জলবায়ূ পরির্বতনের বলি দুইকোটি বাংলাদেশী শিশু

বৈচিত্র ডেস্ক:   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বর্তমান সময়ের একটি বহুল আলোচিত বিষয় এবং এর প্রভাব নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে ও এর সম্ভাব্য ঝুঁকির দিকগুলো তুলে ধরে প্রায়ই প্রকাশিত হয় নানা গবেষণা ও প্রতিবেদন।

”জলবায়ু পরিবর্তন শিশুদের জীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, সেই বিষয় নিয়ে শুক্রবারে বিবিসি বাংলার ওয়েব সাইটে একটি প্রতিবেদন পড়ে খুবই খারাপ লাগল। বাংলাদেশের সরকারের প্রতিটা ক্লাসে শিশুদের জন্য, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক, একটি বই বাধ্যতামূলক করা উচিত । তাতে সমাজে শিশুরা সচেতন হবে এবং মানুষকেও সচেতন করতে পারবে।”

মি: ইসলাম জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এই রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে এবং বলেছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মূলত বাংলাদেশের সবচাইতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আরও বেশি ঝুঁকি তৈরি করছে। তারা তাদের শিশুদের পর্যাপ্ত খেতে দিতে পারছে না, তাদের সুস্থ রাখতে পারছে না। তাদের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত পরিবারগুলো যখন ঘরবাড়ি হারাচ্ছে, তখন সেই পরিবারের শিশুরা অর্থ উপার্জনের জন্য কোন কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে, যেটা তাদের জন্য নানা সমস্যা সৃষ্টি করছে। যেহেতু শিশুরা অল্প বয়সেই নিজের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হচ্ছে তাই ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে তাদের সচেতন করার উদ্যোগ অবশ্যই নেয়া উচিত।

”বিটিআরসি বলেছে, দেশের মোবাইল অপারেটর কোম্পানির কোনটাই ঢাকা শহরের বাইরে যথাযথ “ফোর-জি” ইন্টারনেট সেবা দিতে পারছে না। মোবাইল কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পূর্ণ প্রতারনা করছে বলে আমি মনে করি। যতদূর জানি, আমাদের দেশের বাইরে সব দেশেই যারা ফোর জি সার্ভিস দেয়, সেটা দেখলেই বোঝা যায়, কতটুকু গ্রাহক ঠকাচ্ছে আমাদের নেটওয়ার্ক কিংবা মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো। কিছুদিন আগে প্রীতিভাজনেষুর মাধ্যমে বিবিসি বাংলা এদের প্রতারণা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করতে চেয়েও আজও নিশ্চুপ কেন? নাকি আপনারাও তাদের সাথে হাত মিলিয়েছেন!”

কারণ সুনির্দিষ্টভাবে ফোর জি নেটওয়ার্ক সেবা দেবার নামে প্রতারণার কোন বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করার কোন প্রতিশ্রুতি প্রীতিভাজনেষুতে আগে দেয়া হয়নি। কারণ এই প্রতারণার প্রশ্নটি উঠে এসেছে তেসরা এপ্রিল বিটিআরসির দেওয়া রিপোর্টের পর। আমরা বলেছিলাম বাংলাদেশে মোবাইল সেবার খরচ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার কথা, সে পরিকল্পনা আমাদের এখনও আছে। তবে এর জন্য কোন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। আর ফোর জি চালু হবার পর এর সেবার মান ও গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা নিয়ে একাধিক রিপোর্ট আমরা ইতোমধ্যেই করেছি। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

”২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ফোর জি ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক চালু হয় বাংলাদেশে।কিন্তু ফোর জি শুধু বড় বড় কয়টি শহরে চলে। গ্রামে তো থ্রিজি নেটও চলে না। এত স্লো যা বলার ভাষা নেই। ফোর জি নেট নেই বললেই চলে। শুধু গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে।”

মি: রায়- বিটিআরসি তাদের রিপোর্ট-এই কিন্তু বলেছে যে, সম্প্রতি বড় চারটি শহরে এক ড্রাইভ টেস্ট চালিয়ে তারা দেখেছে, ফোর-জি সেবায় গ্রাহকদের অন্তত সাত এমবিপিএস ডাউনলোড স্পিড পাবার কথা থাকলেও, বাস্তবে কোন কোন জায়গায় ডাউনলোড স্পিড পাওয়া যাচ্ছে এর অর্ধেক।

”বিবিসি বাংলা’র ফেসবুক পেজে ‘বাংলাদেশি টিভি অনুষ্ঠানে দর্শকদের অনীহা কেন?’ এতে লেখা হয়েছে, ঢাকার একজন গৃহিনী বলছেন – “ভারতীয় চ্যানেলে বিজ্ঞাপন কম…ওদের বাচনভঙ্গিও আমার কাছে যথার্থ মনে হয়। যেমন ওরা আইছস-গেছস বলে না। কিন্তু বাংলাদেশের নাটকে দেখবেন কাজের ছেলেও যে ভাষা বলে, নাটকের নায়কও একই ভাষায় কথা বলে।” একটা দর্শকের মত অনুযায়ী পক্ষপাতিত্ব কেন? তাহলে বিবিসি বাংলা কি ভারতীয় চ্যানেলগুলোর পক্ষে কথা বলছে? বাংলাদেশের নাটক নিয়ে উক্ত গৃহিনীর যুক্তিটি লেম লজিক মনে হয়েছে আমার কাছে।”

ঢাকার গৃহিনীর সঙ্গে আপনি অবশ্যই দ্বিমত পোষণ করতে পারেন মি: মেনহাজুল ইসলাম তারেক। কিন্তু বাংলাদেশে টিভি অনুষ্ঠান দেখার ক্ষেত্রে ভারতীয় চ্যানেলগুলো বাজারের অন্তত ৩০ শতাংশ দখল করে রয়েছে। এটাই বাস্তব চিত্র। এবং কয়েক বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করা এক জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশে নারীদের ৯০ শতাংশ টেলিভিশন দেখেন আর এদের ৬০ শতাংশই দেখেন ভারতীয় বাংলা চ্যানেলগুলো। কেন ভারতীয় চ্যানেল তারা পছন্দ করছেন সে প্রশ্নেই ওই গৃহিনী তার মতামত দিয়েছেন। আপনার মতামতের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

”ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচন নিয়ে রিপোর্ট প্রচার হচ্ছে তুলনামূলকভাবে কম, যদিও এই ইস্যুতে শ্রোতাদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।”

আপনি ঠিকই বলেছেন ভারতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচন নিয়ে এখনও পর্যন্ত খুব বেশি রিপোর্ট আমরা প্রচার করিনি। তবে ভারতে নির্বাচন শুরু হচ্ছে ১১ই এপ্রিল এবং সাত দফায় তা চলবে ১৯শে মে পর্যন্ত অর্থাৎ একমাসের ওপর। নির্বাচনের কভারেজ নিয়ে রেডিও ও অনলাইনে আমাদের বিভিন্ন আঙ্গিকের রিপোর্ট প্রচারের অবশ্যই পরিকল্পনা রয়েছে। আপনাকে ধন্যবাদ।

”ফেসবুক লাইভ মাত্র ১০ হাজার লোক দেখে তাই বন্ধ করে দেওয়া হল কিন্তু রেডিওতে কত মানুষ খবর শোনে বলে মনে করেন? সেটা কি ফেসবুক লাইভের থেকে খুব বেশি হবে? যদি রেডিও-র উপর জরিপ চালানো হয় তাহলে রেডিও অনুষ্ঠানও বন্ধ করতে হবে। যে দশ হাজার লোক ফেসবুক লাইভ শুনতো তারা কি রেডিও শুনবে বা বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে গিয়ে খবর শুনবে? সেই ১০ হাজার শ্রোতা হারাল বিবিসি বাংলা।”

”বিবিসি ফেসবুক লাইভ বাদ দেয়ার কড়া প্রতিবাদ জানাই। এর মাধ্যমে আমরা বিবিসির স্টুডিও দেখতে পেতাম । কীভাবে খবর পরিবেশিত হয় তাও দেখতাম । যখন আশা করছি ঢাকা থেকে ফেইসবুক লাইভ হবে তখন লন্ডনেরটাও বন্ধ করলেন। এটা ঠিক হয়নি। আস্তে আস্তে দেখার দর্শকও বাড়ত।”

মি: হক – মি: জসিমউদ্দিন- গত সপ্তাহের প্রীতিভাজনেষুতে আমরা বলেছি আমাদের অডিয়েন্স ইনসাইট বিভাগ তিন মাস ফেসবুক লাইভ পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে যে এই সম্প্রচারের তেমন কোন চাহিদা নেই। খুব কম মানুষই এই অনুষ্ঠান ফেসবুকে দেখছেন, যারা দেখেন তারাও গড়ে মাত্র ৪০ সেকেন্ড দেখেন। ফেসবুকে আমাদের ফলোয়ারের সংখ্যা এক কোটি কুড়ি লক্ষ, কিন্তু মাত্র হাজার দশেক লোক এই অনুষ্ঠান দেখেন, শেয়ার করেন বা সেখানে কমেন্ট করেন। তিন মাসে গুরুত্বপূর্ণ খবর হয়েছে। কিন্তু ফেসবুক লাইভে শ্রোতাসংখ্যা বাড়েনি। এটাই বাস্তবতা।

আর মি: হক আপনি রেডিওর কথা বলেছেন। দুবছর আগে চালানো জরিপ অনুযায়ী বিবিসি বাংলার বেতার শ্রোতা সংখ্যা ৭৫ লাখ। আপনাদের ধন্যবাদ লেখার জন্য।

”জলবায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধি এমনিতেই সারা বিশ্বের জন্য বেশ উদ্বেগ ও আতঙ্কের বিষয়। আমেরিকা, কানাডাসহ বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর কারণে বাংলাদেশের মতো সমতল ভূমির নিম্নাঞ্চলগুলো এমনিতেই বেশ ঝুঁকি ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আমাদের দেশেও এর কিছু উপসর্গ আমরা ইতোমধ্যে দেখতে পাচ্ছি। অসময়ে খরা, বৃষ্টি, প্রচন্ড শীত কিংবা অত্যধিক গরম, জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ইত্যাদি। যেমন গত একমাসে প্রবাহিত বেশক’টি ঘূর্ণিঝড়। বসন্তকাল এখনও শেষ হয়নি, গ্রীষ্মকালও শুরু হয়নি, অথচ অসময়ে হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় নিশ্চয়ই জলবায়ুর উষ্ণতাজনিত প্রভাব। বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো এ বিষয়ে যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।”

আপনি ঠিকই বলেছেন মি: রহমান। জলবায়ু পরিবর্তন ও তার নেতিবাচক প্রভাব এখন সারা বিশ্বে আমরা দেখতে পাচ্ছি। আবহাওয়ার অনেক পরিবর্তন এখন নজিরবিহীন ও ঘটছে অসময়ে, যা সত্যিই উদ্বেগের। বায়ুমণ্ডলের আরও ক্ষতি রুখতে বিজ্ঞানীরা কার্যকর পদক্ষেপের কথাও বলছেন। কিন্তু বিভিন্ন দেশগুলো কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে সেটাই এখন দেখার বিষয়। আপনাকে ধন্যবাদ লেখার জন্য।

”বাংলাদেশে বর্তমানে সুপারশপের জনপ্রিয়তা এবং সংখ্যা বাড়ছে । সুপারশপে যারা কর্মরত তারা খুবই নিম্ন মানের জীবন যাপন করেন। বেতনও অনেক কম। নেই কোন উৎসব ছুটি । কাজ করানো হয় ছাত্র-ছাত্রী,শিশু শ্রমিকদের দিয়ে। শ্রম-ঘন্টা নীতিও মানা হয় না। বাংলাদেশে অনেক সুপারশপ রয়েছে । তারা কেন এই রকম করে তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে একটি প্রতিবেদন আশা করছি।”

মি: খান- সুপারশপ বলতে- আপনি ধরে নিচ্ছি সুপার মার্কেট বা বড় বিপনীবিতানের কথা বলছেন। তবে সব সুপারশপে শ্রমিকদের অবস্থা নিশ্চয়ই একইরকম নয়। এটা আসলেই বড়ধরনের সমস্যা কিনা সে বিষয়ে আমরা খোঁজ নেব এবং প্রয়োজনে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির প্রস্তাব মাথায় রাখব।

”এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের পর থেকে রাজউক ও ফায়ার সার্ভিস অনেকটা তৎপর হয়ে উঠছে বলে আমার মনে হচ্ছে, ও ঢাকার বহুতল ভবনগুলো পরিদর্শন করছে, এবং যেগুলা নিয়মের বাইরে গেছে, সেগুলো নোটিশের মাধ্যমে জানিয়েও দেওয়া হচ্ছে। এটা অবশ্যই একটা ভালো উদ্যোগ, কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, দুর্ঘটনা ঘটার আগে কেন সেগুলো রাজউক, বা সরকারের নজরে আসেনি ?আর রাজউক যে পরিদর্শন শুরু করেছে, এটা কি শুধু রাজধানী ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে,নাকি ঢাকার বাইরেও বড় বড় শহরগুলোতেও পরিদর্শন শুরু করবে?”

এ প্রশ্ন নিয়েই বিবিসি প্রবাহ টিভিতে একটি রিপোর্ট আমরা প্রচার করেছি। সেখানে রাজউক কর্মকর্তারা জনবলের অভাবের কথা বলেছেন। কেন এই পরিদর্শন হয়নি তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। এমন কথাও বলেছেন যে তাদের পরিদর্শনের পর নক্সা বর্হিভূত কাজ করা হয়েছে এবং যেগুলো করার অনুমতি ছিল না ভবন মালিকরা তা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তবে এই পরিদর্শন ঢাকার বাইরেও হওয়া উচিত এবং হবে বলেই আমরা আশা করব। আপনাকে ধন্যবাদ।

”বিবিসি নিউজ বাংলার ওয়েব সাইটে ঢোকা মাত্রই চোখে পড়লো “রাশিয়ার অস্ত্র কেনা নিয়ে তুরস্ককে হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের।” এর আগেও অনেক প্রতিবেদনে দেখেছি “অস্ত্র কোন দেশের বেশি এবং কার কাছে কত আধুনিক অস্ত্র আছে?” এত ভয়ংকর অস্ত্র, আধুনিক এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র আসলে কাকে মারার জন্য? কেইবা তৈরি করছে এ অস্ত্রগুলো? কেনইবা অস্ত্র তৈরির এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা? সব কিছুর মূলে মানুষ। ভয়ংকর ভয়ংকর সব রোগের বিরুদ্ধে বিশ্ব বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে, অধিকার বঞ্চিত মানুষদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য হাজার হাজার সংগঠন কাজ করছে। তাহলে সেই মানুষদের মারার জন্য এত অস্ত্র প্রতিযোগিতা কেন? জানি এর উত্তর আপনারাও দিতে পারবেন না, আমিও পারবো না। তবুও আমরা বিশ্ববাসী মানুষেরা এসব ভেবে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করা উচিত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *