে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ১৪৫৭ টাকা হয়, যা গত ৮ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।

পাঁচ মাস আগে জিএসকে বাংলাদেশ থেকে তাদের ওষুধের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর শেয়ারবাজারে এ কোম্পানির শেয়ার নেতিবাচক অবস্থায় পড়েছিল।

গ্লাক্সো স্মিথ ক্লাইন জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাদের ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার ১৪৪টি শেয়ার তারা ইউনিলিভারের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। আর ইউনিলিভার জানিয়েছে, বাংলাদেশে জিএসকে’র কনজিউমার হেলথকেয়ার ইউনিটের ব্যবসার ৮২ শতাংশ নগদ ১৬০ কোটি টাকায় কিনে নিচ্ছে তারা।

পাশাপাশি ভারতের বাজারে জিএসকে’র কনজিউমার হেলথকেয়ারের পুরো ব্যবসা ইউনিলিভার কিনে নিচ্ছে ৩৮ কোটি ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা)।

এর ফলে ভারত ও বাংলাদেশে হরলিকস, মালটোভার মতো জনপ্রিয় হেলথ ড্রিংক, গ্লাক্সোজ-ডি, সেনসোডাইনের মতো পণ্যের ব্যবসা চলে যাচ্ছে ইউনিলিভারের হাতে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মালিকানা হাত বদলের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে একটি প্রতিযোগিতামূলক নিলামের মাধ্যমে। বিশ্বখ্যাত তিন কোম্পানি নেসলে, ইউনিলিভার এবং কোকাকোলা ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি জিএসকে’র কনজিউমার হেলথকেয়ার ব্যবসা কিনে নিতে দরপ্রস্তাব দিয়েছিল।

তাদের মধ্যে ইউনিলিভারের সঙ্গেই চুক্তি করেছে জিএসকে। এই হাতবদলের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ২০টি বাজারে হরলিকসসহ জিএসকে’র কনজিউমার হেলথকেয়ারের বিভিন্ন পণ্য বিক্রির পূর্ণ স্বত্বও ইউনিলিভার পেয়েছে।

বাংলাদেশে জিএসকে’র ব্যবসার ৭০ শতাংশ ছিল কনজিউমার হেলথকেয়ার ইউনিটের, বাকি ৩০ শতাংশ ফার্মাসিউটিক্যালসের। কিন্তু লাভের প্রায় পুরোটাই আসত কনজিউমার হেলথকেয়ারের পণ্য বিক্রি করে।

এ কারণে ৪৪ বছর ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা চালিয়ে আসা এ কোম্পানি গত জুলাই মাসে চট্টগ্রামে তাদের ওষুধ উৎপাদন কারখানা এবং ফার্মাসিউটিক্যাল বিজনেস ইউনিটের সব কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশে কারখানা চালিয়ে আসা এ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ বৃহস্পতিবার এক বৈঠকের পর তাদের ফার্মাসিউটিক্যাল বিজনেস ইউনিটের উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত জানায়।

ওষুধ খাতের কোম্পানি হিসেবে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় গ্লাক্সো স্মিথ ক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেড। জিএসকে বাংলাদেশ লিমিটেডের মোট শেয়ারের ৮১ দশমিক ৯৮ শতাংশ ছিল শেয়ারবাজারে।

বাকি ১৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ১ দশমিক ২৪ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ১ দশমিক ২১ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে ছিল।

মালিকানার হাতবদলে জিএসকে’র বাংলাদেশের ১ কোটি ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৯টি শেয়ারের মধ্যে ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার ১৪৪টি শেয়ার ইউনিলিভারের হাতে যাচ্ছে।

হিন্দুস্থান ইউনিলিভারের ফিন্যান্স বিভাগের প্রধান শ্রীনিবাস পাঠক আশা করছেন, ব্যবসা হাতবদল হওয়ায় হরলিকসের বিক্রি ‘ডাবল ডিজিট’ হারে প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।

ভারতে হরলিকস কিনে নিল ইউনিলিভার : ভারতে জিএসকের হরলিকস ব্যবসা কিনে নিয়েছে ইউনিলিভার। ৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে ভারতের বাজারে গ্লাক্সো স্মিথ ক্লাইনের হরলিকস ব্যবসা কিনে নিয়েছে ইউনিলিভার।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। সোমবার দুই কোম্পানির মধ্যে ব্যবসা হাতবদলের ঘোষণা দেয়া হয় বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি গ্লাক্সো স্মিথ ক্লাইনের (জিএসকে) ভারতীয় পুষ্টি ব্যবসা হরলিকস কিনতে দরপত্র জমা দিয়েছিল বিশ্বখ্যাত তিন কোম্পানি নেসলে, ইউনিলিভার এবং কোকাকোলা। ব্যবসাটির জন্য ৪০০ কোটি ডলার আয়ের প্রত্যাশা করছিল জিএসকে।

মল্টজাত পুষ্টিকর পানীয় হরলিকস ১৮৭৩ সালে বাজারে আসে। সে সময় ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত জেমস ও উইলিয়াম হরলিক পানীয়টি তৈরি করতে শিকাগোয় একটি কোম্পানি স্থাপন করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে ব্রিটিশ সেনারা পানীয়টি ভারতে নিয়ে আসে।

ব্রিটেনে ঘুমানোর সময়কার পানীয় হিসেবে বিক্রি হলেও ভারতে হরলিকসকে আরও বড় একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে জিএসকে। তবে সুইস ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি নোভার্টিস কেনার পর হরলিকস ও বেশকিছু ছোট পণ্যের ব্যবসা পর্যালোচনা শুরু করে ব্রিটিশ কোম্পানিটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *