আদালতে বাবার কুকর্মের বর্ণনা মেয়ের মুখে

বৈচিত্র ডেস্ক :  রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার দীননাথ সেন রোডে দুই বছরের শিশু আয়েশাকে ‘ধর্ষণচেষ্টা’র পর ছাদ থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় বাবা নাহিদের (৪৫) বিরুদ্ধে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তার মেয়ে। আদালতে হাজির হয়ে মঙ্গলবার বাবার কুকর্মের বর্ণনা দেন সপ্তম শ্রেণীর এই কিশোরী ছাত্রী।

গত ৬ জানুয়ারি নিহত শিশুর বাবা ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে ‘ধর্ষণের পর হত্যা’র অভিযোগ এনে প্রতিবেশী নাহিদের বিরুদ্ধে গেণ্ডারিয়া থানায় মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে নাহিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পুলিশ আসার খবর পেয়ে পালানোর সময় তৃতীয় তলার বাসা থেকে জানালা দিয়ে লাফ দেয় অভিযুক্ত নাহিদ। এতে তার দুই পা ভেঙে যায়। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে নাহিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নাহিদের বাসার কাছেই টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকেন নিহত আয়েশার মা-বাবা। তারা স্থানীয় কারখানায় কাজ করেন। অন্যদিনের মতো গত ৫ জানুয়ারি বিকালেও খেলা করছিল শিশুটি। সন্ধ্যার দিকে টিনশেড বস্তির পাশের চারতলা বাড়ির সামনে তার রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। রাতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে নাহিদের মেয়ে জানান, ‘ঘটনার দিন শনিবার সন্ধ্যার দিকে বাবা বাসার বারান্দায় ছিলেন। এক সময় বাবার রুম থেকে একটি শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই। দরজা খুলে ভেতরে গিয়ে দেখি তার বাবা বিছানায় আর শিশু আয়েশা তার কোলে কাঁদছে। এ সময় বাবা আমাকে ধমক দিয়ে চলে যেতে বলেন। আমি অন্য রুমে চলে যাই। পরে তিনি (নাহিদ) শিশু আয়েশাকে তিন তলার জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়।’

৫ বছর আগে নাহিদের স্ত্রী মারা যান। এরপর আর বিয়ে করেনি সে। ১২ বছরের মেয়েকে নিয়ে ওই বাসায়ই থাকতেন। নাহিদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ফরিদ উদ্দিন বলেন, প্রতিবেশী শিশু আয়েশাকে খিচুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে নেয় নাহিদ। পরে তাকে তিনতলা থেকে ফেলে হত্যা করে। ‘তাকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। কারণ তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর। সুস্থ হলে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ তিনি বলেন, শিশুদের ওপর নির্যাতন এক ধরনের বিকৃত মানসিকতা। মাদকাসক্তও বড় কারণ। তাছাড়া সামাজিক অবক্ষয়ও এর জন্য দায়ী। আর যেসব জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে সেখানে অভিভাবকরাও একটু কম সচেতন। এ বিষয়ে শিশুদের প্রতি আলাদা নজর দেয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *