ধর্মভিত্তিক ভূরাজনীতির ইন্ধনে রোহিঙ্গারা বেপরোয়া

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) একেএম শামসুদ্দিন : রোহিঙ্গাদের কারণে আমাদের অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, সামাজিক এবং নিরাপত্তার দিক দিয়ে নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। যখন ধর্মভিত্তিক জাতিগত নিধনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে পৃথক করা হয় তখন ধর্মকে পুঁজি করে যারা রাজনীতি করে, তারা এই সুযোগটা গ্রহণ করে সহিংসতা সৃষ্টি করে বলে মনে করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) একেএম শামসুদ্দিন।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের দিকে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের উপরে চড়াও হয়। তখন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কিছু সংগঠন রোহিঙ্গাদের অর্থ সহায়তা দিয়ে, অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এতে করে রোহিঙ্গাদের মধ্যে একাধিক অস্ত্রধারী সংগঠনের জন্ম হয়। কিন্তু এবার যখন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসে তখন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ধর্মীয় সংগঠন বা ভ‚রাজনৈতিক কারণে কোনো দেশ এদের ইন্ধন দিচ্ছে কিনা সেটা দেখা উচিত ছিলো। যদিও উপর উপরে মনে হয়েছে এরা বেশি সক্রিয় না, কিন্তু এটা ভেবে বসে থাকলে হবে না। যেহেতু রোহিঙ্গাদের হাতে অস্ত্র আছে, তারা সংগঠিত হচ্ছে, স্থানীয় মানুষদের ডমিনেট করছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে এতোবড় মহাসমাবেশ করছে এবং সেটা খুবই সংগঠিত হয়ে। সুতরাং এখন ভাবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে আন্তর্জাতিক কোনো গোষ্ঠী, ধর্মভিত্তিক কোনো সংগঠন বা দেশ এদের ইন্ধন যোগাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চীন রাখাইন রাজ্যে (ইপিজেড) করে বড় পরিসরে বিনিয়োগ করেছে এবং সেখানে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে। সুতরাং রাখাইন রাজ্য চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ভ‚রাজনৈতিক কারণে এই ইস্যুতে আমেরিকারও যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। আমেরিকা যে এখানে কোনো স্পন্সর করছে না, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যু এখন খুবই জটিল আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশের প্রশাসন এবং কূটনীতিকদের খুঁজে বের করতে হবে রোহিঙ্গাদের পেছনে আন্তর্জাতিক কোন শক্তি ইন্ধন দিচ্ছে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি এবং তথ্য সংগ্রহ আরও বাড়াতে হবে, যাতে বড় ধরনের কোনো সহিংসতা এড়ানো যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *