‘ফকির’ থেকে আমির!

ক্রীড়া ডেস্ক:   ভাগ্য বদল করতে কতক্ষণ লাগে? শুরুতে যার দলেই জায়গা হয়নি, সেই কিনা এখন ত্রাতার ভূমিকায়! ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ভারতের টপ অর্ডারে ধস নামানো মোহাম্মদ আমিরের সেই স্পেলের কথা মনে আছে? মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতীয়দের কোমর ভেঙে দিয়েছিলেন একাই, পাকিস্তান সেবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জিতেছিল প্রথমবারের মতো। কিন্তু ওই ম্যাচের পর থেকে আমির প্রায় ‘ফকির’—উইকেটখরার জন্য—বনে গিয়েছিলেন! শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে আমির ফিরলেন আমিরের মতোই। ৩ ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়া পাকিস্তানি পেসার এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।

মাঝের এ সময়ে আমির যে খুব খারাপ বোলিং করেছিলেন তা নয়। এ সময়ে তার ইকোনমি রেট ছিল ৪.৫৮। কিন্তু আমিরকে যে লোকে শুধু কিপটে বোলিংয়ের জন্য চায় না, তার কাছে দলের মূল চাওয়া হচ্ছে উইকেট, সেখানেই হালে পানি পাচ্ছিলেন না। বিশ্বকাপে তার প্রথম ম্যাচের আগে ১৪টি ওয়ানডেতে উইকেটসংখ্যা ছিল ৫। আমিরের মতো বোলার, যাঁর কিনা নিয়মিতই উইকেট পাওয়ার কথা, দলের বোলিং বহরকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা, তার এমন উইকেটখরা মনে ধরেনি নির্বাচকদের। তাই শুরুতে জায়গা পাননি বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলেই।

তবুও সাবেকদের চাওয়া ছিল, আমিরকে বিশ্বকাপে দরকার। দলের পেস অ্যাটাকের নেতৃত্ব কে দেবেন, সে প্রশ্ন থেকেই আমিরকে দলে চাচ্ছিলেন সাবেকরা। আর ইংলিশ কন্ডিশনে আমিরের কার্যকারিতা নিয়েও বিশ্বাস ছিল তাঁদের। শেষে সবদিক বিবেচনা করে পাকিস্তানের নির্বাচকেরা জুনায়েদ খানের কপাল পুড়িয়ে আমিরকে দলে নিলেন। তা নিয়ে টুইটারে জুনায়েদ খানের অভিনব প্রতিবাদ আমিরের ওপর কিছুটা চাপও তৈরি করেছিল বৈকি!

সব চাপকে পেছনে ঠেলে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই পেয়ে যান ৩ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে দাঁড়াতে না পারলেও আমির কিন্তু নজর কেড়েছিলেন তাঁর নিয়ন্ত্রিত লেংথ এবং ভয় ধরানো গতি দিয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে যা কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল, তার পুরোটাই আমিরের সুবাদে। কিন্তু সমালোচকেরা পিছু ছাড়লেন কোথায়! পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক তাঁর গতি নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি। আমিরের গতি এবং সুইংয়ের স্বল্পতা মনে ধরেনি মিসবাহর।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য জয়ের দিনে আমির কিছুটা খরুচে বোলিং করেছেন। ওভারপ্রতি গড়ে ৬.৭ রান করে দিলেও বাটলার আর আর্চারের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দুটি নিয়ে পুষিয়ে দেন। আর কাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করলেন একদিনের ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং! ১০ ওভারে ৫ উইকেট তুলে নিলেন মাত্র ৩০ রান খরচায়। গত চার বছরের মধ্যে ম্যাচে বোলিংয়ের কোটা পূর্ণ করা কোনো পাকিস্তান পেসারের এটিই সেরা বোলিং পরিসংখ্যান। পুরো ১০ ওভার বোলিং করেও আমির মাত্র একটি বাউন্ডারি হজম করেছেন। অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে তিনটি ওভার করে ১১ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নেন। তিন শ পেরোলেও তাই আমিরের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সুবাদেই সংগ্রহটাকে বেশি উঁচুতে নিয়ে যেতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম পাঁচ উইকেট পাওয়ার দিনে বিশ্বকাপের উইকেট সংগ্রাহকদের তালিকারও শীর্ষে উঠে আসলেন আমির। মাত্র ৩ ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়া আমিরে ভর করে বিশ্বকাপে কত দূর যেতে পারে পাকিস্তান, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *