হুয়াওয়ে: চীন-মার্কিন শত্রুতার কেন্দ্রে যে কোম্পানি

বৈচিত্র ডেস্ক : স্মার্টফোন কোম্পানি হুয়াওয়েকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের যে তীব্র বিবাদ চলছে তা শুক্রবার নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ এনে হুয়াওয়ে যে মামলা করেছে – তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীনা সরকার।

বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে – হুয়াওয়ে ভেড়ার মত চুপচাপ হাঁড়িকাঠে মাথা পেতে দেবে না।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ই সংসদে বলেছেন, হুয়াওয়েকে সরকার সবরকমের সহযোগিতা করবে।

কিন্তু কি নিয়ে এই বিবাদ? আর এর প্রতিক্রিয়াই বা কি হবে?

মাস তিনেক আগে মার্কিন অনুরোধে হুয়াওয়ের উর্ধতন নির্বাহী মেং ওয়ানঝু-কে আটক করে কানাডার কর্তৃপক্ষ। মার্কিন সরকারও তাদের ফেডারেল এজেন্সিগুলোকে নির্দেশ দেয় যেন তারা হুয়াওয়ের কোন সামগ্রী ব্যবহার না করে। আমেরিকায় হুয়াওয়ের পণ্য ও সেবা বিক্রির ওপরও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। মার্কিন সরকার বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, হুয়াওয়ের মাধ্যমে চীন প্রযুক্তি চুরি এবং গুপ্তচরবৃত্তি করছে ।

কানাডায় গ্রেফতার হওয়া মিজ মেং হচ্ছেন হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন জেনফেংএর মেয়ে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল – তিনি ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ফাঁকি দিয়ে হুয়াওয়ের ব্যবসা সম্পর্কে আমেরিকান ব্যাংকগুলোকে মিথ্যা বলেছিলেন। তবে মিজ মেং এবং হুয়াওয়ে উভয়েই ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এর পর যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া শুরু করে হুয়াওয়ে।

হুয়াওয়ে হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। চীনের শেনঝেন শহরে এক চোখ-ধাঁধানো বহুতল ভবনে তাদের প্রধান দফতর।

হুয়াওয়ে এখন বিশ্বজুড়ে মোবাইল ফোনের বাজারের ১৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তারা নোকিয়া এবং এরিকসনকে পেছনে ফেলে দিয়েছে অনেক আগেই, আর এখন স্যামসাং আর এ্যাপলের পরেই তারা আছে তৃতীয় স্থানে।

হুয়াওয়েকে নিয়ে উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে তাদের নেক্সট-জেনারেশন ফাইভজি মোবাইল নেটওয়ার্ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *