চীনা গোলাপের বাজিমাৎ

বৈচিত্র ডেস্ক :  ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ফুল আর ভালোবাসায় একাকার হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুর। সূদুর চীন থেকে আনা চীনা গোলাপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের হিড়িক। পারস্পারিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য ব্যবহার হয় নানা রকম উপহার সামগ্রী। তবে এর মধ্যে ফুলই হতো সর্বোত্তম। এ কারণে এবারের ভালোবাসা দিবসে ফুল কিনে ভালোবাসা বিনিময়ের সুযোগে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। ভালোবাসা দিবসের আজ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আর প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে ফুল বিক্রেতাদের সূত্রে জানা গেছে।

ভালোবাসা বলে কথা, সেটা প্রেমিক প্রেমিকার হোক বা বন্ধু-স্বজন, স্ত্রী-সন্তান, পিতা-মাতা যার ক্ষেত্রেই হোক। সেই ভালোবাসাকে উপজীব্য করে রাখতে সারা বিশ্বে প্রতিবছরই পালন হয়ে থাকে ভ্যালেনটাইন ডে। এ দিনটি পালনের মূল্য উপকরণ ফুল। সেই দিনটিকে পালন উপলক্ষ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুরের পাপন ফুল বিতান আমদানি করেছে চীনা লাল গোলাপ ফুল। দেশীয় গোলাপের পাশাপাশি এই গোলাপের আকার বড় ও আকর্ষণীয় হওয়ায় ফুল ক্রেতাদের সিংহভাগের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে চীনা গোলাপ। প্রতিটি চীনা গোলাপ বিক্রি হয়েছে ২ শ’ টাকা দামে। পাশাপাশি দেশীয় ফুলও পূর্বের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি দেশীয় গোলাপ ২০ টাকা থেকে শুরু করে আকার অনুযায়ী ১শ’ টাকা দরেও বিক্রি হয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন বসন্ত বরণ দিয়ে শুরু হয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস এই দুই দিনের জন্য ফুল ব্যবসায়ীরা যেন অনেক দিন পূর্ব থেকেই অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষা যেমন ব্যবসার তেমনী নতুন কিছু উপহার দেয়া।

সৈয়দপুর শহরের প্রায় ২০টি পয়েন্টে এ দিবসকে কেন্দ্র করে ফুলের পসরা সাজিয়েছে দোকানীরা। নিয়মিত দোকানের পাশাপাশি মৌসুমী দোকানগুলোতেও ফুল কিনেতে সারাদিনই ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে বিকেল বেলা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফুলের দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল।

গোলাপের পাশাপাশি রজনীগন্ধার মূল্য ২০ টাকা, জারবেরা ৪০ টাকা, গ্যালোডিয়াস জাম কালারের ৩০ টাকা, বেগুনী ৩০ টাকা, সিদুর কালার ৩০ টাকা, হলুদ ৩০ টাকা, লাল-সাদা-কমলা-কুসুম কালারের দাম ৪০ টাকা।
দোকানে দোকানে হলুদ, লাল শাড়ী আর সাদা সহ নানা রংয়ের পাঞ্জাবী পড়া প্রেমিক প্রেমিকাসহ সাধারণ মানুষের দলে দলে ফুল কেনার দৃশ্য ছিল এ দুই দিন সৈয়দপুরে অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।

পাপন ফুল বিতান এন্ড বিয়ে বাড়ির স্বত্বাধিকারী মবিনুল ইসলাম এ্যাপোলো জানান, এবারই প্রথম চীনা গোলাপ আমদানি করা হয়েছে। পহেলা ফাল্গুন তেমন একটা বিক্রি না হলেও ভ্যালেনটাইন ডে তে এ ফুলটি ব্যাপক বিক্রি হয়েছে। কারণ প্রথম দিন অনেকে ফুল দেখে আকৃষ্ট হলেও দামের কারণে হয়তো নিতে পারেনি। কিন্তু পরের দিন চীনা গোলাপ নিতেই বেশি আগ্রহ দেখা গেছে ক্রেতাদের মধ্যে। আগামীতে আরও বিভিন্ন দেশের নামী-দামি ফুল আমদানী করে সৈয়দপুরবাসীকে ভিন্নতা উপহার দিতে চাই। চীনা গোলাপের মধ্যে লাল-কমলা, হলুদ-গোলাপী, সাদা-কুমুস কালারের থাকলেও লাল ও কুমুস কালারের ফুলের কদরই বেশি দেখা গেছে। এপর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। মধ্য রাত পর্যন্ত আরো প্রায় ৫ লাখ টাকার বিক্রির আশা করছি।

একইভাবে সৈয়দপুর প্লাজার সাদিয়ানা ফুল দোকানের মালিক জানান, গতবারের চেয়ে এবার ফুলের চাহিদা অনেক বেশি। তবে দিনের বেলার চেয়ে রাতেই ফুল কিনতে আসছে ক্রেতারা। তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীদের মধ্যে ফুল কেনার আগ্রহ বেশি থাকলেও সব বয়সী মানুষও এদিন ফুল কিনেছে। এমনকি শতবর্ষী বৃদ্ধ ও একেবারে শিশুও ফুল কিনতে এসেছে দোকানে। যা সত্যিই অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *