রিকশা চলবে বাইলেনে মূল সড়কে নয়

 বৈচিত্র ডেস্ক:   ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকায় মূল সড়কে নয়, বাইলেনে রিকশা চলবে। বুধবার দুপুরে রিকশাচালক ও মালিকদের একাংশের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় মালিক ও শ্রমিকরা তাদের দাবি-দাওয়া ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধনে বলা হয়, ঢাকার যানজট নিরসনে রিকশা উচ্ছেদ নয় বরং প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল আরও বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মূল সড়কে কোনো রিকশা চলাচল করতে পারবে না। তবে নন-মেকানিক্যাল ট্রান্সপোর্ট (এনএমটি) বা বাইলেনে রিকশা চলবে। নগরীতে কোনো অবৈধ রিকশা চলতে দেয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে শহর থেকে সব অবৈধ রিকশা অপসারণ করা হবে। তিনি বলেন, অবৈধ রিকশা শনাক্ত করতে বৈধ রিকশাগুলোতে কিউআর কোড বসানো হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র আতিকুল বলেন, একটি রিকশা কুড়িল থেকে রামপুরা যেতে চাইলে বাইলেন দিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া কুড়িল বিশ্ব রোডের শেষ প্রান্তে রিকশা ইউটার্ন নিতে পারবে। পাশাপাশি রামপুরা ব্রিজ ব্যবহার করতে পারবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবৈধ রিকশা ও গ্যারেজ শনাক্ত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বৈধ রিকশাগুলোকে কিউআর কোড করে দেয়া হবে।

এটার যেন নকল না হতে পারে সেজন্য সর্বোচ্চ উন্নত প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিবিদদের কাজে লাগানো হবে। চালকদের ডাটাবেজ করা হবে। এতে বোঝা যাবে কোন রিকশা কোন কোম্পানি চালাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে রিকশাচালকদের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এদিকে রাজধানীতে রিকশাচালক ও মালিকরা বুধবার বিক্ষোভ করেনি।

রিকশা উচ্ছেদ নয় : জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রিকশা উচ্ছেদ নয়, বরং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এবং কয়েকটি অনলাইনভিত্তিক সংস্থা আলাদাভাবে এ মানববন্ধন করে। অনুষ্ঠানে রিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহাদাত খান, সংগঠনটির নেতা শওকত হোসেন ও আবু হানিফ বক্তব্য দেন।

সরকারের উদ্দেশে তারা বলেন, ঢাকার যানজটের জন্য রিকশার চেয়ে প্রাইভেটকার বেশি দায়ী। তাই গরিবের পেটে লাথি মেরে রিকশা উচ্ছেদ করবেন না। প্রয়োজনে রিকশার জন্য আলাদা লেন করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে তারা বক্তব্য দেন। এনজিও সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলেন, জ্বালানিমুক্ত নির্ভরযোগ্য বাহন হল রিকশা। এখানে অধিক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়।

কিন্তু সরকার রিকশা বন্ধ করে বিশাল শ্রেণির মানুষকে বিপদে ফেলতে যাচ্ছে। বিপরীতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তারা বলেন, কোনো কোনো পরিবারের চার থেকে পাঁচটি গাড়ি রয়েছে। এগুলোর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হলেই যানজট কমবে। তারা আরও বলেন, সরকার একদিকে দারিদ্র্য বিমোচনের কথা বলছে, অপরদিকে রিকশার মতো বাহন নিষিদ্ধ করছে। এটি সরকারের মতাদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ অবস্থা চলতে থাকলে রিকশাচালকদের পথে বসতে হবে, যা বিভিন্ন সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে। এ অবস্থায় রিকশা চালু করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তারা।

ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি সোমবার থেকে রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়। অপরদিকে পুনরায় রিকশা চলাচলের সুযোগ দেয়ার দাবিতে রিকশা শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *