সব দায় শোভন-রাব্বানী কেন নেবেন

মোস্তফা ফিরোজ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বে শোভন-রাব্বানী ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ থেকে ছিটকে পড়লেন। নিকট অতীতে দেখা গেছে এর চেয়েও বড় অ্যাকশন নেয়া হয়েছিলো ছাত্রদলের সভাপতি নাসিরউদ্দিন পিন্টুর বিরুদ্ধে। তিনি এমপি হয়েও জেলে ঢুকেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় থেকে যখন পিন্টুর মতো ক্ষমতাধর এক নেতাকে জেলে ঢুকিয়েছিলো তখনো কিন্তু চারিদিকে বাহ্ বাহ্ ধ্বনি উঠেছিলো। কিন্তু তাতে কি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকার সুশাসন নিশ্চিত করতে পেরেছিলো? হাওয়া ভবনকে ঘিরে দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ কি উচ্চারিত হয়নি? এবারো যদি কেউ মনে করেন, শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে অ্যাকশান নেয়া মানে দুর্নীতির আরও অজস্র অভিযোগ থেকে লুটেরা গোষ্ঠী দায়মুক্ত হলো, সেটা ভাবা যুক্তিসঙ্গত হবে না।

আজ শোভন-রাব্বানীর এই পরিণতি দল ও রাজনীতির জন্য ভালো কোনো বার্তা নয়। কেউ খুশি হতে পারেন, এটা ভেবে যে সরকারের গায়ে কালি পড়লো। কিন্তু আমি বলবো এটা করও জন্যই ভালো হয়নি। শোভন-রাব্বানী আজ যে কারণে অপসারিত সেই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা কমিশনের টাকা ভাগবাটোয়ারায় ক্ষমতার সুবিধাভোগী আর কি কেউ নেই? কেবল জাহাঙ্গীরনগরেই এমনটা হয়েছে। জনগণের অর্থে পরিচালিত অসংখ্য সংস্থা তাহলে কি কাজ করছে। বালিশ কা-, পর্দা কা-, বই কা-র মতো ঘটনাগুলো কেন ঘটে চলেছে একের পর এক? এসব নিয়ে মিডিয়াগুলো রিপোর্ট করলেই হৈ চৈ হয়। কিন্তু চোখের আড়ালে অসংখ্য ঘটনা যে ঘটে চলেছে সে বিষয়ে কেন দায়িত্বশীল মহল নিজ থেকে প্রতিরোধ প্রতিবাদ করছে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা মনে হয় যেন একান্ত পারিবারিক কোনো বিরোধ বলেই সরকারের শীর্ষ মহল বিরক্ত হয়ে অ্যাকশনে গেছে।
সত্যি যদি ঘুষ দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, কমিশন এসব ফৌজদারি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তাহলে এই বিষয়ে শুরু থেকে ধারাবাহিক কার্যক্রম হাতে নেয়া দরকার ছিলো। কিন্তু শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে এমন এক সময়ে ব্যবস্থা নেয়া হলো যখন দুর্নীতি রীতিমতো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। ফলে এই ছাত্রনেতারাও তাদের পূর্বসূরিদের পথ ধরে হয়তো কমিটি বাণিজ্য, চাঁদা ও কমিশন বাণিজ্যের ভেতরে জড়িয়ে গেছে। তারা হয়তো ভেবেছে সবাই যখন করছে, আমরা করবো না কেন? ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ করে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাবে না। এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জোরদার করতে হবে। দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে। জনগণের আমানত রক্ষার দায়িত্ব যে সরকারের উপরে থাকে তাকে এই বিষয়ে অনেক নিষ্ঠুর ও কঠিন হতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *