আহতদের দেখতে গিয়ে তোপের মুখে শোভন–রাব্বানী

বৈচিত্র ডেস্ক:  পদবঞ্চিতদের ওপর হামলার ঘটনার আহত ব্যক্তিদের দেখতে গতকাল সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। এ সময় উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। তোপের মুখে কেন্দ্রীয় এই দুই নেতা সেখান থেকে ফিরে যান।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের এক বছর পর গতকাল বিকেলে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।

পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদবঞ্চিতদের পেটান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। কমিটিতে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া ব্যক্তিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় নারী নেত্রীসহ ১০ থেকে ১২ জন আহত হন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলায় আহত ব্যক্তিদের দেখতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। এ সময় আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকা শতাধিক নেতা-কর্মী (পদবঞ্চিত) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বাধা দেন ৷ তাঁদের গ্রহণ করতে আপত্তি জানান। উদ্ভূত অবস্থায় উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন ৷

পদবঞ্চিতরা ‘মানবতার কথা বলে বোনদের ওপর হামলা কেন, বিচার চাই বিচার চাই’, ‘বিবাহিতরা কমিটিতে কেন, মানি না মানব না’, ‘রাজাকারপুত্র কমিটিতে কেন, মানি না মানব না’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি বলে স্লোগান দেন ৷

অন্যদিকে, শোভন ও রাব্বানীর সমর্থকেরা ‘বিদ্রোহীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ বলে পাল্টা স্লোগান দেন।

এ সময় রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক লিপি আক্তার শোভন-রাব্বানীর উদ্দেশে বলেন, ‘রাজাকার পুত্র, বিবাহিত, অছাত্রদের কেন কমিটিতে রেখেছেন? আমাদের মতো ত্যাগীদের কেন মূল্যায়ন করেননি?’

জবাবে রাব্বানী বলেন, ‘সামনে তোমাদের মূল্যায়ন করা হবে।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান শোভন-রাব্বানীর কাছে জানতে চান, ‘যাঁদের কমিটিতে রাখা হয়েছে, তাঁরা কোন বিবেচনায় তাঁদের (পদবঞ্চিত) চেয়ে যোগ্য?’

জবাবে শোভন বলেন, ‘সবকিছু বিবেচনা করা হবে।’

ছাত্রলীগের বিগত কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইফ বাবু শোভন-রাব্বানীর উদ্দেশে বলেন, ‘ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মারধর করে এখন আপনারা সিমপ্যাথি নেওয়ার জন্য এসেছেন। কোনোভাবেই এই নাটক করতে দেওয়া হবে না।’

পদবঞ্চিতদের একের পর এক প্রশ্নে তোপে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফটক থেকে ফিরে যান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ৷

গত বছরের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রায় আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরীকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য পদগুলো ছিল ফাঁকা। গতকাল বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের গত কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন পদে থাকা বেশ কয়েকজন এবার কমিটিতে জায়গা পাননি। আবার অনেকে পদ পেলেও তা তাঁদের মনঃপূত হয়নি।

পদবঞ্চিত নেতাদের ওপর ওই হামলা নিয়ে রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হয়। বিশেষ করে নারী নেত্রীদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করা নিয়ে নিন্দা জানান সংগঠনটির সাবেক নেতারা। কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামানের ছেলে আশিক খানের সহসম্পাদক পদপ্রাপ্তির বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *