মানুষ কেন শরীর নিয়ে এত কথা বলে! অবাক নায়িকা

বিনোদন ডেস্ক:  বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। অভিনয়দক্ষতা দিয়ে মন জয় করেছেন অনুরাগীর। কিন্তু এই নায়িকাকেই ‘মোটা’ শরীর নিয়ে নানা কটূক্তি শুনতে হয়েছে। তাই বরাবরই বডি-শেমিংয়ের বিরুদ্ধে লড়েছেন তিনি। ধুয়ে দিয়েছেন কটূক্তিকারীদের।

নানা বাজে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন বিদ্যা বালান। এমনও হয়েছে আত্মবিশ্বাসের জায়গাটিও হারাতে বসেছিলেন। বললেন, ‘আমার জীবনের একটা অংশ জুড়েই এসব ছিল, নিজের শরীর নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে।’

ওজন ঝরানোর জন্য কম পরিশ্রম করেননি ‘ডার্টি পিকচার’ নায়িকা। কিন্তু বডি-শেমারদের মুখ থামেনি। নিজের শরীরের প্রতিই বিতৃষ্ণা এসে গিয়েছিল তাঁর।

‘খুব রাগ হতো, ঘেন্না হতো। আমি চেয়েছিলাম শরীর বদলে দিতে। ভেবেছিলাম, যদি শরীর বদলাতে পারি, তবে হয়তো সবাই আমাকে গ্রহণ করবে। ভালোবাসাসিক্ত হব। কিন্তু প্রচুর ওজন কমানোর পরেও, পাতলা হওয়ার পরেও (কয়েকবার ঘটেছে এমন) বুঝেছি, সবাই আমাক পুরোপুরি গ্রহণ করেনি। তো সত্যি কথা হলো, অন্যকে তুষ্ট করার জন্য নিজের শরীর বদলানোর চেষ্টা বৃথা,’ বলেন বিদ্যা বালান।

আর সবকিছুর পরে নতুন আলোয় নিজের দিকে তাকানো শুরু করেন বিদ্যা। ‘নিজের শরীরকে সম্মান ও গ্রহণ করা শুরু করলাম এবং এটা দীর্ঘ যাত্রা। নিজেকে সুখী হিসেবে খুঁজে পেলাম, সৌন্দর্য অনুভব করলাম,’ বলেন বিদ্যা।

বিদ্যা বালান বুঝতে পারেন না, কেন মানুষ ওজন ও ডায়েট নিয়ে এত কথা বলে। এ নায়িকা বলেন, “অবাক লাগে, মানুষ শরীর নিয়ে এত কথা বলে কেন। কোথাও যাবেন তো দেখবেন  এসব আলাপই হচ্ছে, ‘ওহ! তুমি ওজন কমিয়েছ,’ ‘তোমার ওজন বেড়ে গেছে’, ‘কী ডায়েট চলছে,’ ‘কী এক্সারসাইজ করো?’… এসব বিরক্তিকর, খুবই সংকীর্ণ। সত্যি করে বলছি, এসব শুনতে একদমই ভালো লাগে না। মনে হয়, খুব সহজেই মানুষ শরীর নিয়ে কথা বলতে পারে, অন্যের শরীর বিচার করে, মন্তব্য করে, কারণ তা দৃশ্যমান।”

বিদ্যা বালান বিশ্বাস করেন, কেউ মোটা শরীর নিয়ে কটূক্তি করলে যায় আসে না। এটা প্রমাণ করে, ওই মানুষটির মন কত নোংরা। ‘আমাদের শরীর যদি বদলেও যায়, তোমার মন বদলাবে না! ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন,’ বডি-শেমারদের উদ্দেশে বলেন বিদ্যা।

আগামীতে অক্ষয় কুমারের বিপরীতে ‘মিশন মঙ্গল’ সিনেমায় দেখা যাবে বিদ্যা বালানকে। এ ছাড়া সুপারস্টার অজিত কুমারের বিপরীতে তামিল থ্রিলার ‘নেরকোন্ডা পারভাই’ ছবিতে দেখা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *