সুশিক্ষিত ও স্বশিক্ষিত হওয়া জরুরি

বৈচিত্র ডেস্ক: ‘একদম রেস্ট নেয়া যাবে না। পারতেই হবে, আপনাকে পারতে হবে। আপনাকেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে। টাইম সেনসিটিভ হতে হবে। এটা খুব জরুরি।’

তরুণদের উদ্দেশে এ কথা বলেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নবনির্বাচিত সভাপতি ড. রুবানা হক।

তিনি আরও বলেন, তারুণ্য ও নারী- এ দু’টিকে আমি কখনও এড়িয়ে যেতে পারি না। তরুণদের জন্য আমি সদাসর্বদা প্রস্তুত।

আমার তরুণ বন্ধুদের বলব, ‘শিক্ষা মানুষকে চির তরুণ করে। শিক্ষার নেশাটাকে যদি জিয়িয়ে রাখতে পারেন তাহলে আপনি আজীবন তরুণ থাকবেন।শিক্ষা ছাড়া কোনো বিকল্পও নেই। তাই তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রথম কথাটিই হল সুশিক্ষিত ও স্বশিক্ষিত হওয়াটা জরুরি। তারপর বাকি সব কিন্তু ফরমুলায় পড়ে যাবে।

ড. রুবানা হক ১৯৬৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কামরুদ্দিন আহমেদ ছিলেন জুট মিলের ম্যানেজার। মা হাদিয়া আহমেদ গৃহিণী ছিলেন। মা ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।

ভিকারুননিসা স্কুল থেকে তার পড়াশোনা শুরু। খেলাধুলা, গান-বাজনা, বন্ধু-বান্ধব, ঘুড়ি ওড়ানো- এসবের দিকে ঝোঁক বেশি থাকায় পড়াশোনায় পিছিয়ে ছিলেন। স্কুলজীবনের শুরুতে পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় তিনি খুব মন খারাপ করেন। এরপর মায়ের অনুপ্রেরণা নিয়ে নতুন উদ্যমে পড়াশোনা শুরু করেন।

মনে জিদ নিয়ে ঠিক করেন আর ফাঁকিবাজি করা চলবে না। এরপর আদাজল খেয়ে পড়লেখায় লেগে পড়েন। ক্লাস সেভেনের ফাইনালে তিনি দ্বিতীয় হন। এরপর তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়।

এসএসসিতে তিনি ঢাকা বোর্ডের মধ্যে তৃতীয় হয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা করতেন। এরপর তিনি হলিক্রস কলেজে ভর্তি হন।

ওই সময় তিনি ৫০০ ভোটে বিজয়ী হয়ে কলেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এইচএসসিতে তিনি ঢাকা বোর্ডে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। স্কুলজীবন থেকেই তিনি বিটিভিতে অনেক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতেন।

এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। পরে ইডেন কলেজ থেকে বিএ পাস কোর্সে ভর্তি হন।

বিএতে তিনি ফার্স্ট ডিভিশন ফার্স্ট হন। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি সরকারি চাকরি না করে আমেরিকান এক্সপ্রেসে চাকরি শুরু করেন। এরপর তিনি আনিসুল হকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

বিয়ের পর তিনি বেশ কিছুদিন গৃহিণী হিসেবেই সংসার করেন। পরে স্বামীর সহযোগিতায় তিনি ধানমণ্ডির সাউথ ব্রিজ স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন।

বেশ কিছুদিন শিক্ষকতার পর তিনি ১৯৯৪ সালে মোহাম্মদী গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে ব্যবসা সামলানোর দায়িত্ব নেন। তার ছোট সন্তান মারা যাওয়ার পর তিনি অনেক ভেঙে পড়েন।

সিদ্ধান্ত নেন যে কোনো পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুদের পাশে থাকার। তিনি তার ছোট ছেলের নামে শ্রমিকদের বাচ্চাদের জন্য ‘সারাফের পাঠশালা’ নামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ‘সারাফ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ গঠন করেন। তিনি তার প্রয়াত স্বামীর নামেও ‘আনিসুল হক ফাউন্ডেশন’ গঠন করেন।

তিনি বলেন, এ কাজগুলো আমাকে তৃপ্তি দিয়েছে। তিনি দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতেন। এরপর তিনি ‘ঞরসব ড়ভ সু খরভব’ নামে একটি কবিতার বই লিখেন।

২০০৬ সালে তার বইটি সার্ক সাহিত্য পুরস্কার পায়। পড়াশোনা ছাড়ার ২০ বছর পর তিনি আবার পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নেন।

বিএড কোর্সে অংশ নেন। এরপর ২০০৬ সালে ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংলিশে মাস্টার্স করেন ও গোল্ড মেডেল অর্জন করেন।

ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি ২০১৮ সালে তিনি ভারতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ড. রুবানা হক ২০১৩-১৪ সালে বিবিসি আয়োজিত ১০০ নারীর মধ্যে একজন ছিলেন। এছাড়াও তিনি ডিএইচএল ডেইলি স্টার আয়োজিত ১৫তম বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাওয়ার্ড ‘Outstanding Women in Bangladesh’ পুরস্কার পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *