মে’কে আলটিমেটাম এমপিদের

বৈচিত্র ডেস্ক : ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে পার্লামেন্টে ফের তোপের মুখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা। এমপিদের নতুন এক সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক শুরুর অনুমতি দিয়েছেন স্পিকার জন বারকাও।এর আগামী ইইউ’র সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি যদি পার্লামেন্টে পাস না হয়, তাহলে তিন দিনের মধ্যে ‘প্ল্যান বি’র আওতায় একেবারে নতুন পরিকল্পনা আনতে বাধ্য হবেন তেরেসা।

স্পিকারের এ সিদ্ধান্ত তেরেসার সরকার আরও নাজুক করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রেক্সিটবিষয়ক চুক্তি নিয়ে আগামী ১৫ জানুয়ারিকে ভোটাভুটির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন তেরেসা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

ভোটাভুটিতে চুক্তিটি পাস না হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ব্রেক্সিটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে একটা চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট বা ‘নো ডিল’র দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ব্রিটেন। কিন্তু সম্পাদিত চুক্তির ব্যাপারে যেমন বহু এমপির আপত্তি, একইভাবে নো ডিলের ক্ষেত্রেও প্রবল আপত্তি রয়েছে।

নো ডিল যাতে না হয় সে ব্যাপারে তেরেসাকে সতর্ক করেছে বিরোধী লেবার পার্টিও। এছাড়া ১৫ তারিখের ভোটাভুটিতে তেরেসার পরাজয় হলে নতুন করে অনাস্থা প্রস্তাব বলেও জানিয়ে দিয়েছেন লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি করবিন।

নো ডিল যাতে না হয় আগে থেকেই পদক্ষেপে নিচ্ছেন এমপিরা। মঙ্গলবার সরকারের আর্থিক বিলে (ফাইন্যান্স বিল) সংশোধনী চেয়ে সংসদে একটি প্রস্তাব পাস হয়।

এর ফলে চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট কার্যকর করতে গেলে সরকার জনগণের ওপর করের বাড়তি বোঝা চাপাতে পারবে না। আর্থিক ক্ষমতা সীমিত করে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট কার্যকর সরকারকে নিরুৎসাহিত করতেই এই কৌশল।

বিরোধী দল লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা ইভেট কোপার এবং ক্ষমতাসীন দলের সাবেক মন্ত্রী নিকি মর্গান যৌথভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতারা এতে সমর্থন দেন।

আর ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির ২০ জন আইনপ্রণেতা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। মাত্র ৭ ভোটের ব্যবধানে (পক্ষে ৩০৩, বিপক্ষে ২৯৬) পাস হওয়া প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র জন্য বড় রকমের হার বলে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী ২৯ মার্চ ব্রেক্সিট কার্যকর হবে বলে দিনক্ষণ ঠিক করা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *