স্মার্ট সহকারীর কথা

বৈচিত্র ডেস্ক :  আয়েশ করে কাজ করা অনেকেরই শখের বিষয়। শুয়ে-বসে শুধু বললেই যদি সব কাজ হয়ে যেত, তবে আনন্দের সীমা আর থাকত না। অন্যান্য কাজের কথা বাদ দিলেও রাতে ঘুমানোর আগে যে বাতি বন্ধ করার কাজটিতে অনিহা থাকেই, আবার সমাধান খুঁজতে বিছানার পাশে অতিরিক্ত একটি সুইচও লাগিয়ে নিয়ে থাকেন অনেকে।

মানুষকে আয়েশি করে তুলতে কিংবা একসঙ্গে একাধিক কাজ করার সুবিধা দিতেই মনে হয় তৈরি করা হয়েছে আমাজন ইকো, গুগল হোমসহ অন্য স্মার্টহোম যন্ত্রগুলো। শুধু যে এই যন্ত্রগুলোই আমাদের নিত্যদিনের বেশ কিছু কাজ সহজ করে দিচ্ছে এমন নয় বরং এই যন্ত্রগুলোর কেন্দ্রে যে ভার্চ্যুয়াল সহকারী বা অ্যাসিস্ট্যান্টরা রয়েছেন, সেসব আরও বহু কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে সাহায্য করছে। আমাজন অ্যালেক্সা এবং গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট এমনই ভার্চ্যুয়াল সহকারী।

ভার্চ্যুয়াল সহকারী হলো এমন একটি সফটওয়্যার, যা কথার নির্দেশগুলো শুনে শুনে কাজ করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে পারে। শুধু বলা হবে আর তখনই কেবল কাজ করবে এমন নয়, বরং আগে থেকে সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হলে, যথাসময়ে সেটি করতে শুরু করবে নিজে থেকেই। কথামতো কাজ করার জন্য যদিও প্রথমে কিছুটা প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন হবে, তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, এটি প্রতিনিয়তই শিখতে থাকে।

দিনের শুরুতে সভাগুলো সম্পর্কে জানা, দিনের আবহাওয়া বা অফিসে যাওয়ার জন্য কোন পথ বেছে নিলে যানজট কম থাকবে, সেগুলোও বলে দিতে পারে। আর গান শোনা বা একান্তই ব্লু-টুথ স্পিকার হিসেবে যুক্ত করেও এগুলো ব্যবহার করা যাবে। যেকোনো তথ্য জানা, ক্যালকুলেটর বা অনুবাদক হিসেবেও কাজ করতে পারে এগুলো। আবার যদি বলা হয় যে ‘আমার পছন্দের গানগুলো বাজাও’, তবে এটি সত্যি সত্যিই আপনার পছন্দের গানগুলো বাজাতে শুরু করবে। তবে তারপর যদি সেখানে আপনার পরিবারের অপর কেউ এসে বলে যে তার পছন্দের গানগুলো বাজাতে, তবে আপনারগুলো বন্ধ হয়ে নতুন গান বাজতে শুরু করবে। এখন এই ভার্চ্যুয়াল সহকারী কীভাবে বুঝতে পারছে যে কে কথা বলছে! আমরা যেভাবে কারও কথা শুনেই বুজতে পারি যে কে কথা বলছে, ঠিক একইভাবে এই স্মার্ট যন্ত্রগুলোও বুঝতে পারে। যত বেশি সময় এখানে নির্দেশনা দেওয়া হবে, তত বেশি এটি ভয়েসগুলো আলাদা হিসেবে নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে পারবে।

ফোন কল, ই–মেইল বা এসএমএস করার মতো কাজগুলো যেমন করা যাচ্ছে, পাশাপাশি ছোট ছোট গেম খেলারও সুযোগ আছে। আর আলাদাভাবে মজা না করলেও কখনো কখনো নিজে থেকেই মজার মজার উত্তর দেয় এরা। আবার কিছু অনুরোধ করার সময় প্লিজ বলা হলে কাজ সম্পন্ন করার পর ধন্যবাদ দিয়ে থাকে।

স্মার্ট এই যন্ত্রগুলো যেমন যেকোনো তথ্য ইন্টারনেট থেকে খুঁজে তার ফলাফল জানাচ্ছে, অন্যদিকে এগুলো অন্য প্রায় সব স্মার্ট যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করতেও নির্দেশনা দিতে পারে। শীতপ্রধান দেশগুলোয় ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ একটি নিয়মিত কাজ। দিনের বিভিন্ন সময়ে তাপমাত্রা কমানো বা বেশি করা, একেকটি ঘরের জন্য আলাদা করে নির্ধারণ করা ইত্যাদি কাজ স্মার্ট থার্মোস্ট্যাটের মাধ্যমে করা হয়, তবে এই পরিবর্তন থেকে এটি শিখতে থাকবে। ফলে নির্দিষ্ট সময়গুলোতে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পরিবর্তন করে দেবে। আবার যদি ঘরে মানুষ উপস্থিত আছে কি না, এটি জানার জন্য সেন্সর ব্যবহার করা হয়। তবে মানুষের অনুপস্থিতিতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বন্ধ রাখা হবে। শুধু তাপমাত্রাই নয়, ঘরের লাইট, ফ্যানসহ সব যন্ত্রই এই স্মার্ট সহকারী তথা স্মার্ট হাবের অংশ হয়ে যেতে পারে।

স্মার্ট সহকারী যুক্ত যন্ত্রগুলো

আমাজন অ্যালেক্সা ও গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট একটি প্ল্যাটফর্ম বলা যেতে পারে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র যুক্ত করা যাচ্ছে। এই যন্ত্রগুলো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য তৈরি করা হচ্ছে এমন নয়। সব ধরনের কাজ করার জন্য প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন যন্ত্র বাজারে আসছে। তবে স্মার্ট সহকারী যুক্ত যন্ত্রগুলো আমাজন বা গুগল নিজে তৈরি করছে না, বরং তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বহু প্রতিষ্ঠান নিত্যনতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসছে। নিয়মিত ব্যবহারে ঘরের সব যন্ত্রই ধীরে ধীরে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে এই স্মার্ট সহকারীর সঙ্গে।

পরিচিত যন্ত্রগুলো যেমন স্মার্ট হচ্ছে, আবার নতুন নতুন রোবট তৈরি করা হচ্ছে ঘরের কাজে সাহায্য করার জন্য, লিনস্ক এমনই একটি রোবট, যেখানে আমাজন অ্যালেক্সা ব্যবহার করা হয়েছে।

স্মার্টফোনেও স্মার্ট সহকারী
প্রতিনিয়ত বিভিন্ন তথ্য যেমন ঘরে জানার প্রয়োজন হতে পারে, একই দরকার হতে পারে ঘরের বাইরে অবস্থানের সময়ও। ঘরের ভেতরের সমাধানের জন্য ডিভাইস আছে, আর আমরা সব সময় তাকে রাখছি, এমন অপর ডিভাইস হলো মুঠোফোন। ঘরে ও ঘরের বাইরে প্রায় সব সময়ই এ ডিভাইসটি আমাদের সঙ্গে থাকল। মুঠোফোন থেকে স্মার্ট সহকারী ব্যবহার করার আরও একটি সুবিধা হলো, মুঠোফোনে যেমন শুনতে পারা যায়, তেমনি স্ক্রিনে দেখার সুযোগও থাকছে। পাশাপাশি কথা বলে সব লিখে লিখে নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।

অ্যালেক্সা, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন থেকে ব্যবহার করার জন্য নির্ধারিত অ্যাপ রয়েছে। অতিরিক্ত হিসেবে আইফোন ব্যবহারকারীরা তাঁদের ফোনে সিরি নামের অপর একটি স্মার্ট সহকারী অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।

দামও বেশি নয়
দেশের বেশ কয়েকটি অনলাইন দোকান থেকে সরাসরি এই স্মার্ট হোম যন্ত্রগুলো কেনার সুযোগ রয়েছে। আমাজন ইকো যন্ত্রের মধ্যে সব থেকে ছোট হলো আমাজন ইকো ডট। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের ইকো ডটগুলোর দাম ২৫ ও ৩০ ডলার, যা দেশীয় বিভিন্ন ই–কমার্স সাইটে চার হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা দামে বিক্রি করছে। আবার দেশে ইকো-স্মার্ট স্পিকারগুলোর দাম নয় হাজার ৮৯০ টাকা (১০০ মার্কিন ডলার)। ছোট আকারের গুগল হোম মিনির দাম ২৯ ডলার, যা দেশে পাওয়া যাচ্ছে ৫০০০ টাকায়। আর গুগল হোমের প্রথম মডেলটির দাম ৮৯ ডলার। গত বছরের শেষের দিকে বাজারে আসা গুগল হোম হাবের দাম ৯৯ ডলার। গুগল হোমের অন্যান্য ডিভাইসের সব সুবিধার পাশাপাশি এখানে বেশ বড় আকারের একটি ডিসপ্লে রয়েছে।

তবে এই স্মার্ট সহকারীগুলো স্মার্টফোন থেকে ব্যবহার করার জন্য অতিরিক্ত কোনো খরচ নেই। প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনে প্রথম থেকেই গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাপ ইনস্টল করা থাকে, আইফোন ব্যবহারকারীদের এটি আলাদাভাবে ডাউনলোড করতে হবে। তবে আইফোনের সিরি অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েডে ব্যবহার করার সুযোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *