ডেমরায় তৃতীয় দফায় পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট, সড়ক অবরোধ

বৈচিত্র ডেস্ক : প্রস্তাবিত মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন ও বকেয়া মজুরিসহ ৯ দফা দাবিতে তৃতীয় দফায় ডেমরার রাষ্ট্রায়ত্ত দুই পাটকল শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেছেন।

৯৬ ঘণ্টার ডাকা ধর্মঘটের প্রথম দিনে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

এ সময় লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস ও করিম জুট মিলের হাজার হাজার শ্রমিকরা তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সড়কে আগুন জ্বালিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

এ ঘটনায় সড়কে ৪ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শ্রমিকরা চলে গেলে পুনরায় যান চলাচল স্বভাবিক হয়। বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ ও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের পক্ষ থেকে ৯৬ ঘণ্টার এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এর আগে দুই দফায় ধর্মঘট ও কয়েকবার সড়কে কর্মসূচি পালন করলেও দাবি পূরণে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই নতুন করে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে শ্রমিক নেতারা জানান। এছাড়া মজুরি বাড়ানোর দাবিসহ বকেয়া টাকা কবে নাগাদ পাওয়া যাবে তার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পর্যন্ত মেলেনি। এবার কাজ না হলে পরবর্তীতে ২৫ এপ্রিল প্রত্যেক মিলে শ্রমিক সভা ও ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল টানা ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট করা হবে। ৬ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ রাখা হবে।

লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের সিবিএর কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, মজুরি কমিশন শ্রমিকদের প্রাণের দাবি। শ্রমিকের পেটে ভাত নেই। সন্তান-সন্তুতি নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিনযাপন করছেন তারা। শ্রমিকরা উৎপাদনে বিশ্বাসী। রাজপথ-রেলপথ অবরোধ শ্রমিকেরা পছন্দ করে না। পেটের জ্বালায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা শ্রমিকবান্ধব সরকার। আমরা তার কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, তিনি যেন শ্রমিকদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- নিয়মিত সাপ্তাহিক মজুরি ও বেতন প্রদান, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি এবং উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ-গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকদের বীমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন ও বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, সেটআপ অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, পাট মৌসুমে পাট কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *