১৬ ডিসেম্বরের পর আ’লীগের ইশতেহার

বৈচিত্র ডেস্ক : ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পর সুবিধাজনক একটি দিনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

১১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর টুঙ্গিপাড়া সফরের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ ও বিজয় দিবসের বিরতিহীন কর্মসূচি থাকায় ১৫ ডিসেম্বরের আগে ইশতেহার ঘোষণা থেকে সরে এসেছে দলটি। ১৮ ডিসেম্বর ইশতেহার ঘোষণা হতে পারে।

বুধবার রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর ‘বিশেষ দায়িত্ব’ পাওয়া চার নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৈঠকে ইশতেহার ঘোষণার দিনক্ষণ নির্ধারণ, বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঢাকায় তলব, নির্বাচনী সফর সূচি নির্ধারণসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত চার নেতা- দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেল উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ। গত ২ দিনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। তবে বেশিরভাগ বিদ্রোহীই এখন পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারে ইতিবাচক সায় না দেয়ার বিষয়টিও ওঠে আসে বৈঠকে।

এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় নেতাদের তৃণমূলে যাওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। এতেও কাজ না হলে কাল-পরশুর (শুক্রবার-শনিবার) মধ্যে সব বিদ্রোহীকে কেন্দ্রে ডাকার নির্দেশ দেন তিনি। আজ কেন্দ্রীয় বার্তা বিদ্রোহী প্রার্থীদের জানিয়ে দেয়া হবে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকে ইশতেহার নিয়েও আলোচনা হয়। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ইশতেহার ঘোষণার কথা থাকলেও তা থেকে সরে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পর করার সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। সূত্র জানায়, ইশতেহারের অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। স্লোগান নির্ধারণ করে প্রধানমন্ত্রীর হাতে খসড়া কপি জমা দেয়া হয়েছে।

তবে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজন অনুভব করছে আওয়ামী লীগ। তার মধ্যে অন্যতম সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন ও তারুণের দাবি অন্যতম। এছাড়া মহান বিজয় দিবসের আগে তাড়াহুড়া করে কোনোভাবেই কাক্সিক্ষত ইশতেহার ঘোষণার পক্ষে নন স্বয়ং আওয়ামী লীগ সভাপতি। এজন্য ইশতেহার ঘোষণার জন্য সম্ভাব্য তারিখ ১৮ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে দলটি।

টুঙ্গিপাড়া সফরের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী সফরের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা লন্ডনে অবস্থান করায় সফরের সূচি কিছুটা হেরফের হতে পারে। তিনি দেশে ফেরার পরপরই টুঙ্গিপাড়া সফরের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী সফর শুরু করবে আওয়ামী লীগ। শেখ রেহানার ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকার পাশাপাশি এসব নেতাদের মদদদানকারী নেতাদেরও একটি তালিকা হচ্ছে। তালিকায় এখন পর্যন্ত ১৭টি আসনে কমপক্ষে ২০ জন ভিআইপি নেতার নাম উঠে এসেছ। দু-এক দিনের মধ্যে তাদেরও কেন্দ্রে ডাকা হবে।

এছাড়া যে ১৭টি আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছে সেসব আসনে যাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয়া হবে তাদেরও কেন্দ্রে ডেকে সান্ত্বনা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *