আমনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠার চেষ্টায় বগুড়ার চাষীরা

বৈচিত্র ডেস্ক : এবারের বন্যার ধংসস্তুপ থেকে উঠে দাঁড়াতে ৬ টি উপজেলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। কৃষকদের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও চারা বিতরন শুরু করছে।
তবে বেশির ভাগ কৃষক ক্ষতি পোষানের জন্য আর্থিক অনুদানের দিকে না তাকিয়ে নিজের সামর্থ নিয়ে নেমে পড়েছেন। সারিয়াকান্দির কৃষক সবের আলী জানান, বন্যা তাদের এখানে প্রতিবছর আঘাত হানে। কিন্তু তারপরও তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে জীবনযুদ্ধে জয়লাভ করেছেন।
এবছর বন্যায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমির রোপনকৃত আমন ধান ও বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ১১ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে বন্যা কবলিত অঞ্চলের প্রায় ১১ হাজার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের মধ্যে যে পরিমান আমান চারা সরবারাহ করা হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
জেলার ৬ টি উপজেলা সারিয়াকান্দি, শেরপুর, সোনাতলা, শাজাহানপুর , গাবতলী ও ধুনট বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। বগুড়ার ৬ টি উপজেলায় এবারের বন্যায় রোপনকৃত ১ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমির আমন ধান নষ্ট হয়েছে। এতে ২ হাজার ৯৫৫ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বীজ তলা নষ্ট হয়েছে ২৩৫৭ হেক্টর জমির। আমন ধানের বীজতলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৭ হাজার ৮৭০ জন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, এবার জেলায় ১ লাখ ৭৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল।
বন্যার ফসলের ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে বিএডিসি আমন বীজতলায় চারা রোপন শুরু করে। সেই চারা কৃষি বিভাগ কৃষকদের মধ্যে বিতরন শুরু করছে। আমন ধান ও চারা নষ্ট হওয়ার জন্য কৃষি বিভাগ ৬ হাজার কৃষকের মধ্যে চারা বিতরন করবে। যাদের রোপনকৃত ধানের ক্ষতি হয়েছে তাদের নতুন করে চারা সংগ্রহ করতে হবে।
যে সকল কৃষকের রোপনকৃত ধানের যে ক্ষতি হয়েছে তারা অগ্রাধিকার পাবে কি না এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান বিষয়টি দেখবে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা। ক্ষতিগ্রস্ত ৬ হাজার কৃষকের মধ্যে আমন চারা ভর্তুকি হিসেবো বিতরন করা হবে।
জেলার সোনাতলা উপজেলার কৃষক বদিউল আমল জানান তারা কৃষি বিভাগের অনুুদানের বীজের জন্য অপেক্ষা না করে বিভিন্ন জায়গা থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ শুরু করেছেন। জেলার পশ্চিমাঞ্চলে উপজেরা গুলোতে এবার বন্যার ছোঁয়া লাগেনি। ঐ সব অঞ্চল থেকে আমান চারা সংগ্রহ করে রোপন কাজ শুরু করেছেন।
জেলায় এ বছর ১ লাখ ৭৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল। যা থেকে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল। বন্যায় আমনের ক্ষতি হলেও বন্যা পরবর্তীতে কৃষক যে ভাবে আমন চাষ করেছে তাতে লক্ষ্যমাত্রা পুরণের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জেলা কৃষিসম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক।
তিনি বলেন, এখনও আমন রোপনের সময় আছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আমন রোপন করা যাবে। এতে আমন লক্ষ্যমাত্রা পুরণ করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *