মালিবাগে রেললাইন ঘেঁষে কাঁচা বাজার, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

বৈচিত্র ডেস্ক:  মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনে অবস্থিত বাজার থেকেই নিয়মিত বাজার করছেন মালিবাগ ও গুলবাগ এলাকার বাসিন্দারা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্ধারিত একটি বাজার থাকলেও অযত্ন-অবহেলায় ও সংস্কারের অভাবে তা প্রায় অব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়েছে। ১০-১৫টি মাছের দোকান ছাড়া ডিএসসিসির বাজারে আর কিছুই নেই।

চাল, ডাল, তেল, লবণ, সবজি সব কিছুই পাওয়া যায় রেললাইনের পাশের দোকানগুলোতে। মালিবাগ রেলগেট থেকে গুলবাগ বিশ্বরোড পর্যন্ত এ বাজার বিস্তৃত।

তিন শতাধিক ব্যবসায়ী এ রেললাইনের পাশে অবস্থিত বাজারে পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভারের কারণে বর্তমানে এ এলাকাতে অধিবাসীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। পাঁচ লাখেরও অধিক মানুষ মালিবাগ-গুলবাগ এলাকায় বসবাস করে। এ বাসিন্দারা মালিবাগ রেললাইনঘেঁষা বাজার থেকে কেনাকাটা করেন।

গড়ে প্রতি ২০ মিনিট পর পর এ রেললাইনের ওপর দিয়ে ছুটে যায় ট্রেন। এতে প্রতি মুহূর্তেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। সকালবেলা এ চিত্র আরও ভয়াবহ। শুধু রেললাইনের পাশেই নয়, রেললাইনের ওপরেও পলিথিন বিছিয়ে সবজির দোকান খুলে বসে দোকানিরা।

আর লাইনে দাঁড়িয়ে ওই সবজির দাম করেন ক্রেতারা। ট্রেন আসার সংকেত পেলেই ঝটপট লাইনের ওপরেই বাজার পণ্য রেখে দু’পাশে দাঁড়িয়ে যায় ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

ট্রেন চলে গেলে ফের শুরু হয় আগের মতো কেনাবেচা। এতে প্রায়ই এ স্থানে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেই থাকে। সরেজমিন দেখা যায়, মালিবাগ বিশ্ব রোডের পাশে রেললাইনের দু’পাশে সারি সারি দোকান ঘর।

এর মধ্যে মুরগি ও সবজির দোকানই বেশি। বিক্রেতারা ক্রেতাদের পছন্দমতো মুরগিগুলো রেললাইনের ওপরে দাঁড়িয়ে জবাই ও প্যাকেট করে। এছাড়া লাইনের দু’পাশে বস্তা বস্তা পেঁয়াজ ও রসুন পড়ে থাকতে দেখা যায়।

রেললাইনের দুই পাশের ফাঁকা জায়গাগুলোতে গোডাউনের কাজ সারেন দোকানিরা। বাজার করতে আসা এমনই একজন মোফাজ্জল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ভাই আমি ১৫ বছর ধরে এ এলাকাতে বসবাস করি।

সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত জায়গায় বাজার বলতে কিছুই নেই। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই এখানে বাজার করতে হয়। আমার মতো মধ্যবিত্ত মানুষের বড় বড় সুপার শপে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।

ফলে কিছুটা ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত এখানে বাজার করি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘এ বাজার বন্ধ করতে পারবেন না। নেতা আর কর্মীগো পেট ভরতেই এ বাজার।

১৫ বছরে অন্তত ৫০ বার এদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের যোগসাজশে এরা আবার বসে।’ বাজার পরিচালনা করতে যদিও একটি সমিতি রয়েছে, তাদের কাজ হচ্ছে টাকা তোলা আর নেতাদের মনোরঞ্জন করা।’

জানা যায়, মালিবাগ রেললাইনের দু’পাশের দোকান ঘরগুলো থেকে মালিবাগ কাঁচা বাজার সমিতির নামে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হয়।

এ হিসেবে দৈনিক প্রায় ২ লাখ ও মাসে ৬০ লাখ টাকার ওপর চাঁদা ওঠানো হয়।

মালিবাগ কাঁচা বাজার সমিতির সভাপতি মোকছু ওরফে হাতকাটা মোকছু ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লালের কাছে এ বিষয়ে কথা বলতে সমিতির কার্যালয়ে গেলে তারা কাজ আছে জানিয়ে কার্যালয়ে তালা দিয়ে কথা না বলেই চলে যান।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম আশরাফ তালুকদারের মুঠোফোনে কয়েক দফা কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। রেললাইনের পাশে অবৈধ বাজারের বিষয়ে বক্তব্য প্রয়োজন জানিয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি তার কোনো উত্তর দেননি।

কমলাপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়াসিন ফারুক মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, এ বাজার বহুবার উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

সকালে উচ্ছেদ করলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশে বিকালেই তারা আবার বসে পড়ে। রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ব্যবস্থা না নিলে রেললাইনের পাশে অবস্থিত এ অবৈধ বাজার বন্ধ করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *