নারীর ক্ষমতায়নে সংলাপ: বিশেষায়িত, সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিষেবা বাড়ানো জরুরি

বৈচিত্র ডেস্ক : টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন করতে হলে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। জনবল সংকট ও নানা ধরনের সামাজিক প্রতিকূলতার কারণে দেশের উপকূলীয়, দুর্যোগপ্রবণ এবং সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় বসবাসরত নারীরা সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নারী এবং শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর সরকারি উদ্যোগ (যেমন : ১০৯ হটলাইন) সম্পর্কে সন্দ্বীপের মতো দ্বীপাঞ্চলে বসবাসরত অধিকাংশ নারী অবগত নন। এ ক্ষেত্রে সরকারি সেবা সম্পর্কে প্রচারণা বৃদ্ধি করা জরুরি। দুর্যোগপ্রবণ ও পিছিয়ে পড়া এমন জনপদে নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণে বিশেষায়িত ও সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিষেবা চালু করা এবং চলমান পরিষেবাসমূহের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ‘জেন্ডার সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন সরকারি পরিষেবার ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এ তথ্য তুলে ধরেন। ‘গণতান্ত্রিক সুশাসনে জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ’ শীর্ষক এক চলমান প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অক্সফামের যৌথ উদ্যোগে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় এবং সোসাইটি ফর ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভস (এসডিআই)-এর সহযোগিতায় সংলাপটি আয়োজিত হয়।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। প্রবন্ধে এসডিজি এবং বিভিন্ন জাতীয় নীতিমালার আলোকে জেন্ডার সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নে চট্টগ্রামের একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হয়। এ ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ও পরিবেশগত কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ ও দূরবর্তী দ্বীপাঞ্চলে বসবাসরত নারীদের দুর্দশার চিত্র উঠে আসে। শুধু দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে এসব অঞ্চলে গর্ভবতী মা ও শিশুরা নানা রকম স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন।

আরও বলেন, শিক্ষা বা কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, এ রকম প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা পরিষেবামুখী সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার ফলে সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছেন। সংলাপের আলোচকবৃন্দ এ বিষয়গুলোর প্রতি আলোকপাত করে বিভিন্ন করণীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করেন।

সংলাপে বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত তার বক্তব্যে বলেন, ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ রোধ করে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাবে। বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীসহ সব অধিবাসীর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়ার লক্ষ্যে যথাযথ কৌশল প্রণয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

স্বাগত বক্তব্য দেন এসডিআই-এর নির্বাহী পরিচালক সামছুল হক এবং সূচনা বক্তব্য দেন অক্সফাম ইন বাংলাদেশ-এর এসএম মনজুর রশীদ। সংলাপের সারসংক্ষেপ তুলে ধরতে গিয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, দুস্থ ও অসহায় নারীদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে।

সংলাপের সভাপতি সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের যেসব সূচকে চট্টগ্রামের অবস্থান তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানকে জনপ্রতিনিধি ও জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট করতে হবে।

সংলাপে অতিথি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, আলোচক ইলমার চট্টগ্রামের প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু ও চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনাল মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *