আজ শকুন সচেতনতা দিবস

বৈচিত্র ডেস্ক :  লোকে বলে, শকুনের দোয়ায় গরু মরে না। তবে গরুর মাংস খেয়েই পৃথিবী থেকে বিদায়ের পথে শকুনের বংশ। একসময় স্পষ্ট বোঝা গেল যে, গরুর দেহে প্রয়োগ করা ওষুধের কারণেই প্রকৃতির এই ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মী’ মারা পড়ছে। ততক্ষণে শকুনের সংখ্যা এতই নিচে নেমে গেছে যে, গোটা বিশ্ব উঠেপড়ে লাগার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

তিন দশক আগে দেশের আকাশে ১০ লাখ শকুন উড়তো। এরপর কমতে কমতে এখন মাত্র ২৬০ এ নেমে এসেছে। মূলত ১৯৯০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যেই ৯৯ শতাংশ শকুন হারিয়ে গেছে। বাংলাদেশে এখন মাত্র ৬জাতের শকুনের দেখা মেলে।

গত কয়েক বছরের ঘটনাপ্রবাহ লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দেশের নানা প্রান্তে হঠাৎ করে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে বিরল প্রজাতির বিশালাকার একটি পাখি। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাকে বেঁধে রাখে। অনেকেই জানে না তার পরিচয়। বৃত্তান্ত জানতে ছবি তুলে ছড়িয়ে দেয় ফেসবুকে। পরে কোনো এক বিশেষজ্ঞ বুঝতে পারেন যে, এটি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হওয়ার পর্যায়ে থাকা পরিযায়ী পাখি শকুন। বন বিভাগের লোকজন উদ্ধার অভিযানে নামার আগেই উড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে আহত পাখিটি।

শকুনের অবিশ্বাস্য গতিতে হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রথম নজরে আসে ১৯৯২ সালে। শুরু হয় কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা। দ্রুত বিলুপ্তির রহস্য উন্মোচনে লেগে যায় ১১ বছর। গবাদি পশুর শরীরে তখন ডাইক্লোফেনাক ওষুধ প্রয়োগ করা হতো। মৃত গরুর মাংসই শকুনের প্রধান খাদ্য। তাই এ ধরনের পশু মারা গেলে সেটিই হয়ে উঠতো শকুনের বংশ নির্মূলের প্রধান নিয়ামক।

শকুন বিলুপ্তির পেছনে রাসায়নিক বিক্রিয়াই একমাত্র কারণ নয়। কীটনাশক ও সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পানিদূষণ, খাদ্যসংকট, কবিরাজি ওষুধ তৈরিতে শকুনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবহার, ইউরিক অ্যাসিডের প্রভাবে বিভিন্ন রোগ ও বাসস্থানের অভাবকেও দায়ী করছে আইইউসিএন।

বন অধিদপ্তর জানায়, ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর শকুনের জন্য দুটি নিরাপদ এলাকা ঘোষণা করে সরকার। এর আয়তন ৪৭ হাজার ৩৮০ বর্গকিলোমিটার। সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়ির মোট ১৯ হাজার ৬৬৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার সমন্বয়ে গঠিত এক নম্বর নিরাপদ জোন। দ্বিতীয় জোনের আয়তন ২৭ হাজার ৭১৭ বর্গকিলোমিটার। এটি গঠিত হয় ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, মাদারীপুর, যশোর, গোপালগঞ্জ (টুঙ্গিপাড়া ব্যতীত), নড়াইল, শরীয়তপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর (ভাণ্ডারিয়া ব্যতীত) ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও বরগুনার সমন্বয়ে। এগুলোর মধ্যে লাউয়াছড়া, সাতছড়ি, খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, মাধবকুণ্ড, টিলাগড়, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক এবং কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, সুন্দরবন (পূর্ব-পশ্চিম-দক্ষিণ), সোনারচর, টেংরাগিরি, চাঁদপাই, দুখমুখী, ঢাংমারী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে শকুনের জন্য সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *