পাহাড়ে ফলছে রসাল চায়না থ্রি লিচু

বৈচিত্র ডেস্ক: হৃদয় জীবন চাকমা একসময় ধান চাষ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। এখন চায়না থ্রি লিচু চাষ করে তিনি স্বাবলম্বী। তাঁর বাগানের লিচু রসাল ও সুস্বাদু হওয়ায় বাগান থেকে পাইকারি দরে বিক্রি করছেন। চলতি মৌসুমে শুধু চায়না থ্রি লিচু বিক্রি করে দুই লাখ টাকা আয় করছেন। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ১০ নম্বর এলাকায় হৃদয় জীবনের বাড়ি। শুধু হৃদয় জীবন চাকমা নন, সাজেক ইউনিয়নে কয়েক শ বাগানি চায়না থ্রি লিচু চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন।

হৃদয় জীবন চাকমা বলেন, এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করে কৃষক বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে লেগে যান তিনি। কিন্তু ধান চাষ করেও পরিবারের অভাব যায়নি। ২০১৩ সালে উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে ১০ নম্বর এলাকায় চার একর জমিতে মিশ্র ফলদ বাগান করেন। বাগানে সাড়ে তিন শ চায়না থ্রি লিচু, ৫০টি আম্রপালি আম, ৪০টি করে লটকন, সফেদা, আমড়া ও বেলের চারা রোপণ করেছেন। এর মধ্যে গত বছর থেকে চায়না থ্রি লিচু ফল দেওয়া শুরু করে। প্রথম বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার লিচু বিক্রি হয়েছে। আর এ বছর এখন পর্যন্ত এক লাখ টাকার লিচু বিক্রি হয়েছে। বাগানে এখনো কমপক্ষে এক লাখ টাকার লিচু রয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফলন ভালো হওয়ায় চায়না থ্রি লিচু চাষে কৃষকেরা ঝুঁকছেন। রসাল এই লিচু ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে এখন আকারভেদে প্রতিটি লিচু দুই থেকে চার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবে চায়না টু প্রতিটি লিচু এক থেকে দেড় টাকা, বোম্বে প্রতিটি এক টাকা এবং দেশি লিচু এক শ ২০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ে দেশি, বোম্বে, চায়না টু ও চায়না থ্রি লিচু চাষ হয়। এর মধ্যে চাহিদা ও ফলন ভালো হওয়ায় চায়না থ্রি লিচুর চাষ বেশি করা হচ্ছে। এ বছর জেলায় ৪ হাজার ৫৭৫ একর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় লিচু চাষ হয়েছে ৬০০ একর জায়গায়। জেলায় চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ৫৫৫ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ফলন ভালো হওয়া লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় জানিয়েছে।

বনরূপা বাজারের পাইকারি লিচু ব্যবসায়ী মো. নুরুল ইসলাম ও বিপিন চন্দ্র প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রামের চায়না থ্রি লিচুর চাহিদা বেশি। একটি লিচু আকারভেদে তিন থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত করে বিক্রি করা যায়। দেশি, চায়না টু ও বোম্বে লিচু চাহিদা ও দাম কম। এখন আমরা চায়না থ্রি লিচু বেশি নিয়ে যাচ্ছি।’

বাঘাইছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভৃংক চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলা কয়েক শ লিচু বাগানি রয়েছেন। চাহিদা ও ফলন ভালো হওয়ায় চাষিরা এখন চায়না থ্রি লিচু চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পবন কুমার চাকমা বলেন, এ বছর লিচু ফলন ভালো হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। পাহাড়ে কয়েক জাতের লিচু চাষ হলেও বাজারে চায়না থ্রি লিচুর কদর বেশি। এখানে আবহাওয়া চায়না থ্রি লিচুর জন্য উপযোগী। তাই মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা চায়না থ্রি লিচু চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *