ইফতারিতে স্বাস্থ্যসম্মত নয় বিরিয়ানি

বৈচিত্র ডেস্ক:  রমজান এলেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছু খাবারের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তার মধ্যে অন্যতম বিরিয়ানি। ইফতারিতে উন্নতমানের খাবার খতে হবে এমন ভাবনা থেকেই অনেকে বিরিয়ানিজাতীয় খাবার খান।

বিশেজ্ঞদের মতে, বিরিয়ানি বা এ-জাতীয় খাবার যেসব উপাদন এবং যে প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় সেটি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। কারণ মাংস, তেল বা তেল জাতীয় উপাদান এবং পর্যাপ্ত মসলা উচ্চ রক্তচাপ, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাসহ হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জানা যায়, সুস্বাদু ও মুখরোচক বিরিয়ানি এ দেশে এসেছিল নবাবদের হাত ধরে। সদরঘাটের নবাববাড়িতে লক্ষ্ণৌ থেকে বাবুর্চি আনা হয়েছিল বিরিয়ানি রান্নার জন্য। সেই বাবুর্চির হাত ধরেই বাংলাদেশে বেশ কয়েকজন বাবুর্চি বিরিয়ানি রান্না শুরু করেন। তাদের শিষ্যরাই ঢাকায় এখনো বাঁচিয়ে রেখেছেন শাহী বিরিয়ানি ঘরানাকে। তবে কমিউনিটি সেন্টারগুলোর সাশ্রয়ী খাবার বানানোর চাপে আসল শাহী বিরিয়ানি হারিয়ে যেতে বসেছে।

নানা ধরনের বিরিয়ানির স্বাদ পেতে হলে যেতে হবে পুরান ঢাকায়। এখানকার স্বনামধন্য বাবুর্চিরাই ঐতিহ্যবাহী বিরিয়ানির বনেদিয়ানাকে টিকিয়ে রেখেছেন। স্বনামধন্য বিরিয়ানি হাউজ যেমন রয়েছে, তেমনি ছোট ছোট বিরিয়ানির দোকানগুলোর রান্নাও বেশ সুস্বাদু। কাজী আলাউদ্দিন রোড, নাজিমুদ্দিন রোড, উর্দু রোড, বংশাল, সিদ্দিকবাজার, চকবাজার, রায়সাহেব বাজার, নবাবপুর, কোতোয়ালি, ইসলামপুর, ওয়ারী, মালিটোলা ও মৌলভীবাজার এলাকায় বিরিয়ানির দোকানগুলো গড়ে উঠেছে।

ভালো মান ও স্বাদের জন্য ফখরুদ্দিন বাবুর্চির সুনাম রয়েছে। ফখরুদ্দিন বাবুর্চির বিরিয়ানি অবশ্য দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপ, আমেরিকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ধানমণ্ডির পিন্টু বাবুর্চিরও রয়েছে সুনাম। পাশাপাশি স্টার কাবাবের কম দামে ভালোমানের বিরিয়ানি বেশ জনপ্রিয় ভোজনরসিকদের কাছে।

এছাড়াও কাজী আলাউদ্দিন রোডের হাজির বিরিয়ানি, হানিফ বিরিয়ানি, মৌলভীবাজার রোডের নান্না মিয়ার বিরিয়ানি, উর্দু রোডের রয়েল বিরিয়ানি, নর্থ-সাউথ রোডের আল রাজ্জাক, কোতোয়ালির কাশ্মীর বিরিয়ানি হাউস, লালবাগের রয়েল, বিক্রমপুর কাচ্চি বিরিয়ানি, সুরিটোলার রহিম বিরিয়ানি, নাজিমুদ্দিন রোডের মামুন বিরিয়ানি ঢাকায় বিখ্যাত।

কালামস কিচেন, ক্যাফে ইউসুফ, ইসলামিয়া রেস্তোরাঁ, আল-ইসলাম রেস্টুরেন্ট, ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, বাবুর্চিখানা ও কড়াই- গোস্ত’র বিরিয়ানির কদরও কম নয়। এর বাইরে ঢাকার সব জায়গাতেই কম বেশি বিরিয়ানি বিক্রি হয়। এসব দোকান ও হোটেলে হাফ প্লেট পরিমাণ কাচ্চি ও চিকেন বিরিয়ানি ৯০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। ফুল প্লেটের দাম ১৬০ থেকে ৩৮০ টাকা পর্যন্ত।

বিরিয়ানি ইফতারিতে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত জানতে চাইলে, এমএইচ শমরিতা হাসপাতালের কনসালটেন্ট নিউট্রিশনিস্ট খানম উম্মেদ নাহার হুমায়রা যুগান্তরকে বলেন, ইফতারিতে বিরিয়ানি মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। প্রথমত, এটি ভারি খাবার। সারা দিন পানাহার থেকে বিরত থাকার পর এ ধরনের ভারি খাবার খেলে হজমে সমস্যা সৃষ্টি করবে। এ থেকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া পর্যাপ্ত তেল বা ঘি ব্যবহার করা হয় বিরিয়ানি রান্নায়। যা শরীরে খারাপ কোলস্টেরল তৈরি করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোকের মতো শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাই ইফতারিতে বিরিয়ানি না খাওয়াই উত্তম।

তিনি বলেন, এবারের রোজায় আমাদের প্রায় ১৪-১৫ ঘণ্টা পানাহার থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে। ফলে আমাদের মাংসপেশি সংকুচিত হয়ে পড়ে। শরীরে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, জিঙ্ক ইত্যাদি খনিজের ঘাটতি দেখা দেয়। তাই ইফতারিতে এমন খাবার খাওয়া উচিত যা সহজে শরীর গ্রহণ করতে পারে। হুমায়রা বলেন, ইফতারিতে মৌসুমি ফল হিসেবে তরমুজ, আনারস খাওয়া যেতে পারে। এ ফলগুলোতে পর্যাপ্ত খনিজ রয়েছে। ভারি খাবারের মধ্যে দই-চিড়া, কলা-মুড়ি এবং ওটস আদর্শ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *