বগুড়া উপনির্বাচনে যেতে চায় বিএনপি

বৈচিত্র ডেস্ক:  দলীয় ফোরামে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হলেও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় বিএনপি। একই সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনের একটি পদে প্রার্থী দিতেও আগ্রহী। গতকাল সোমবার ২০ দলের বৈঠকে শরিকদের এ বার্তাই দিয়েছে বিএনপি। এদিন জোটভূক্ত অন্যান্য দলের নেতাদের মান ভাঙাতে এ বৈঠকের আয়োজন করে দলটি।

গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নারী হত্যার প্রতিবাদ এবং কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে দুদিনের অনশন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

বিএনপি তার নেতৃত্বাধীন ২০ দলের শরিকদের মান ভাঙাতে দীর্ঘদিন পর এ বৈঠক করেছে। জোটের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া দূরত্ব এবং তাদের না জানিয়ে এমপিদের শপথগ্রহণের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে দলটি। এবারের বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধিও ছিল।

বিকাল ৪টায় বৈঠক শুরু হয়। পরে জোটের শীর্ষ নেতারা একসঙ্গে ইফতার করেন। জাতীয় নির্বাচনের পর গত চার মাসে জোটের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। এই সময়ের মধ্যে বৈঠক হয়েছে মাত্র দুটি। জোটের এক নেতাআমাদের সময়কে বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিএনপি বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি। এ নির্বাচনে কারচুপি হলে তা নিয়ে বড় আন্দোলনে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে বলেও জানানো হয়।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে শপথগ্রহণ না করায় এ আসন শূন্য হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আসন থেকে জয়ী হন।

সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জোট সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হন। জোটকে গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয় আলোচনায় আসে। বিএনপির নির্বাচিত নেতারা কেন শপথ নিল তা নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির দুই নেতা ‘গ্রহণযোগ্য’ কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

জোট নেতারা প্রশ্ন করেন, বিএনপি সংসদে যাওয়ার পর আমরা কী এই সংসদকে অবৈধ বলতে পারব? জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, শপথ নিয়ে এমপিরা সংসদে গিয়ে বলেছেন, এটি অবৈধ সংসদ। কারণ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি, নীলনকশার নির্বাচন কেউ মেনে নেয়নি।
নজরুল আরও বলেন, সংসদ এবং সংসদের বাইরে-দুই জায়গায় খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং জনগণের দাবি নিয়ে কথা বলতে হবে। সে জন্যই সংসদে যোগ দিয়েছেন তারা।

একপর্যায়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, শপথের বিষয়টি জোটকে না জানাতে পারায় তার দল দুঃখিত। কারণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শপথের সিদ্ধান্ত এমন সময় দিয়েছেন, যখন ২০ দলের বৈঠক ডেকে তা সবাইকে বোঝানো সম্ভব ছিল না। এখন তারা নিয়মিত বৈঠক করবেন। জোট নেতাদের কাছে তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের দাবি থাকলে আমাদের জানাবেন। আমরা বৈঠক করে সকল সমস্যার সমাধান করব। সামনে বড় আন্দোলন করতে হবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

বৈঠকে জোটের এক নেতা ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের ২০ দল ছাড়ার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বিএনপি তাকে ‘অতিগুরুত্ব’ দিয়েছে। তাকে এমন মর্যাদা দেওয়া হয়েছে যা সে পাওয়ার যোগ্য ছিল না।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথাটিও তুলে জোটের শীর্ষ নেতাদের একজন। এ বিষয়টি বিএনপিকে উপলব্ধি করার পরমার্শ দেন ওই নেতা।
পরে সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, জোট ভাঙবে না; বরং পরিসর আরও বাড়বে।

বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের জোট ত্যাগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, তার মান-অভিমান থাকতেই পারে। তবে আশা করি ভুলত্রুটি সংশোধন হয়ে সেটি ঠিক হয়ে যাবে। পার্থ ২০ দলে ফিরে আসবে।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের জোট ছাড়ার হুমকির বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, ডা. ইরান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমাদের বলেছেন, এ ধরনের কথা বলেননি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, এনডিপির সভাপতি কারি আবু তাহের, বাংলাদেশ ন্যাপ সভাপতি শাওন সাদেকী, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন, জাতীয় দলের সভাপতি এহসানুল হুদা, জাগপা মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শওকত আমিন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *