টাঙ্গাইলে ২ শতাধিক একর জমিতে দেশিবিদেশি ফলের চাষ

বৈচিত্র ডেস্ক : বাণিজ্যিকভাবে ভিনদেশি ড্রাগন ফল, মালটা ও কমলার চাষ শুরু করেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় চাষিরা। টাঙ্গাইল ঘাটাইলের পাহাড়ি এলাকায় দুই শতাধিক একর জমিতে শুরু হয়েছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। ড্রাগন ফল এতদিন ভিনদেশি ফল হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে সেটা দেশেই ব্যাপকভাবে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে মালটা, কমলা, আনারস, বেগুন, কাকরল, এ্যালোবেরা, এ্যাবুকেট ও কাজুবাদামসহ বেশ কয়েকটি মিশ্র প্রজাতির ফসল চাষ হচ্ছে এসব বাগানে।

ওই পাহাড়ি অঞ্চলে গড়ে উঠা বাগান ঘুরে ও কথা বলে জানা যায়, রসুলপুর ইউনিয়নের ৫০ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে ৩টি ড্রাগন ফলের ও ১টি মালটাসহ কমলা, এ্যালোবেরা, এ্যাবুকেট, আনারস ও বেগুনসহ মিশ্র ফলের বাগান। সাবেক একজনসেনা কর্মকর্তাসহ ১০জন এই প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন।

ওই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত এমন একজন বলেন, ৫০ একর জমির ওপর করা ৪টি বাগানে চারা রোপণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বড় পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। আমরা ৫ থেকে ৬’শ একর জমি লিজ নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ মিশ্র প্রজাতি ও ওষধি ফলের বাগান গড়ার কাজ হাতে নিয়েছি।
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিভাগে মাস্টার ডিগ্রি অর্জনের পর ঘাটাইল চাম্বলতলা গ্রামের গৃহবধু সুলতানা সিদ্দিকা (তন্বী) বিদেশি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার চাকরি ছেড়ে স্বামীর সহায়তায় ড্রাগনের চাষাবাদ শুরু করেন। আরেক ড্রাগন ফল চাষি কামরুজ্জামান মিন্টু জানান, ২০১৫ সালে ১৬জন মিলে ৪ একর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। এর দুবছর পর ২০১৭ সাল থেকে তাদের বাগানে ফল আসতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। এই ফল চাষ করার জন্য জৈব সারই যথেষ্ট। অন্য কোনো সার বা কীটনাশক প্রয়োজন হয় না। বাগান থেকে এপর্যন্ত প্রায় ১৫-১৭ লাখ টাকার ফল বিক্রি করা হয়েছে।

ঘাটাইল এস ই পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষি বিষয়ক শিক্ষক শামছুল আলম রসুলপুর ইউনিয়নের চাপড়ী গ্রামে ৭ একর জমিতে দেশি-বিদেশি প্রায় ৭৮ প্রজাতির ফলজ গাছ লাগিয়েছেন। তার বাগানের প্রধান ২টি ফল মালটা এবং লটকন সম্পূর্ণ কেমিক্যাল মুক্ত। এ দুই রকম ফল বিক্রি করে তিনি এবছর প্রায় ২৯ লাখ টাকা আয় করেছেন।

বিভিন্ন রকম ফলের চাষের বিষয়ে একটি বাগানের তত্ত্বাবধায়ক মো. মফিজ উদ্দিন বলেন, ড্রাগন ফলটি আমেরিকা, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় বেশি জনপ্রিয়। দেশে কয়েক বছর ধরে এ ফলের চাষাবাদ শুরু হয়েছে৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে তা খাওয়ার উপযোগী হয়। সঠিক পরিচর্যা করলে ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। প্রতি কেজি ফল সাড়ে৩’শ থেকে ৪’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *