বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পেলেন যে নারী

বৈচিত্র ডেস্ক: দৈনিক ইত্তেফাকে বীরাঙ্গনা জয়ন্তীবালাকে নিয়ে ২০১৬ সালের ৯ জানুয়ারি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল “বীরাঙ্গনা জয়ন্তী মুক্তিযুদ্ধে স্বামী ও ভাইকে হারিয়ে নিঃস্ব”। দৈনিক ইত্তেফাকে নিউজ প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে। বহু যাচাই বাছাই শেষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৬২তম সভায় ৪৬জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্প্রতি তাদের স্বীকৃতি দিয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে। স্বীকৃতি পাওয়া ৪৬জনের মধ্যে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বীরাঙ্গনা জয়ন্তীবালা দেবীর নামও রয়েছে। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পেয়ে খুশিতে গুমরে কেঁদে উঠলেন বীরাঙ্গনা জয়ন্তী।

মঙ্গলবার সকালে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পাওয়া জয়ন্তীবালা দেবীর বাড়িতে গেলে খুশিতে ঝাপটে ধরেন দৈনিক ইত্তেফাকের এ প্রতিবেদককে। হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন তিনি। ভাইয়ের সংসারে ৪৮ বছর ধরে বিধবা হিসাবে বসবাস করছেন জয়ন্তী বালা দেবী।

পেছনের গল্প: জয়ন্তীবালা দেবীর পাশের উপজেলা ভালুকার গোয়ারী গ্রামের উনেস চন্দ্র দেবনাথের ছেলে নিতাই চন্দ্র দেবনাথের সাথে ১৯৬৬ সালে বিয়ে হয়। বিয়ের ৪ বছরের মাথায় ১৯৭১ সালের গোয়ালিয়াবাজুর এলাকায় যুদ্ধে তার স্বামী নিতাই চন্দ্র শহীদ হন। পরে জয়ন্তী বালা দেবীকে আছিম রাজাকার ক্যাম্পে দুমাস আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন করা হয়। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদজায়া জয়ন্তীবালাকে সমবেদনা জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। সে সময় তাকে দেয়া হয়েছিল ২ হাজার টাকাও। ঐ চিঠিটা আঁকড়ে ধরে ছিলেন ৪৮ বছর। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি।

উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবি সিদ্দিক জানান, জয়ন্তী বালা দেবী একজন বীরাঙ্গনা। যুদ্ধে তার স্বামীও শহীদ হয়েছেন। নিজের ভাই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের বেয়নটের আঘাতে নিহত হয়েছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লীরা তরফদার জানান, জয়ন্তীবালা দেবীর বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পত্রিকায় দেখেছেন হয়ত দু-এক দিনের মধ্যে চিঠি আমরা পেয়ে যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *