নেট বলার থেকে নায়ক

ক্রিড়া ডেস্ক :  প্রেসবক্সে ম্যাচের শুরুর আগে টসের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের নামের  তালিকা সরবরাহ করা হয়। আজ শুক্রবার ঢাকা ডায়নামাইটস ও রংপুর রাইডার্সের ম্যাচেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। কিন্তু ঢাকার একাদশ দেখে সবার চোখ কপালে। সেরা একাদশে এক নতুন মুখ। তার নামের সঠিক উচ্চারণ কী হবে সেটাও জানে না কেউ। সবারই একি প্রশ্ন। কিন্তু এই তরুণ ম্যাচে এমন কিছু করে দেখালেন যার কারণে চলে এসেছেন লাইম লাইটে।

ঢাকা ডায়নামাইটস হারলে এ অচেনা তরুণের ঘাড়েও কিছুটা দোষ পড়তো। কেননা ম্যাচের টার্নিং পয়েন্টে দুটি সহজ ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ইশ্বরের এক আজব লীলা খেলা। ম্যাচের সবকিছু জমিয়ে রেখেছিলেন এই অচেনা তরুণের জন্যই। যার বদৌলতে তিনি অখ্যাত থেকে খ্যাত হয়ে গেলেন। পোলার্ড-রাসেল-গেইলদের ছাপিয়ে ম্যাচের সবটুকু আলো কেড়ে নিলেন তার নিজের দিকেই।

শ্বাসরুদ্ধকর এ ম্যাচে ঢাকার জয়ের নায়ক এ তরুণ। কিন্তু কী নাম তার? ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও জানেন না কেউ। যে যেভাবে পারেন সেভাবেই লিখছেন। ম্যাচশেষের সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার হয়ে কথা বলতে আসলেন সেই তরুণ। তাই তার দিকে প্রথম প্রশ্ন ধেয়ে গেল আপনার নামের উচ্চারণ কী হবে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘আলিস আল ইসলাম।’

ছিলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের নেট বোলার। নিজের জীবনের প্রথম ম্যাচে এসেই তিনি হয়ে গেলেন ম্যাচসেরা। গেইল-মাশরাফি-রুশো-সাকিব-পোলার্ড-রাসেলদের মতো তারকা থাকলেও এই আলিসই হয়েছেন ম্যাচসেরা। হবেন ই-বা না কেন? নিজের তৃতীয় এবং দলীয় ১৮তম ওভারে করলেন হ্যাটট্রিক। পরপর তিন বলে আলিস তুলে নিলেন মিথুন, মাশরাফি ও ফরহাদ রেজার উইকেট। চার ওভার বল করে ২৬ রান দিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচেই নেন চার উইকেট।

যেভাবে উথান আলিসের

আলিস ছিলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের নেট বোলার। কোচ খালেদ মাহমুদের নজরে পড়ে উঠে এসেছেন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে। আলিস বলেন, ‘আমি ঢাকা ডায়নামাইটসের নেট বোলার ছিলাম। আগে আমি ঢাকা ফাস্ট ডিভিশনে খেলেছি। নেট বোলিং করার সময় সুজন (ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন) স্যার আমাকে দেখেন। দেখে ওনার বিশ্বাস হয় যে আমি ভালো করতে পারব, তারপর আমাকে টিমে নেয়। তারপর টিম ম্যানেজমেন্ট, প্লেয়াররা আমাকে সাপোর্ট করে। তারপর আমি সেরা একাদশে।’ এভাবেই আলিস জানালেন তার উত্থানের পেছনের গল্প।

ঢাকার সাভারের বালিয়াপুরে আলিসের জন্ম। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বারে তিনি পৃথিবীর আলো দেখেন। কীভাবে উঠে এসেছেন? এমন প্রশ্নে আলিস জানান, ‘আমি ক্রিকেট খেলা শুরু করি কাঠালবাগান গ্রিন ক্রিসেন্ট ক্লাব থেকে। তারপর কয়েক বছর সেকেন্ড ডিভিশন খেলার পর  ফাস্ট ডিভিশন খেলি। তারপর এই বিপিএল।’

একাদশে থাকবেন এটাও জেনেছেন গতকাল সন্ধ্যায়। আলিস বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় জানতে পারি খেলব। স্যার আমাকে ডেকে বলেন শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে। আমি প্রস্তুতই ছিলাম। এত বড় স্টেডিয়ামে, এত বড় টুর্নামেন্টে প্রথম খেলা নার্ভাসেরই বিষয়। আমি প্রথমে নার্ভাসই ছিলাম, তবে তারপরও ভালো হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *