এবার কথা হবে দেশীয় অ্যাপসে

বৈচিত্র ডেস্ক : হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবারসহ বিভিন্ন অ্যাপসের পর এবার দেশীয় অ্যাপসের মাধ্যমে কম খরচে কথা বলার সেবা চালু হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিডকম অনলাইন লিমিটেড, আমবার আইটি, মেট্রোনোট এবং লিংক থ্রি- এই ৪টি প্রতিষ্ঠানকে অ্যাপসের মাধ্যমে কলিং সুবিধা চালু করার অনুমোদন দিয়েছে বিটিআরসি। এর আগে ইন্টার ক্লাউড নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে এই সেবা চালু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, হোয়াটসঅ্যাপ-ভাইবারের মতো কথা বলার সুবিধা রেখে দেশের ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ কিছু ফিচারসহ অ্যাপ তৈরি করেছেন তারা।দেশে জনপ্রিয় ওই বিদেশি অ্যাপগুলোর কোনো জবাবদিহিতা নেই। এগুলো থেকে সরকার রাজস্বও পাচ্ছে না। এখন একই সেবা বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো দিলে জবাবদিহিতার পাশাপাশি আয়ও হবে সরকারের। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এই সেবা চালু করার কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জোর প্রচেষ্টা চলছে।সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলোকে বিটিআরসির কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোকে ৫ কোটি টাকা জামানত এবং বিটিআরসির ৫ জন কর্মকর্তাকে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার শর্ত মেনে চলতে হবে। আন্তর্জাতিক ইনকামিং ও আউটগোয়িং কল এবং লোকাল আন্ত:অপারেটরদের কল আইএলডিটিএস পলিসি-২০১০ এবং ইন্টারকানেকশন রেগুলেশন অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে।শুধু ন্যাশনওয়াইড আইপিটিএসপি লাইসেন্সপ্রাপ্তরা এই সেবা পরিচালনা করতে পারবে। কমিশন কর্তৃক ট্যারিফের আলোকে লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী বিটিআরসি, মোবাইল অপারেটর (থার্ড পার্টি), আইসিএক্স এবং অন্যান্য অপারেটরদের মধ্যে প্রাপ্য রেভিনিউ শেয়ারিং করতে হবে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন যাতে বৈধ ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) এবং ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে এই সেবা পরিচালনা করতে হবে।বিডিকম অনলাইন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম ফারুক আলমগীর বলেন, হোয়াটসঅ্যাপ-ভাইবারের মতো অ্যাপগুলোতে শুধু ইন্টারনেটে অ্যাপ থেকে অ্যাপে কথা বলা যায়। কিন্তু ইন্টারনেটভিত্তিক টেলিফোন বা আইপি টেলিফোনের অ্যাপে সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্কে বা ল্যান্ডলাইনে কথা বলা যাবে। এ অ্যাপে ইন্টারনেট, সাধারণ মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বা ল্যান্ডফোন যে কোনো মাধ্যমে কথা বলার সুবিধা রয়েছে। আর এই আইপি ফোন থেকে আইপি ফোনে কথা বলতে কোনো খরচ লাগে না।আম্বার আইটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল হাকিম বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে তারা এই সেবা প্রদান করতে পারবেন। এজন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিদেশি অ্যাপসের দাপটে দেশীয় অ্যাপসগুলো দেশের মানুষের কাছে কতটুকু জনপ্রিয়তা লাভ করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার এবং বিটিআরসি পলিসি সাপোর্টে পাশাপাশি কোম্পানিগুলো ভালো মানের সেবা প্রদান করতে পারলে দেশীয় অ্যাপসগুলো দ্রুত দেশের বাজারে গ্রাহকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলেন তিনি আশাবাদী।জানা গেছে, বর্তমানে আইপি টেলিফোনি অপারেটরগুলো ডেস্কটপে ব্যবহারের জন্য সফট ফোনের এবং সাধারণভাবে ব্যবহারে টেলিফোন সেট বা হার্ডফোনের অপশন দিয়ে থাকে। কিন্তু একজন গ্রাহক এমন ক্ষেত্রে আইপি ফোন ব্যবহারের মবিলিটি নিতে গেলে অসুবিধায় পড়েন। গুগল প্লে থেকে এ সংক্রান্ত অ্যাপ ডাউনলোড করলেও দেখা যায় সেখানে অনেক পোর্টের লিমিটেশন থাকে। আবার টেলিফোন অপারেটরগুলো থেকে পোর্টগুলো বন্ধ থাকে।ওয়াইফাই দিয়ে কথা বলা গেলেও জিপিআরএস, থ্রিজি-ফোরজি দিয়ে কথা বলতে পারেন না। কিন্তু এখন আইপি টেলিফোনের অ্যাপে এসব কোনো সমস্যা থাকবে না এবং আইপি টেলিফোনি সেবায় এটি নতুন মাত্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশে এখন আইপিটিএসপি সেবার জন্য ৪১ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *